নারীদের ঘরোয়া ক্রিকেট আরও শক্তিশালী করতে হবে: জাহানারা

রিফাত আনজুম, স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

জাহানারা আলম/ফাইল ছবি

walton

ঢাকা: ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাঠে গড়াবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এ উপলক্ষে আগামী ২৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ ক্যাম্প। এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। কারণ এবারের আয়োজক দেশ অস্ট্রেলিয়া। আর গ্রুপ পর্বেই স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে।

বিশ্বকাপের মতো বড় আসরকে সামনে রেখে বরাবরই ভালো প্রস্তুতি নিলেও সেটা আর ধরে রাখতে পারে না নারী ক্রিকেট দল। কিন্তু এবার প্রস্তুতিতে কোনো রকম ঘাটতি রাখতে চায় না বাংলাদেশের মেয়েরা।

বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ক্রিকেটার জাহানারা আলম। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে কেন এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে হয় কিংবা দল কোন জায়গাতে পিছিয়ে আছে আর এবার সমস্যা উত্তরণের কী পথ বেছে নেওয়া হয়েছে সেসব নিয়ে বাংলানিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন এই পেসার ।

জাহানারা মনে করেন, বাংলাদেশ নারী দলের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বড় বাধা কন্ডিশন। অস্ট্রেলিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ডের মতো কন্ডিশনে অনুশীলন করার মতো পরিবেশ বাংলাদেশে নাই। এমনকি এবারে বিশ্বকাপেই অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো খেলবে বাংলাদেশ। তাই বলার অপেক্ষা রাখে না যে কঠিন একটা সময় অপেক্ষা করছে তাদের জন্য।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে জাহানারা বলেন, ‘অবশ্যই এবারের বিশ্বকাপের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে যেতে হবে। কারণ এবার কিন্তু অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হতে হবে যাদের সঙ্গে আমরা কখনো খেলিনি। অথচ আমরা এই নিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছি। কিন্তু ওদের সঙ্গে কখনো খেলিনি এমন কি অনুশীলন ম্যাচও না। সেই দিক দিয়ে চিন্তা করলে সম্পূর্ণ অপরিচিত প্রতিপক্ষ পাচ্ছি আমরা। তাই খুব ভালোভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’

গেল বিশ্বকাপ আসরের বাছাই পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূল পর্বে খেলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মূল আসরে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি, বিশেষ করে ব্যাটসম্যানরা একদমই ভালো করতে পারেনি।

ব্যাটসম্যানরা কোন জায়গায় পিছিয়ে আছে বা তাদের ঘাটতিটা কোন জায়গায় এ নিয়ে জাহানারা বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে যতটুকু জানি ওদের উইকেট বাউন্সি অার বলে সুইং করে। সব মিলিয়ে ভালো একটা প্রস্তুতি নিতে হবে আমাদের। আমাদের ব্যাটসম্যানরা বরাবরই সুইংয়ে  দুর্বল। যেটা বাতাসে সুইং হয়ে বেরিয়ে যায় বা বেশি টার্ন করে এমন বলগুলো আমরা খেলতে পারি না। কারণ দেশে এই রকম উইকেট নাই বা ওদের মতো বোলার নেই যে আমরা খেলে খেলে অভ্যস্ত হবো। তাই মুশকিল হয়ে যায় প্রস্তুতি নেয়াটা।’

ধারাবাহিকতার জায়গাতেও বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে বলে মনে করেন জাহানারা, ‘ব্যাটিংটা ভালো হলে আরও ভালো ফল হতো। সর্বশেষ বিশ্বকাপেও কিন্তু বোলাররা ভালো বল করেছে কিন্তু ব্যাটসম্যানরা ধারাবাহিক ছিলেন না। আমরা মনে হয়, দলে কয়েকজন ধারাবাহিক পারফর্মার দরকার, যারা দলের জন্য খেলে যাবে। আমরা মনে হয় এই জায়গাতে আমরা পিছিয়ে আছি।’
 
বাংলাদেশের নারীদের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ম্যাচ হয় না। যে কারণে প্রস্তুতিতে ঘাটতি থেকে যায় অনেক। চলতি বছর নারীদের ঘরোয়া লিগও হয়নি। জাহানারার মতে, ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলাদেশের নারী ‍ক্রিকেট অনেকটাই পিছিয়ে আছে। সেটা থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে ভালো কিছু সম্ভব হবে না।
 
ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে জাহানারা বলেন, ‘আমরা ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক অনেক পিছিয়ে আছি। ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো শক্তিশালী না করলে তো তৃণমূল থেকে কোনো ক্রিকেটার আসবে না। আর তৃণমূল থেকে ক্রিকেটার না পেলে একই ক্রিকেটার দিয়ে বারবার ক্যাম্প করাতে হয়। তাহলে সামনের দিকে এগোবে কেমন করে? পাইপলাইনে ক্রিকেটার থাকলে একসময় সাফল্য আসবেই। আমাদের বছরে দুইটা ঘরোয়া লিগ হয়। এ বছর একটাও হয়নি। বেশি বেশি ম্যাচ না খেললে তো ভালো করা যাবে না।’
 
তবে সব চিন্তা পেছনে ফেলে এখন বাংলাদেশের সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জ। সেখানে ভালো করাটা বেশি জরুরি জাহানারাদের জন্য। আপাতত দলের লক্ষ্য থাকবে পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে যেন বাছাই পর্ব খেলতে না হয়। সেটা অর্জন করতে হলেও বড় কঠিন সময় পার করতে হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯
আরএআর/এমএইচএম

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: ক্রিকেট
করোনা লক্ষণযুক্ত ব্যক্তির ফোন নম্বর ৩৩৩-এ এসএমএস করুন
যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়ালো
শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাব খোলার শেষ সময় ২০ এপ্রিল
সিলেটে আইসোলেশনে বৃদ্ধার মৃত্যু
সংগীতজ্ঞ রবিশঙ্করের জন্ম
ইতিহাসের এই দিনে

সংগীতজ্ঞ রবিশঙ্করের জন্ম



করোনা চিকিৎসায় চীনের সাফল্য তুলে ধরলো হুয়াওয়ে
চট্টগ্রামে ৭টার পর থেকে বন্ধ দোকান, প্রবেশ মুখে চেকপোস্ট
মঙ্গলবার থেকে পটুয়াখালী শহরের প্রবেশ বন্ধ
সন্ধ্যা ৬টার পর রাজশাহীতে ওষুধ ছাড়া সব দোকান বন্ধ
১৬ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের অনুরোধ