php glass

কাদাই গ্রামে নেসকোর খামখেয়ালিই কাড়লো ৮ প্রাণ!

স্বপন চন্দ্র দাস, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

কাদাই গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে খামখেয়ালির চিত্র। ছবি: বাংলানিউজ

walton

সিরাজগঞ্জ: অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ সংযোগ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের গাফিলতির কারণেই সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার কাদাই গ্রামে আট জন প্রাণ হারিয়েছেন। যেনতেনভাবে বাঁশের খুঁটি ও জিকা গাছের সঙ্গে বৈদ্যুতিক তারের লাইন স্থাপন করে সংযোগ দেওয়ায় এবং নিয়মিত তদারকি না করায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১ আগস্ট) দুর্ঘটনাকবলিত সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার কাদাই গ্রামে খোঁজ নিতে গেলে স্থানীয়রা বাংলানিউজের কাছে এ অভিযোগ করেন। এ সময় তারা বিদ্যুৎ বিভাগের নানা অনিয়ম ও অবহেলার কথাও তুলে ধরেন। চিহ্নিত করেন অসংখ্য অব্যবস্থাপনাও।

গত মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কাদাই গ্রামের মেঘা শেখের ছেলে আব্দুস সাত্তার (৫০), তার ভাতিজা আব্দুল হামিদের ছেলে ছানোয়ার হোসেন (২৫), আবু তাহেরের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৩), কাসেমের ছেলে মমিন (৩০), আব্দুল আলীমের ছেলে সজীব, আমিনুলের ছেলে রাজু (১৪), আবুল হোসেনের ছেলে হাবিব (২৪) ও মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে রফিকুল (৩০) বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।

বর্ষার পানিতে ডুবে যাওয়া টং দোকান উঠিয়ে অন্য স্থানে সরানোর সময় বিদ্যুতের একটি তার ওই দোকানের টিনের চালার ওপর পড়ে ছিঁড়ে যায়, এবং এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সবাই পানিতে পড়ে যান। পরে তারটি কেটে তাদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিলে একে একে আটজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

স্থানীয়রা জানান, টেন-টাউন প্রকল্পের আওতায় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)। কিন্তু তড়িঘড়ি করতে গিয়ে অধিকাংশ সংযোগই সিমেন্টের খুঁটি, বাঁশ ও জিকা গাছের সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিদ্যুতের মেইন লাইনগুলোও নির্দিষ্ট উচ্চতার চেয়ে অনেক নিচ দিয়ে টাঙানো। 

সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার কাদাই গ্রামের শ্রমিক সেলিম রেজা, তাইজুল ইসলাম, ইব্রাহিম আলীসহ বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেন, বিদ্যুতের মেইন লাইনগুলোও বাঁশ ঝাড়ের মধ্য দিয়ে মাত্র ৫ থেকে ৬ ফুট উপরে টাঙানো। সেদিনের দুর্ঘটনাটি ঘটে ৬ থেকে ৭ ফুট বাঁশের খুঁটির তার ছিঁড়েই।

কাদাই গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে খামখেয়ালির চিত্র। ছবি: বাংলানিউজ
তারা বলেন, পুরো গ্রামজুড়ে এখনো অসংখ্য লাইন আছে যেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। বাঁশঝাড়ের ভেতর দিয়ে টাঙানো একটি তার বাঁশের ঘষাতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই সেখানেই কালো টেপ লাগিয়ে দিয়েছি। অনেক স্থানে আবার বৈদ্যুতিক তার ঝুলে রয়েছে এবং সিমেন্ট ও বাঁশের খুঁটি হেলে পড়েছে। এতে যে কোনো মুহূর্তে ওই বাঁশঝাড়ে বিদ্যুতায়িত হওয়ার আশঙ্কা হচ্ছে। 

কাদাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাজিম মির্জা দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে বাংলানিউজকে বলেন, যখন টং দোকানটি সরাতে গিয়ে কয়েকজন বিদ্যুতায়িত হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে বিদ্যুৎ অফিসে বারবার ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। 

সয়দাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নবিদুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতির কারণেই আট জন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এতো নিচ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদ্যুতের লাইন আর কোথাও নেই, আবার মেইন লাইন বাঁশ আর জিকা গাছের সঙ্গে টাঙিয়েছে। এতে যে কোনো সময় আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিরুল ইসলাম। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছি। বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো গাফিলতি আছে কিনা সেটা তদন্ত করতে ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। যদি অবৈধভাবে কোনো লাইন কেউ নিয়ে থাকে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তিনি দাবি করেন, দেড় বছর ধরে বাঁশ কিংবা গাছের খুঁটির সঙ্গে কোনো সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। নন স্ট্যান্ডার্ড সংযোগগুলোতে সঠিক পোল দিয়ে কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি। 

ওই ঘটনার তদন্তে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

বাংলাদেশ সময়: ০৮৪৯ ঘণ্টা, আগস্ট ০২, ২০১৮
এইচএল/আরআইএস/এইচএ/

এতিম সাজিয়ে দম্পতির কাছে চুরি করা শিশু বিক্রি
পাকুন্দিয়ায় প্রিমিয়ার ক্লাব ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত
করফাঁকির অভিযোগে ৫৫০০ কেজি তামাক জব্দ
শিপিং রিপোর্টার্স ফোরামের নতুন কমিটি
কেরানীগঞ্জে উদ্ধার কদমতলীর অপহৃত নারী, আটক ১


বেনাপোল কাস্টমসে নিয়োগ পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি 
জ্যাঠা শ্বশুরের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ
শ্রীমঙ্গলে ক্রেতা সেজে দুটি ডাহুক উদ্ধার
গোলাপি বলের প্রথম দিনে ‘ব্যর্থ’ বাংলাদেশ
৪১ বছরে ইবি, শিক্ষার্থী ৩০০ থেকে ১৪ হাজার