গর্বের উপলক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে মাশরাফি

মহিবুর রহমান, স্পেশাল করেসপনডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

মাশরাফি বিন মর্তুজা। ছবি: শোয়েব মিথুন/বাংলানিউজ

সিলেট থেকে: সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে টস করতে নামলেই বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে ম্যাচে (৭০) নেতৃত্ব দেওয়ার গর্বিত মাইলফলকটি ছুঁয়ে ফেলবেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। যার মধ্য দিয়ে তিনি ছাড়িয়ে যাবেন সাবেক সতীর্থ ও লাল সবুজের সাবেক দলপতি হাবিবুল বাশার সুমনকে (৬৯)।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের সমর্থকরা জানেন, ২০১৪ সালটি বাংলাদেশের জন্য ঘোর অমানিশায় ডুবে ছিলো। কোনো আলোর দেখাই মিলছিলো না। প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় পাওয়া যেন সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বছরের প্রথম ১৩টি ওয়ানডেতে একটিতেও জয়ের দেখা মেলেনি। হেভিওয়েট পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর হেরে যায় ওই সময়ের ‘পুঁচকে’ আফগানদের কাছেও।

হারের সেই ধারা কাটিয়ে উঠতে সে সময়ের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে সরিয়ে তৃতীয়বারের মতো অধিনায়কত্ব দেয়া হয় মাশরাফিকে। তার নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তণে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ওই বছরের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার নেতৃত্বে কাটে সেই অমানিশা। 

ছবি: শোয়েব মিথুন/বাংলানিউজ

এরপর ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ঘরের মাঠে প্রবল শক্তিধর ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে এশিয়ার ক্রিকেটের পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের জানান দেয় লালসবুজের দল। যে তকমা আজও অব্যাহত আছে।
 
এভাবে কেটে গেছে ৪টি বছর। দীর্ঘ্য এই সময়ে মাশরাফির নেতৃত্বে রচিত হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের দিনবদলের গর্বিত গাঁথা।  তাতে নিঃসন্দেহে গর্বিত বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে পেরে গর্বিত তিনি এবং তার পরিবারও।
 
‘বাংলাদেশ দলের হয়ে দীর্ঘসময় অধিনায়কত্ব করতে পেরেছি। এটি আমার এবং আমার পরিবারের জন্য খুব গর্বের। কাল যদি মাঠে নামতে পারি, ওয়ানডে সংস্করণে সবথেকে বেশি ম্যাচ অধিনায়কত্ব করার সুযোগ হবে। অবশ্যই এটা দারুণ অনুভূতি। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বাংলাদেশ দলের ১১ জন বা ১৫ জনের একজন হয়ে থাকা। বাংলাদেশ দলের একজন সদস্য হয়ে থাকাও কিন্তু বিরাট গর্বের ব্যাপার।’

ছবি: শোয়েব মিথুন/বাংলানিউজ

মাইলফলকের ম্যাচের আগে মাশরাফি ফিরে যান অতীতে। বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) সিলেট স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে বসে শোনালেন পুনরোথ্থানের গল্প। বলেন, ‘২০১৪ সালে আবার যখন অধিনায়কত্ব পাই, তখন কোনো আশা নিয়ে শুরু করিনি। তার আগেও দুবার অধিনায়কত্ব পেয়েছি। শুরুতে এক-দুই-তিন বা চার-পাঁচ ম্যাচ পর ইনজুরিতে পড়ে গিয়েছি। ইনজুরিতে পড়ে টিম থেকে বাদ হয়েছি। দীর্ঘদিন বাইরে ছিলাম। পরেরবার আবার একই পরিস্থিতি। অধিনায়কত্ব আমার ইস্যুতে ছিল না। আমার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাংলাদেশের হয়ে ক্রিকেট খেলা, তবে প্রথমবার(২০০৯ সাল) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যখন অধিনায়কত্ব পাই, তখন অনেক আশা ছিল।’

‘টেস্ট ক্রিকেটে তখন পুরোপুরি ছন্দে ছিলাম। ২০০৮ সালে টেস্টে খুব ভালো ফর্মেও ছিলাম। তখন অনেক আশা ছিল। ২০১৪ সালে যখন আবার দায়িত্ব পাই, তখন নিজেকে নিয়ে ভবিষ্যত চিন্তা করা বা খেলোয়াড় হিসেবে নিজে কোনো কিছু সেট করতাম না। চলতে থাকুক যতদিন চলতে থাকে। এভাবেই চিন্তা করেছি। এভাবে করতে করতে প্রায় চার বছর হতে যাচ্ছে। পরেরবার (২০১৪) যখন অধিনায়কত্ব পেয়েছিলাম, তারপর থেকে অনেককিছু আমি ভাবিনি।’

বাংলাদেশ সময়: ২০৫২ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮ 
এইচএল/এমকেএম

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: ক্রিকেট মাশরাফি বিন মর্তুজা
মেসির হ্যাটট্রিকে বার্সার জয়
ডিজিটাল কেওয়াইসি চালু করলো নগদ
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দুই ডাকটিকিট
চকবাজারে ফের আগুন আতঙ্ক, ছোটাছুটিতে আহত ৭
চকবাজার ট্র্যাজেডি: কারণ অনুসন্ধানে আইইবি’র কমিটি


‘সংস্কৃতিচর্চা জাতিকে অশুভ শক্তি থেকে বিরত রাখে’ 
শেষ ছুটির দিনে প্রাণবন্ত বইমেলা
উত্তরায় বাসের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্বাস, সম্পাদক ফরিদ
‘ঢাকাকে সুন্দর-আধুনিক শহরে পরিণত করবো’