তেলের দাম

‍আন্তর্জাতিক বাজারে কমলেও কমছে না বাংলাদেশে

1236 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দরপতন অব্যাহত রয়েছে। গত ৬ বছরের মধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে তেলের সর্বনিম্ন মূল্য। কিন্তু বাংলাদেশে দাম কমানোর কোনো সিদ্ধান্ত আপাতত নেই বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব।

ঢাকা: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দরপতন অব্যাহত রয়েছে। গত ৬ বছরের মধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে তেলের সর্বনিম্ন মূল্য। কিন্তু বাংলাদেশে দাম কমানোর কোনো সিদ্ধান্ত আপাতত নেই বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব।

মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) আরেক দফা দরপতনের ফলে অপরিশোধিত প্রতি ব্যারেল তেলের মূল্য নেমে এসেছে ৪৯ দশমিক ১৮ ডলারে। যা ২০১৪ সালের শুরুতে ছিল প্রায় ১১১ ইউএস ডলার। আর ২০১৩ সালে বাংলাদেশে যখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয় তখন ছিল ১২২ ডলার।

আন্তর্জাতিক বাজারের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে পেট্রোল-অকটেন লিটার প্রতি ৫ টাকা ও ডিজেল কেরোসিনের দাম ৭ টাকা করে বাড়ায়।

কিন্তু যখন বিশ্ববাজারের দরপতন অব্যাহত রয়েছে, দাম কমানোর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। দরপতনের কারণে প্রতিবেশি দেশ ভারতসহ অনেক দেশেই দাম কমিয়েছে। ভারত গত আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত লিটার প্রতি দাম কমিয়েছে গড়ে প্রায় ৯ রুপি। 

কিন্তু বাংলাদেশ এখনও চিন্তাই করছে না বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব আবুবকর সিদ্দিক। দাম যদি কম থাকে তাহলে আরও পাঁচ-ছয় মাস পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দাম না কমানোর পক্ষে তার যুক্তি হচ্ছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দীর্ঘদিন ধরে লোকসান দিয়ে আসছে। তাই এখন কিছুটা মুনাফা করে পুঁঞ্জিভূত লোকসান কমিয়ে আনা হচ্ছে।

বিপিসি চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, জ্বালানি তেলের কোনো পণ্যেই এখন লোকসান হচ্ছে না। তবে কোন পণ্যে কত লাভ হচ্ছে তা হিসাবে না করে বলা কঠিন।

তিনি বলেন, কারণ বিশ্ববাজারে প্রতিনিয়ত জ্বালানির দাম ওঠা-নামা করছে। বছরের বিভিন্ন সময় আমরা তেল সংগ্রহ করেছি। একেকটি চালানের দল একেক রকম। আবার পরিশোধিত তেল কিনলে বিভিন্ন পণ্যের দাম বিভিন্ন। সবমিলিয়ে এর হিসাব অনেক জটিল।

সূত্র জানায়, গত অর্থবছর বিপিসির ঘাটতি ছিল দুই হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা। তবে একই সময়ে সরকার ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়েছে চার হাজার ৫২৫ কোটি টাকা। কেনা-বেচায় বিপিসি লোকসান করলেও রাষ্ট্রের মুনাফা হয়েছে দুই হাজার ৪৭ কোটি টাকা।

অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক) সদস্য দেশগুলোর জ্বালানি তেলের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমেরিকার শেল অয়েলের পর্যাপ্ত যোগানের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে পড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ার আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে এশিয়া এবং ইউরোপের দেশগুলোর জ্বালানি তেলের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে যাওয়া। সদস্য দেশগুলো মিলে জ্বালানি তেলের উৎপাদন কমানোর আলোচনা হলেও ওপেক এখনও একমত হতে পারেনি। জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৫ ডলারে উন্নীত করতে হলে দৈনিক উৎপাদন ১০ লাখ ব্যারেল কমানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কিন্তু মূল তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরব ওপেক’র এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় তারা ক্রমাগতভাবে তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩১ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৬, ২০১৫

Nagad
যে গ্রামে হাতি-মানুষের যুদ্ধ
শেষ শ্রদ্ধা শেষে সিমেট্রিতে এন্ড্রু কিশোরের কফিন
বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি: ময়ূরের দুই ইঞ্জিন ড্রাইভার গ্রেফতার
স্বাস্থ্য সংকট হ্রাসে ‘ডাটা বিপ্লব’
এন্ড্রু কিশোরের শেষ যাত্রায় জায়েদ খান


মাশরাফির ছোট ভাই সেজারেরও করোনা নেগেটিভ
খনন হবে সাঙ্গু-চাঁদখালী নদী, সোনাইছড়ি বেড়িবাঁধে সংস্কার
র‍্যাঙ্কিংয়েও বড় লাফ হোল্ডারের
সাহেদের যত প্রতারণা
ইউআইটিএস ও গুলশান ক্লিনিকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক