ঢাকা, রবিবার, ৪ আশ্বিন ১৪২৭, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ সফর ১৪৪২

আগরতলা

ত্রিপুরায় ভারতের ৭৪তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২৫৮ ঘণ্টা, আগস্ট ১৫, ২০২০
ত্রিপুরায় ভারতের ৭৪তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।

আগরতলা (ত্রিপুরা): ত্রিপুরাসহ ভারতজুড়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে ৭৪তম স্বাধীনতা দিবস।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ত্রিপুরা রাজ্যের আয়োজনটি প্রতি বছরের মতো এ বছরও রাজধানী আগরতলার আসাম রাইফেল ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এরপর তিনি হুডখোলা গাড়িতে করে ময়দানে ত্রিপুরা পুলিশসহ অন্য আধা সামরিক বাহিনীর প্লাটুনের সামনে দিয়ে মাঠ পরিদর্শন করেন।

এদিন অনুষ্ঠানে প্যারেডে অংশ নিয়েছে মোট ১০টি প্লাটুন। এর মধ্যে ছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ, আসাম রাইফেল, সিআরপিএফ, টিএসআরের দু’টি প্লাটুন, ত্রিপুরা পুলিশের প্লাটুন, ট্রাফিক পুলিশ এবং গৃহরক্ষী বাহিনীর প্লাটুন। এছাড়াও বিএসএফ এবং ত্রিপুরা পুলিশের একটি করে ব্যান্ড প্লাটুন অংশ নিয়েছে।

মাঠ পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী কাজের গুণগত মান বিচার করে ত্রিপুরা পুলিশের বিভিন্ন কর্মীদের সম্মাননা দেন।

এরপর রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সরকার সাধারণ মানুষের জন্য নানা জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিশ্রুত খাবার পানি, বিদ্যুৎ, গণবণ্টন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি এবং কৃষকদের উন্নয়ন, যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান এবং সর্বোপরি রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। ’

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগে ত্রিপুরা রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে একটিমাত্র জাতীয় সড়ক ছিল। বর্তমানে দেশের অন্য রাজ্যের সঙ্গে একাধিক জাতীয় সড়কের মাধ্যমে ত্রিপুরা যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ত্রিপুরার রেলসেবার উন্নতি হয়েছে। রাজধানী এক্সপ্রেসসহ একাধিক দ্রুতগামী ট্রেনের মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। নৌপথে বাংলাদেশের সঙ্গে ত্রিপুরার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের জন্য গোমতী নদী দিয়ে মাঝারি আকারের জাহাজ চলাচল শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ের মহড়া অনুষ্ঠিত হবে কিছুদিনের মধ্যেই। ইতোমধ্যে ভারতের অন্য রাজ্য থেকে সমুদ্রপথে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে আগরতলা শহরসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন শহরের মধ্যে পণ্য আমদান-রপ্তানির জন্য প্রটোকল রুট চালু হয়েছে। আগামী দিনে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ত্রিপুরার সাবরুম হয়ে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর জন্য সাবরুম এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফেনী নদীর ওপর মৈত্রী সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। সেতুটির কাজ এ বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হবে। এছাড়া আগরতলা থেকে বাংলাদেশের আখাউড়া পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন লাইন নির্মাণের কাজ চলছে। সব মিলিয়ে ভারতের বর্তমান সরকার এবং ত্রিপুরা রাজ্য সরকার দেশ ও ত্রিপুরাবাসীর উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ’

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ত্রিপুরা সরকার কৃষকদের আর্থিক অবস্থা উন্নত করার জন্য নানা প্রকল্প নিয়েছে। সরকারি খরচে কৃষকদের ফসল বিমা করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, বিশ্বজুড়ে এখন অর্গানিক ফসলের চাহিদা খুব বেশি, তাই সরকার অর্গানিক ফসল চাষে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। ’

এদিন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিধানসভার স্পিকার রেবতী মোহন দাস, সংসদ সদস্য প্রতিমা ভৌমিকসহ অন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

করোনা ভাইরাসের কারণে এদিন প্রতিবারের মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি। রাজ্যের অন্য জায়গায়ও যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১২৫৮ ঘণ্টা, আগস্ট ১৫, ২০২০
এসসিএন/এফএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa