নিউইয়র্ক টাইমস ও এ দেশীয় সাংবাদিক

48 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton

আজকাল বিদেশি পত্র-পত্রিকাগুলোতে বাংলাদেশ নিয়ে কোন খবর কিংবা প্রবন্ধ লেখা হলে তা পড়ে বেশ অবাক হতে হয়। তবে অবাক হতে হতে হেসে গড়িয়ে পড়ার মত অবস্থায় এসে দাঁড়াবো এটি অন্তত ভাবিনি। নির্জলা কিছু বিনোদন উপহার দেয়ার জন্য নিউইয়র্ক টাইমসকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারছি না।

ঢাকা: আজকাল বিদেশি পত্র-পত্রিকাগুলোতে বাংলাদেশ নিয়ে কোন খবর কিংবা প্রবন্ধ লেখা হলে তা পড়ে বেশ অবাক হতে হয়। তবে অবাক হতে হতে হেসে গড়িয়ে পড়ার মত অবস্থায় এসে দাঁড়াবো এটি অন্তত ভাবিনি। নির্জলা কিছু বিনোদন উপহার দেয়ার জন্য নিউইয়র্ক টাইমসকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারছি না।

মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে বরং আমরা একটু ইতিহাস নিয়ে কিছু আলোচনা করি। আজকাল প্রায়ই এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হচ্ছে।

পলাশীর যুদ্ধের সেই বিশ্বাসঘাতকদের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই? হঠাৎ করে শত বছর আগের ইতিহাসে ফেরত যাওয়াতে অবাক হচ্ছেন, তাই তো? ওই যুদ্ধে পরাজয়ের মাধ্যমেই কিন্তু আমাদের শত বছরের ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থাকে মেনে নিতে হয়েছিল।

আর কে জানে হয়তো এই জন্যই আমাদের মাঝে এক ধরনের ঔপনিবেশিক মানসিকতা গড়ে উঠেছে। এই যেমন ধরুন, আপনি কিছু একটা কিনতে গেলেন, দোকানি হয়তো বলে বসবে- এটা বিদেশি, তাই দাম একটু বেশি। আর আপনিও বিদেশি জিনিস ভালো ভেবে চড়া দামে কিনে নিয়ে আশপাশের সবাইকে হয়তো আচ্ছা মতো বলে বেড়াবেন, কাল না একটা বিদেশি জিনিস কিনলাম।

কিংবা ধরুন, আপনি একটি নতুন কোম্পানি খুলবেন, তো আপনার একজন এক্সপার্ট দরকার, আপনার যদি সামর্থ থাকে, প্রথমেই ভাববেন দেশের বাইরে থেকে, ভিনদেশি একজন এক্সপার্ট আনতে হবে। হয়তো ওই বিষয়ে দেশেই অনেক ভালো ভালো এক্সপার্ট রয়েছে। তারপরও আপনি ওই বিদেশি এক্সপার্টের পেছনেই অর্থ ব্যয় করবেন।

এছাড়া জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই কিন্তু আমরা এ ধরনের বিদেশ প্রীতি দেখিয়ে থাকি। আমার তো মনে হয়, আমরা অনেকেই এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আর এই চিন্তা ভাবনা আমরা আসলে পেয়েছি ওই ঔপনিবেশিক শাসন আমল থেকেই, যখন কিনা বুদ্ধিবৃত্তিক কাজকর্ম থেকে শুরু করে উপরের সারির সব কিছুই সাদা চামড়ার কিছু বিদেশি শাসক গোষ্ঠী করে থাকত। আর এই সব দেখে আমাদের মাঝেও এই ধারণা চলে এসেছে, যা এখনো দূর হয়নি।

যদিও দেশীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে আমরা চোখ রাখছি বেশি। একই সঙ্গে দেশীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো দেশের কোনো খবর বিদেশের কোন খবরের কাগজে প্রকাশ প্রায় তাহলে সেটিকে অনেক বড় করে দেখে। এই যেমন ধরুন, নিউইয়র্ক টাইমস কিংবা সানডে টাইমস পত্রিকা যদি বাংলাদেশ নিয়ে কিছু লেখে, তাহলে দেশীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে সেটা ফলাও করে প্রচার করা হবে। আর মানুষও সেই খবরগুলোকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গেই নেবে। আর এ নিয়ে গণমাধ্যমগুলোতে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। অর্থাৎ এইখানেও কিছুটা ঔপনিবেশিক মানসিকতার প্রকাশ কিন্তু দেখতে পাওয়া যায়।

‘থিঙ্কিং ফ্রম দ্যা বিলো’ বলে একটা কনসেপ্ট আছে। এর অর্থ হচ্ছে নিচ থেকে চিন্তা করতে হবে। আরও ভালোভাবে যদি বিশ্লেষণ করা যায় তাহলে বিষয়টি আর কিছুই না। আপনি যাদের নিয়ে কথা বলছেন বা যে বিষয় নিয়ে কথা বলছেন, তাদের কথা বা মতামতকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

আর তাহলেই আপনি প্রকৃত সমস্যার সমাধান করতে পারবেন বা নিশ্চিতভাবেই একটা বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করতে পারবেন। এখন যে মানুষটি আমাদের ভাষায় কথা বলে না, আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে সেই অর্থে ধারণা নেই। শুধু দেখে, শুনে বা পড়ে যদি একটা মতামত দেয় সেটি কেনো আমরা বিশ্বাস করতে যাবো। যেখানে পশ্চিমা দেশগুলো আজকাল এই ‘থিঙ্কিং ফ্রম দ্যা বিলো’ কনসেপ্টে ভর করে নিজেদের দেশের সমস্যাগুলো সমাধান করছে, সেখানে আমরা এর বিপরীতে অবস্থান করে সমস্যাকে কাছে টেনে নিচ্ছি।

এবারে আসা যাক নিউইয়র্ক টাইমস প্রসঙ্গে। এলেন ব্যরি নামে একজন গত শনিবার পত্রিকাটিতে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন যেখানে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দুই নেত্রীকে নিয়ে বিষদ আলোচনা করেছেন। কি আলোচনা করেছেন সেটি এই লেখার মুখ্য বিষয় নয়। তবে এই লেখায় একটি ছবি দেয়া হয়েছে যার নিচে ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ডাকা হরতালের সময়  প্রতিবাদরত মানুষ!

এই জাতীয় একটি ছবি দেয়া হয়েছে। অবাক হয়ে দেখলাম ছবিতে শাহবাগ আন্দোলনের একজন পরিচিত মুখকে এবং তিনি একটি বাম রাজনৈতিক দলে যুক্ত। মুখ্য বিষয় হচ্ছে, যে  ছবিটি দেয়া হয়েছে তা কখনোই বিএনপি আয়োজিত কোন রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদ সমাবেশ না। অথচ এলেন ব্যরি নামের এই মানুষটির প্রবন্ধে কি সুন্দর করেই না এই ছবিটি ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।

এর চেয়েও অবাক করা বিষয় হচ্ছে, ছবিটি নেয়া হয়েছে এপি`র ফটোসাংবাদিক এ. এম. আহাদের ক্যামেরা থেকে। ইনি একজন বাংলাদেশি। তার উদ্দেশ্য কি বা কেন করা হয়েছে সেই আলোচনায় না গিয়ে বরং এতটুকু বলা যায়, বাংলাদেশি আর ওই ভিন দেশি সাংবাদিকের সংমিশ্রণ হিসেবে আমরা পেয়েছি ওই ভৌতিক ছবি যা আদৌ সত্য নয়।

আমরা অনেক সময় অনেক তথ্য প্রমাণ হাজির করার সময় পত্রিকার রেফারেন্স দিয়ে থাকি। এখন ধরুন আজ থেকে অনেক দিন পরে ওই ছবিটি দেখিয়ে কেউ যদি ছবিটির পাত্র পাত্রীকে বলে তারা এ ধরনের একটি প্রতিবাদ করেছিল তাহলে সেটি কি গ্রহণযোগ্য হবে? আশা করছি নিউইয়র্ক টাইমস তাদের ছবিটি সরিয়ে নেবে।

তবে এই লেখার মূল বিষয় হচ্ছে, আমরা যারা লেখালেখি করি, সাংবাদিকতা করি, তাদের আহ্বান করব উপনিবেশিক এই মনমানসিকতা ঝেড়ে ফেলে নিজেদের লেখাকেই গুরুত্ব দিতে। আমাদের সংবাদমাধ্যম এখন অনেক ভালো একটা জায়গায় পৌঁছেছে। কেন তাহলে আমরা বিদেশি সংবাদপত্রে কিছু একটা দেখলেই সেটি নিয়ে মেতে উঠব? তারা যে সব কিছু সঠিক দেয় না তা তো নিউইয়র্ক টাইমসের এই ছবি থেকেই প্রমাণিত হয়ে গেছে। আশা করছি আমরা সবাই এবার থেকে “থিঙ্কিং ফ্রম দ্যা বিলো” তত্ত্বকে গ্রহণ করতে সক্ষম হব।

আমিনুল ইসলাম: সহকারী অধ্যাপক, আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় [email protected]
বাংলাদেশ সময়: ১৯০২ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৩, ২০১৪
সম্পাদনা: খুররম জামান, ডিপ্লোম্যাটিক অ্যাফের্য়াস এডিটর

Nagad
লেজিসলেটিভ-সংসদ বিভাগের সচিব সস্ত্রীক করোনা আক্রান্ত
ঢাকায় ভারতীয় নতুন হাইকমিশনার হচ্ছেন বিক্রম দোরাইস্বামী
গণভবন থেকে সেনাকুঞ্জ কোথায় নেই তারা
ক্রেতাশূন্য দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে বড় পশুর হাট ‘সাতমাইল’
মিরপুরে বিকেল হলেই বসে চোরাই মোবাইলের বাজার


ত্রিপুরায় ফের আসতে পারে লকডাউন: রতন লাল
সিঙ্গাপুরে করোনার মধ্যেও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন
পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে নেহরীন মোস্তফার পিপিই বিতরণ
বিরামপুরে করোনায় সাবেক সেনা সদস্যের মৃত্যু
বরিশালের হিজলায় ৩ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ধ্বংস