ক্রিকেটের সঙ্গে আছেন, থাকবেন জাভেদ

39 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

জাভেদ ওমর বেলিম / ছবি: শোয়েব মিথুন, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ক্রিকেট যখন থেকে বিশ্বে পরিচিতি পেতে শুরু করল সেসময়ের সঙ্গী জাভেদ ওমর বেলিম, ডাকন‍াম গোল্লা। ব্যাটিং ক্রিজে অসীম ধৈর্য্যের প্রতিমূর্তি ছিলেন।

ঢাকা: বাংলাদেশ ক্রিকেট যখন থেকে বিশ্বে পরিচিতি পেতে শুরু করল সেসময়ের সঙ্গী জাভেদ ওমর বেলিম, ডাকন‍াম গোল্লা। ব্যাটিং ক্রিজে অসীম ধৈর্য্যের প্রতিমূর্তি ছিলেন। তার নাম শুনলেই ভেসে ওঠে একটি ঘটনা- ২০০১ সালে বিদেশের মাটিতে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাট হাতে একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন ডানহাতি। ওই টেস্টটি স্বাগতিকরা জিতলেও নতুন শতাব্দীর ধৈর্য্যশীল ওপেনারের খ্যাতি পেয়ে যান তিনি।

এরপর খেলে গেছেন ৪০ টেস্ট ও ৫৯টি ওয়ানডে। আতাহার আলীর বাংলাদেশ থেকে শুরু করে সাকিব আল হাসানদের দলেও নির্ভরযোগ্য ওপেনার ছিলেন জাভেদ। ২০০৭ সালে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন একটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে। তার বিদায়কে স্মরণীয় করতে বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএসজেএ) আয়োজন করেছিল ম্যাচটি। টিম বিএসজেএ‘র বিপক্ষে এই ম্যাচটি জিতেছে জাভেদের লিজেন্ডস অব বাংলাদেশ। জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে না হলেও দীর্ঘদিনের অকৃত্রিম বন্ধু ও সতীর্থদের মাঝে থেকে বিদায়টাও আপ্লুত করল তাকে। নতুন আরেকটি অধ্যায়ে এসে নিজের আবেগ-অনুভূতি ব্যক্ত করলেন বাংলানিউজ’র স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট সোহানুজ্জামান খান নয়নের কাছে-   
দীর্ঘ দিন ধরে দেশের হয়ে আর্ন্তজাতি ক্রিকেট খেলে এখন অবসর নিলেন, কেমন লাগছে?

জাভেদ ওমর: আসলে একটু মন খারাপ ছিল। চার-পাঁচ দিন যাবৎ এই বিষয়টা আমাকে খুবই ভাবিয়ে তুলেছিল। গত রাতে একদম ঘুম হয়নি। প্রিমিয়ার লিগ অথবা জাতীয় লিগের একটা ম্যাচ দিয়ে অবসর নিতে চেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম হয়তো প্রিমিয়ার ক্রিকেটের কোনো দলের হয়ে কোচ ও খেলোয়াড় হয়ে কয়েকটি ম্যাচ খেলে শেষ করব। কিন্তু লিগের অনিশ্চয়তার কারণে অবসরের সিদ্ধান্ত আগেই নিলাম। আমি না খেলি তবে মাঠে নিয়মিত যাব, জিম ট্রেনিং করব নিয়মিত। কোনো না কোনোভাবে আমি ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকব।

অবসর জীবনের প্রথম দিন, আরেকটি নতুন জীবনের শুরু হল। বিশেষ কোনো পরিবর্তন অনুভব করছেন?

জাভেদ ওমর:
আমি খেলা পাগল মানুষ। খুব বেশী পরিবর্তনের সুযোগ নেই। সবে শেষ করেছি। আজও সকালেই ঘুম থেকে উঠেছি। সবাই অনেক বেশী শুভকামনা জানিয়েছে। পরিবারের সবাইকে পাশে পেয়েছি। অনেকের ফোন কল, এসএমএস পেয়েছি। কিছু মানুষের শুভেচ্ছা-এসএমএস আমাকে খুবই অনুপ্রাণিত করেছে। সত্যি বলতে আমি সবাইকে পাশে পেয়ে গর্বিত।

অবসরের পর নিজেকে কী নিয়ে ব্যস্ত রাখতে যাচ্ছেন?

জাভেদ ওমর:
আমি ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকছি। নিজেকে ক্রিকেটের সাথে সংযুক্ত রাখব সব সময়। ক্রিকেট বোর্ড যদি আমাকে কোনো বিশেষ দায়িত্ব দেয় অথবা কোচিং করতে বলে বা কর্মকর্তার প্রস্তাব দেয় তবে যে কোনোভাবেই ক্রিকেট উন্নয়নের কাজ করতে প্রস্তুত। এছাড়াও আমার রেস্টুরেন্ট, পুমা এবং অন্যান্য বেশ কিছু ব্যবসা রয়েছে এই সব নিয়েই সময় কেটে যাবে।

একটু অন্য ভাবে, ঠিক মাঠ নয় আবার মাঠের সব সহযোদ্ধা এবং বিএসজেএর সকল সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজন ক্রিকেট ম্যাচের মধ্যে দিয়ে বিদায় বললেন ক্রিকেটকে, আসল ব্যাপারটা কী?

জাভেদ ওমর:
ডিসেম্বরের জাতীয় লিগের মধ্যদিয়ে অবসর নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জাতীয় লিগের সূচি পরিবর্তন হলো। এবারের প্রিমিয়ার লিগেও আমি খেলিনি। তাই ভাবলাম মাঠে ফেরা কঠিন হয়ে যাবে, জাতীয় লিগ শুরুর কোনো ঠিক ছিল না। সবকিছু মিলিয়ে একটা অনিশ্চয়তা কাজ করছিল। সুজন (খালেদ মাহমুদ) ভাইয়ের মাধ্যমে বিএসজেএর এই প্রস্তাব এল। তারা আমাকে সম্মান দিতে চাই। আমি ভেবে চিন্তে দেখলাম সাবেক সতীর্থদের সঙ্গে পাব। আমি চার প্রজন্মের সঙ্গে ক্রিকেট খেলেছি, সবাই থাকবে। আয়োজনটাও বেশ মনে ধরল। এক কথায় মাঠ ও মাঠের বাইরে পুরো ক্রিকেট অঙ্গনই- অপি বলেন, ফারক আহম্মেদ, হাবিবুল বাশার, মাশরাফি, তামিমসহ সকল সাংবাদিকরা আমার সঙ্গে থাকবে জানতে পারলাম। আর এই ভাবনা থেকেই এভাবে অবসরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

ক্রিকেটের শুরুটা কীভাবে, আরেকবার নিশ্চয় জানতে চায় পাঠকরা?


জাভেদ ওমর:
আমাদের বাড়ীর সবাই খেলা পছন্দ করে। আমার বড় ভাই আজ নেই আসিফ ওমর বেলিম। সেই প্রথম আমাকে মাঠে নিয়ে যায়। আমি নির্মাণ স্কুল খেলেছি। জীবনে প্রথম ম্যাচ যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি, তখন ভালো ফিল্ডিংয়ের কারণে ম্যাচসেরা হলাম। আমি ক্যাম্পে ডাক পেলাম। এত ছোট ছিলাম যে আমাকে ক্যাম্পে অনুশীলন করার সুযোগ করে দিল। আমার কোচ মন্টু ভাই সব সময় অনেক অনেক সহায়তা করেছেন। এছাড়াও পরিবার বলেন, তাদেরও সহায়তা পেয়েছিলাম।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্মরণীয় মুহূর্ত কোনটি?

জাভেদ ওমর:
২০০৭ সালে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে জয়। দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশ কোয়ালিফাই করল। আগে আমার কোনো বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা ছিল না। ওই দিনই আমার ছেলে দাইয়ান জাভেদ বেলিম দুনিয়ার মুখ দেখল। আমি বাব‍া হলাম, ওইদিনই বাংলাদেশের জয়। খুবই আনন্দ লেগেছিল। আমরা সবাই ম্যাচ শেষে ছেলেকে কোলে নিয়ে নাচের উৎসব করলাম। এই সময় সবাই আমাকে শুভকামনা জানিয়েছে। এছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। বলতে পারেন পুরো ক্রিকেট আমার স্মৃতিজুড়ে রয়েছে।

প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি মিলিয়ে মানুষের ক্যারিয়ার। ক্যারিয়ার শেষে নিজেকে কতভাগ সফল মনে করেন?

জাভেদ ওমর:
আমি আসলে ক্যারিয়ারে অনেক লড়াই করেছি সবসময়। আমি কোনো প্রতিভাবান খেলোয়াড় ছিলাম না, সব সময় পরিশ্রমের উপর জোর দিয়েছি। আমার জীবনে অনেক অতৃপ্তি আমাকে কাঙ্ক্ষি লক্ষে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। আমি নিজে ৯৫ ভাগ সফল। আমরা যে কাঠামোতে খেলেছি সেই কাঠামোতে খেলে এসে এই পর্যায়ে বিশ্ব ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। যদিও আমাদের দেশ এখনও র্যাংকিংয়ের তলানিতে তারপরও বলব একদিনের ক্রিকেটে আমাদের অবস্থা সত্যি বিশ্বমানের। বিশ্বাস করি আমরা একদিন বিশ্বের সেরা দলে পরিণত হব।

 

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন অথবা কাঠামোগত উন্নয়ন দরকার বলে মনে করেন কী?

জাভেদ ওমর:
আমাদের ক্রিকেট আসলে অনেক এগিয়েছে। তবে ঘরোয়া লিগের অবকাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো দরকার। ক্লাবগুলোরও বিশেষ ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে সমানভাবে প্রতিযোগিতা করার মানসিকতা থাকতে হবে।

আপনার জীবনের সেরা উপহার কী?

জাভেদ ওমর:
আমার ছেলে দাইয়ান জাবেদ বেলিম। ও ছাড়া আমি কিছু চিন্তা করতে পারি না। আমি যখন অসুস্থ থাকি তখন আমার কিছুই ভালো লাগে না। কোনো কিছু সহ্য করতে পারি না। তবে আমার ছেলে দাইয়ান আমার সামনে এলে সব ভুলে যাই। ও আমাকে খুবই ভালো বোঝে সব সময়।
 
কিছু না বলা কথা অথবা মজার কোনো ঘটনা জানতে চাই...

জাভেদ ওমর:
আমার জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও মজার ঘটনা রয়েছে। আমি সমসময় অনেক মজা করতে পছন্দ করি। তবে একটি বিশেষ মজার ঘটনা মনে পড়ছে...। একদিন আমি ফটোকপির দোকানে ফটোকপি করতে গেছি। তখন আমি খুবই তাড়াহুড়ো করছি, তবে দোকানি খুবই ধীরগতিতে কাজ করছে। দোকানদার আমাকে চিনতে পারেনি। এই সময় এক ভক্ত আমার সঙ্গে ছবি তুলছে। ভক্তটি দেখতে একদম সাদা (শ্বেত রোগী)। সে চলে যাওয়ার পর আমাকে দোকানদার বললেন, উনাকে কী বিদেশি ভেবে আপনি ছবি তুললেন। আসলে উনি বাংলাদেশি.. আর আপনি কি না ছবি তুলতে গেলেন.. (হাসি)।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৪০ ঘণ্টা, ০৪ জানুয়ারি ২০১৪
সম্পাদনা: ফাহিম হোসেন মাজনুন, নিউজরুম এডিটর

কিশোরগঞ্জে ১৭ ভাষা সৈনিককে সম্মাননা 
মাতৃভাষায় বই থাকলেও বঞ্চিত শ্রীমঙ্গলের ত্রিপুরা শিশুরা
বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ করায় ৫৬৫ যাত্রীর জরিমানা
নেত্রকোণায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার
কথার ঝুড়ি নিয়ে বাড়ি ফেরা


চকবাজার ট্র্যাজেডিতে ভবনগুলো ‘ব্যবহার অনুপযোগী’
৭ তলার ছাদেও বিস্ফোরকের চিহ্ন!
ভিয়েতনাম মিশনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন 
ময়মনসিংহে ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদকবিক্রেতা নিহত
চকবাজারে এখনও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সতর্ক অবস্থান