php glass

সপ্তদশ শতকের বিস্ময় ‘অযোধ্যা মঠ’

মানসুরা চামেলী, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

অযোধ্যা মঠ। ছবি: আসিফ আজিজ-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

বাগেরহাট থেকে: শরীরজুড়ে দীর্ঘ যাত্রাপথের ক্লান্তি। ক্লান্তিকে উপেক্ষা করে বাগেরহাট জেলার পুরাকীর্তি ও ঐতিহাসিক স্থপনা দেখার আকাঙ্ক্ষায় সকালেই যাত্রা শুরু হয় ফকিরহাট উপজেলার উদ্দেশে।

সবুজ গাছ-গাছালি বেষ্টিত মসৃণ সড়ক হয়ে টাউন নয়াপাড়া মোড়ের কাছাকাছি যেতেই যাত্রা সঙ্গী হিসেবে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা ফটিক জানান, আশ-পাশে পুরাকীর্তির অংশ হিসেবে একটি জোড়া শিবমন্দিরের অস্তিত্বের কথা।
জোড়া শিবমন্দির। ছবি: আসিফ আজিজ
ফকিরহাট থেকে তিন কিলোমিটার পর নয়াপাড়া মোড়। এখন থেকে এক কিলোমিটার যেতেই পিলজংগ ইউনিয়ন। মন্দিরটি খুঁজতে ইউনিয়নের উত্তর দিকের রাস্তায় গাড়ি থামলো। পুরো ইউনিয়ন গাছ-পালায় ভরপুর।

সারি সারি নারকেল, সুপারি ও খেজুর গাছবেষ্টিত সরু গলি দিয়ে কয়েক কদম হাঁটার পরেই চোখে পড়ে একটি জরাজীর্ণ মন্দিরের। এর গায়ে জন্মেছে অসংখ্য আগাছা-পরগাছা। দালানের গঠন ও ইটের গাঁথুনি দেখেই বোঝা যায়, বেশ পুরোনো মন্দির এটি।
জোড়া শিবমন্দির। ছবি: আসিফ আজিজ
পোড়ামাটির তৈরি শিব মন্দিরটির মাঝখান দিয়ে যাতায়াত পথ। দু’পাশে দুইটা কাটরা। তাতে বসানো রয়েছে মাটির তৈরি দু’টি শিবলিঙ্গ। ২০০০ সালের আগেও এই মন্দিরে কষ্টি পাথরের তৈরি শিবলিঙ্গ ছিলো। কিন্তু খোয়া যাওয়ার কারণে বসাতে হয় এই মাটির শিবলিঙ্গ। প্রতিবছর মাঘ মাসে শিবলিঙ্গের মাথায় পানি ঢেলে পূজো করা হয় জরাজীর্ণ এই মন্দিরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, ষোড়শ শতকে তৎকালীন স্থানীয় হিন্দু জমিদার বীরু ভষচার্য মন্দিরটি নির্মাণ করেন।

প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী, মন্দিরে এক সময় জমাজমাট শিব পূজ‍া ও নরবলির উৎসব হতো। সময়ের পরিক্রমায় স্থানীয় হিন্দুদের হাতে মন্দির ও এর জমি চলে আসে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই হিন্দু পরিবার ভারতে চলে যাওয়ার সময় স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাবতীয় সম্পত্তি দান করে যান। এরপর বহুদিন পরিত্যক্ত থাকে মন্দিরটি। পরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে বছরে একবার শিবপূজ‍ার আয়োজন হয়।
জোড়া শিবমন্দির
পিলজংগ ইউনিয়নের শিবমন্দির থেকে বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী চিংড়ি আড়ৎ, জমিদারবাড়িসহ আরও কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা হয়। দিনের আলো থাকায় সিদ্ধান্ত হয়, বাগেরহাটের যাত্রাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত পুরাকীর্তি অযোধ্যা মঠ ঘুরে আসার। ফলতিতা বাজার থেকে এর দূরত্ব ১০ কিলোমিটার। এরই মধ্যে সারাদিনের যাত্রায় সহযাত্রীরা অনেকটা ক্লান্ত।

যাত্রাটা আরও ক্লান্তির হলো পুরাকীর্তিটা ঠিক কোন জায়গাটায় তা খুঁজতে খুঁজতে। তারপরও গাড়ি চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভরসায় সদর থেকে যাত্রা শুরু। একজন পথচারী জানান, যাত্রাপুর বাজার থেকে মঠ যেতে রাস্তা খারাপ হওয়ায় ২০ মিনিট লাগবে।
অযোধ্যা মঠ।
যাত্রাপুর বাজার পার হওয়ার পর শুরু হয় সড়কে ভোগান্তি। তিন কি.মি. রাস্তার পুরোটাই ভাঙ্গাচোরা। দু’টি ব্রিজ পার হয়ে অবশেষে অযোধ্যা মঠ পৌঁছাই। পথের ভোগান্তিতে ততক্ষণে সবাই খানিকটা বিরক্ত।

তবে গাড়ি থামিয়ে মঠের দিকে দৃষ্টি যেতেই সবার চোখ বিস্ময়ে জ্বলজ্বল করে ওঠে। সবাই অযোধ্যা মঠের কারুকাজ সমৃদ্ধ অলকংরণ দেখে নানা উপমা দিতে ব্যস্ত। পুরো দিনের ক্লান্তি নিমিষেই উধাও।

তবে গেটে তালা ঝুলতে দেখে ফের হতাশ হতে হলো। কারণ, অযোধ্যা মঠের গেট পাঁচটার মধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। আর তখন বাজে সাড়ে ৫টা। স্থানীয় এক বাসিন্দার কাছে, মঠের দায়িত্বপ্রাপ্ত কারো খোঁজ চাইলে এগিয়ে আসেন শামসুল আলম। তিনি এই পুরাকীর্তি সাইটের পারিচালক। প্রথমে গেট বন্ধ বলে যাওয়া যাবে বলে সাফ জানিয়ে  দেন, পরে  ঢাকা থেকে এসেছি এবং গাড়ি নষ্ট হওয়ায় দেরি হয়েছে জানালে গেট খুলে দেন তিনি।

লোহা ও ইটের তৈরি দেয়ালে ঘেরা অযোধ্যা মঠের সামনের প্রাঙ্গণটা দর্শনার্থীদের জন্য নানা ধরনের ফুল গাছ, ঘাসে সজ্জিত করা হয়েছে। বর্গাকৃতির এই মঠে প্রবেশের তিনটি পথের তিনটিই বন্ধ থাকায়, দক্ষিণ দিকের প্রবেশ পথ ব্যবহার করতে হয়। ১৮ দশমিক ২৯ মিটার উচ্চতার এই কারুকাজ খচিত এই পুরাকীর্তি প্রথম দেখাতে যে কারো নজর কাড়বে। পুরোপুরি পোড়া মাটির দিয়ে নির্মিত মঠটির দেয়ালে ফুল, লতা-পাতার টেরাকাটা নকশা করা।

এর আসল নাম কোদলা মঠ হলেও অযোধ্যা নামক গ্রামে অবস্থিত বলে এটি অযোধ্যা মঠ নামে পরিচিতি পায়। মঠের ভেতরটা ফাঁকা। ফাঁকা স্থান থেকে ওপরে তাকালে ১০-১২ ফুটের মতো গম্বুজ চোখে পড়বে। চারপাশে মোমবাতি জ্বালানোর জন্য ছোটবড় মিলে দেয়ালে লাগানো পাঁচটি কাটরা। ভেতরে দেয়ালজুড়ে ফুল দিয়ে নকশা করা।
অযোধ্যা মঠ
অযোধ্যা মঠের গেটের সামনে টানানো সাইনবোর্ডে লেখা, “মঠের ভগ্নপ্রায় লিপির তথ্য মতে, জৈনিক ব্রাহ্মণ ব্রহ্ম তারকের অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য অযোধ্যা মঠ নির্মাণ করেছিলেন। এতে উল্লেখ করা জনশ্রুতি অনুসারে, যশোর রাজা প্রতাপাদিত্য তার সভাসদ গৃহের পণ্ডিত অবিলম্বা সরস্বতীর স্মৃতিতে মঠটি নির্মাণ করেন।”

শামসুল আলম জানান, এই পুরাকীর্তি দেখতে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আসেন। তবে বাগেরহাট থেকে এই মঠে যাওয়ার নির্দেশিকা সংশ্লিষ্ট সড়কে দিয়ে রাখলে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হলে এখানে দর্শনার্থীদের সমাগম আরও বাড়বে বলে আশা করছেন।

** ‘এখানে বড়-ছোট নাই, যাই করেন দশ টাকা’!
** বিমানবন্দর রেলস্টেশনে অকেজো মাইক!

বাংলাদেশ সময়: ১০৫২ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৬
এমসি/এইচ/এটিসহযোগিতায়

সৌমনা দাশগুপ্ত'র একগুচ্ছ কবিতা
ধামরাইয়ে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
সরকার আবার আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছে: রিজভী
জনসনের জয়ে ট্রাম্পের নজর বাণিজ্যে!
একাত্তরে চট্টগ্রামজুড়ে গণহত্যা


ইয়োগা অনুশীলনের আগের সতর্কতা
চলে গেলেন অভিনেতা-চিত্রনাট্যকার গোলাপুডি মারুতি রাও
পাটকল শ্রমিকের জানাজা সম্পন্ন, উত্তপ্ত খুলনার শিল্পাঞ্চল
আসামির সেলফিকাণ্ড, ঘটনা তদন্তে ডিবি
৪০ বছরের অভিজ্ঞতায় এত ভয়াবহ বার্ন দেখিনি: সামন্ত লাল