php glass

বিশ্বকাপের হ্যাট্রিক ম্যানিয়া

1813 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
ফুটবলের বড় মহারণ হিসেবে খ্যাত বিশ্বকাপ ফুটবল। ১৯৩০ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ১৯টি বিশ্বকাপে মোট ৪৮টি হ্যাট্রিক হয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে চারজন খেলোয়াড় ২টি করে হ্যাটট্রিক করে সর্বোচ্চ হ্যাট্রিকধারীর আসনে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। এরা হলেন- বাতিস্তুতা, ককসিস, ফন্টেইন এবং মুলার।

ফুটবলের বড় মহারণ হিসেবে খ্যাত বিশ্বকাপ ফুটবল। ১৯৩০ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ১৯টি বিশ্বকাপে মোট ৪৮টি হ্যাট্রিক হয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে চারজন খেলোয়াড় ২টি করে হ্যাটট্রিক করে সর্বোচ্চ হ্যাট্রিকধারীর আসনে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। এরা হলেন- বাতিস্তুতা, ককসিস, ফন্টেইন এবং মুলার।

বিশ্বকাপে আরো হ্যাট্রিকের ইতিহাস নিয়ে এ আয়োজন।

হ্যাট্রিক ম্যানিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের বার্ট পেটুনুয়েড প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেন। হাঙ্গেরি দলের সানডর ককসিস ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে ২টি, ফ্রান্স দলের জাস্ট ফন্টেইন ১৯৫৮ সালে ২টি, পশ্চিম জার্মানির জার্ড মুলার ১৯৭০ সালে ২টি এবং আর্জেন্টিনার বাতিগোল খ্যাত গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালে ২টি হ্যাটট্রিক করেছেন।

বাতিস্তুতাই একমাত্র খেলোয়াড় যে দুই বিশ্বকাপে হ্যাট্রিক করেছেন। তার আরো একটি অনন্য রেকর্ড রয়েছে, তার দুটি হ্যাট্রিকই দুই বিশ্বকাপের ২১ জুন তারিখে হয়েছে (গ্রিস ও জ্যামাইকার বিরুদ্ধে)। তার দুটি হ্যাট্রিকের ৩য় গোল দুটি পেনাল্টি থেকে এসেছে।

রাশিয়ার ওলেগ সালেনকো বিশ্বকাপ ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি ১৯৯৪ সালে ক্যামেরুনের সঙ্গে এক ম্যাচে ৫ গোল করেছেন। ১৯৩০ সালে জীবনের প্রথম আর্ন্তজাতিক ম্যাচে আর্জেন্টিনার গুইলারমো স্টাবিল ম্যাক্সিকোর বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেছেন। ১৯৩৮ সালে পোল্যান্ডের আরনেস্ট উইলিমুউস্কি এক ম্যাচে ৪ গোল করার পরও তার দল ব্রাজিলের কাছে ৫-৬ গোলে হেরেছে। দু’জন খেলোয়াড় রয়েছেন যারা হ্যাট্রিক করার পরও তাদের দল হেরেছে।



১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ডের জোসেফ হিউজি হ্যাট্রিক করার পরও তার দল অস্ট্রিয়ার কাছে ৫-৭ গোলে হেরেছে এবং ১৯৮৬ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের আইগোর বেলানোভ হ্যাট্রিক করার পরও তার দল বেলজিয়ামের কাছে ৩-৪ গোলে হেরেছে।

এক ম্যাচে ২টি হ্যাট্রিকের ঘটনা ঘটেছে ৩ বার। ১৯৩৮ সালে সুইডেন-কিউবা ম্যাচে সুইডেনের গুস্তাভ ওয়েটারস্ট্রম এবং হ্যারি অ্যান্ডারসন হ্যাটট্রিক করেন। একই বিশ্বকাপে ব্রাজিল-পোল্যান্ড ম্যাচে ব্রাজিলের পক্ষে লিওনিডাস ও পোল্যান্ডের পক্ষে উইলিমোউসকি হ্যাট্রিক করেন। ৩য় ঘটনাটি ঘটে ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে। অস্ট্রিয়া-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে থিওডর ওয়াগনার অস্ট্রিয়ার পক্ষে এবং জোসেফ হিউগি সুইজারল্যান্ডের পক্ষে হ্যাট্রিক করেন।

ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট একমাত্র খেলোয়াড় যিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাট্রিক করেছেন ১৯৬৬ সালে পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে। এটাই এখন পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হ্যাট্রিক। প্রথম গোলটি হয়েছিল ১০ মিনিটে, ২য়টি অতিরিক্ত সময়ের ৯৮ মিনিটে এবং হ্যাট্রিক গোলটি হয় ১২০ মিনিটে।
 
খেলার শুরুতে সবচেয়ে দ্রুততম হ্যাট্রিক সম্পন্ন করেছেন অস্ট্রিয়ার এরিখ প্রোবস্ট চোকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে। তিনি প্রথম গোল করেন ৪ মিনিটে, পরেরটি ২১ ও শেষটি ২৪ মিনিটে হ্যাট্রিক পূর্ণ করেন।

খেলার শেষ মুহূর্তে দ্রুততম হ্যাট্রিকটি করেছেন হাঙ্গেরির লাজিও কিস ১৯৮২ সালে এল সালভাদরের বিরুদ্ধে। তিনি ৬৯, ৭২ ও ৭৬ মিনিটে গোল তিনটি করেন। তার প্রথম ও শেষ গোলের মধ্যে তফাৎ ছিল ৭ মিনিট। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে একমাত্র তিনিই হ্যাট্রিক করেছেন।

দু’জন খেলোয়াড় তাদের হ্যাট্রিক করেছেন সবগুলো গোল হেড দিয়ে। ১৯৯০ সালে চোকোস্লোভাকিয়ার থমাস স্কুরাভি কোস্টারিকার বিপক্ষে এবং ২০০২ সালে পশ্চিম জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা সৌদি আরবের বিপক্ষে। সবচেয়ে কম বয়সে হ্যাট্রিক করেছেন ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পেলে ফ্রান্সের বিপক্ষে। ওই সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর ২৪৪ দিন।

১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ
এ বিশ্বকাপে মোট ৩টি হ্যাট্রিক হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বার্ট পেটুনুয়েড প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে প্রথম হ্যাট্রিক করেন। আর্জেন্টিনার গুইলারমো স্টাবিল মেক্সিকোর বিরুদ্ধে এবং উরুগুয়ের পেদ্রো সিয়ে যুগোস্লোভিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাট্রিক করেন ।

১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপ
এ বিশ্বকাপে মোট ৩টি হ্যাট্রিক হয়েছে।  ইতালির এনজেলো শিয়াভিও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, জার্মানির অ্যাডমুন্ড কোনেন বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে এবং চোকোস্লোভাকিয়ার অল্ডরিচ নেজেডলি জার্মানির বিরুদ্ধে হ্যাট্রিক করেছেন।

১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপ
এ বিশ্বকাপে মোট ৪টি হ্যাটট্রিক হয়েছে। পোল্যান্ডের আরনেস্ট উইলিমুউস্কি ব্রাজিলের বিপক্ষে, ব্রাজিলের লিওনিডাস দ্য সিলভা পোল্যান্ডের বিপক্ষে, সুইডেনের গুস্তাভ ওয়েটারস্ট্রম কিউবার বিপক্ষে এবং সুইডেনের হ্যারি অ্যান্ডারসন কিউবার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন।

১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ
এ বিশ্বকাপে ২টি হ্যাট্রিক হয়েছে। উরুগুয়ের ওসকার মিগুয়েজ বলিভিয়ার বিপক্ষে এবং ব্রাজিলের এডেমির সুইডেনের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেছেন।

১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপ
এ বিশ্বকাপে ৮টি হ্যাট্রিক হয়েছে। হাঙ্গেরির স্যান্ডর ককসিস দক্ষিণ কোরিয়া ও পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে ২টি হ্যাটট্রিক করেছেন। এছাড়া অস্ট্রিয়ার এরিখ প্রোবস্ট চোকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে, উরুগুয়ের কার্লোস বোর্গেস  স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে, তুর্কির বোরহান সারগিন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে, পশ্চিম জার্মানির ম্যাক্স মরলোক তুর্কির বিপক্ষে, অস্ট্রিয়ার থিওডর ওয়েগনার সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে এবং সুইজারল্যান্ডের জোসেফ হিউজি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন।
 
১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপের এ আসরে ৩টি হ্যাটট্রিক হয়েছে। এ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন প্যারাগুয়ে ও পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ২টি এবং ব্রাজিলের কালো মানিক পেলে ফ্রান্সের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেছেন।

১৯৬২ সালের বিশ্বকাপ
এ বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির ফ্লোরেইন আলর্বাট বুলগেরিয়ার বিপক্ষে একমাত্র হ্যাট্রিকটি করেছেন।

১৯৬৬ বিশ্বকাপ
এই বিশ্বকাপে ২টি হ্যাট্রিক হয়েছে। পর্তুগালের ইউসেবিও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে এবং ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট  পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেছেন।

১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ
এই বিশ্বকাপে ২টি হ্যাট্রিকই করেছেন পশ্চিম জার্মানির জার্ড মুলার। তিনি বুলগেরিয়া ও পেরুর বিপক্ষে ২টি হ্যাট্রিক করেছেন।

১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ
এ বিশ্বকাপে ২টি হ্যাট্রিক হয়েছে। যুগোস্লোভিয়ার ডুসান বাজেভিচ জাইরির বিপক্ষে এবং পোল্যান্ডের এনড্রেজ জারমেখ হাইতির বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেছেন।

১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপের এ আসরে ২টি হ্যাট্রিক হয়েছে। নেদারল্যান্ডের রব রেনসেনব্রিন্ক ইরানের বিপক্ষে এবং পেরুর টিউফিলো কিউবিললাস ইরানের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেছেন।

১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ
এ বিশ্বকাপে ৪টি হ্যাট্রিক হয়েছে। হাঙ্গেরির লাজিও কিস সালভাদরের বিপক্ষে, পশ্চিম জার্মানির কার্ল হেইঞ্জ রুমেনিগে চিলির বিপক্ষে, পোল্যান্ডের জোবিগনিউ বোনিয়েক বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবং ইতালির পাওলো রসি ব্রাজিলের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেছেন।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপেও এ আসরেও ৪টি হ্যাটট্রিক হয়েছে। ডেনমার্কের প্রিবেন ইকজায়ের লারসেন উরুগুয়ের বিপক্ষে, ইংল্যান্ডের গ্যারি লিনেকার পোল্যান্ডের বিপক্ষে, সোভিয়েত ইউনিয়নের ইগোর বেলানোভ বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবং স্পেনের এমিলিও বুত্রাগুয়ে ডেনমার্কের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেছেন।
 
১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ
এই বিশ্বকাপে হ্যাট্রিক হয়েছে ২টি। স্পেনের মিচেল দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এবং চোকোস্লোভাকিয়ার থমাস স্কুরাভি কোস্টারিকার বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেছেন।

১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ
এ বিশ্বকাপে ২টি হ্যাট্রিক হয়েছে। আর্জেন্টিনার গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা গ্রিসের বিপক্ষে এবং রাশিয়ার ওলেগ সালেনকো ক্যামেরুনের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেছেন।
 
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ
এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা জ্যামাইকার বিপক্ষে একমাত্র হ্যাট্রিকটি করেছেন।

২০০২ সালের বিশ্বকাপ
এই বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির মিরোস্লোভ ক্লোসা সৌদি আরবের বিপক্ষে এবং পর্তুগালের পাউলেটা পোল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেছেন।
 
২০০৬ সালের বিশ্বকাপ
একমাত্র এ বিশ্বকাপে কোনো হ্যাট্রিক হয়নি।
 
২০১০ সালের বিশ্বকাপ
এ বিশ্বকাপের একমাত্র হ্যাটট্রিকটি করেছেন আর্জেন্টিনার গনজালো হিগুয়েন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৭ ঘণ্টা, জুন ২০, ২০১৪

বন্যায় ব্যাহত হবিগঞ্জের শিক্ষা কার্যক্রম
নালিতাবাড়ীতে ভোগাই নদীর বাঁধ ভেঙে সাত গ্রাম প্লাবিত
পঞ্চগড়ে টানা বর্ষণে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, জনজীবনে দুর্ভোগ
কখন আসবে খাবারের ট্রলার!
না’গঞ্জে ১৪ মামলার আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত


চাঁদে অবতরণের ৫০ বছর পূর্তিতে সভা ও পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প
মৌলভীবাজারে উদ্ধার বিপন্ন ‘সন্ধি কাছিম’
বালিশকাণ্ড: ৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার অনিয়মের তথ্য
বিয়ের ৭ দিনের মাথায় তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, ভগ্নিপতি আটক
‘ছুরি নিয়ে আসামি কীভাবে এজলাসে ঢোকে?’