‘নির্বাচন কমিশন খাঁচাবন্দি পাখি’

সিনিয়র স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ

walton

নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) খাঁচাবন্দি পাখি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির  সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, ভোট চুরি, ভোট ডাকাতির মতো এতো সব মহাযজ্ঞের পরও গণতান্ত্রিক সৌজন্যের তোয়াক্কা না করেই ইসি বলবে, আগের নির্বাচনগুলোর চেয়ে আজকের নির্বাচন আরও সুষ্ঠু হয়েছে।

ঢাকা: নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) খাঁচাবন্দি পাখি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির  সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, ভোট চুরি, ভোট ডাকাতির মতো এতো সব মহাযজ্ঞের পরও গণতান্ত্রিক সৌজন্যের তোয়াক্কা না করেই ইসি বলবে, আগের নির্বাচনগুলোর চেয়ে আজকের নির্বাচন আরও সুষ্ঠু হয়েছে।

 

বুধবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন। দেশজুড়ে আটটি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

 

বিএনপির এ সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, কমিশন শুধু সরকারের সব উস্কানি, প্ররোচণা, অসভ্যতা, রক্তারক্তি, খুনোখুনি, প্রাণহানি, জখম করে পঙ্গু করার ঘটনাগুলোকে সমর্থন ও প্রশ্রয় দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের স্নায়ু শিথিল হয়ে গেছে, মস্তিষ্ক অলস হয়ে গেছে, হৃদয় দুর্বল হয়ে গেছে। এই লক্ষ্যভ্রষ্ট নির্বাচন কমিশন যেন এদেশের লাশে পরিণত হওয়া নির্বাচনী ব্যবস্থা সাক্ষাৎ হাড়হিম করা প্রেত্মাতা।

ক্ষমতাসীন দলকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের নীতিই হলো দুর্নীতি। আর ঐতিহ্য হলো সহিংস সন্ত্রাস। এদের আরেকটি ঐতিহ্য হচ্ছে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনগণের নিকট এরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে পারঙ্গম। সাংবিধানিক সকল বিধি বিধান তাদের নিকট গৌন, মুখ্য হলো সন্ত্রাস ও রক্তপাত এবং প্রাণহানি। আর এ ধরনের ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে তারা মানুষের সব বৃত্তিকে গ্রাস করে নিতে চায়।
 
বিএনপির এ নেতা বলেন, দেশের সকল বিরোধী দলগুলোর সভা-সমাবেশের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণারোপের মধ্য দিয়ে কোণঠাসা করে রাখা এবং গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে সাংবাদিকতার স্বাধীন স্বত্ত্বাকে ভূলুণ্ঠিত করা হচ্ছে এজন্যই যে, এরা সন্ত্রাসী পরিকাঠামো নির্মাণ করে জনগণের ভোটাধিকারকে আটকিয়ে রাখতে চায়। এদের দুঃশাসনের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে মানবাত্মার অবমাননার বিভিন্ন দিক।

৫ জানুয়ারির ‘বিনা ভোটের’ নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় সিংহাসন ‘দখলের’ পর আওয়ামী লীগ আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, সেজন্যই আমরা দেখতে পাচ্ছি, একের পর এক স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে পৈশাচিক রক্তের হোলিখেলা। নির্বাচনী এলাকাগুলোতে শুধু রাত-বিরেতে নয়, বরং দিনে-দুপুরে সাধারণ ভোটারদের চলতে ফিরতে গা ছমছম করে। রক্তচোষা আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির কড়াইশুদ্ধ খেয়ে ফেলে এখন জনগণের হাড়গোড় চিবিয়ে খাচ্ছে।

বিএনপির সিনিয়র ‍যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। নির্মম একদলীয় সরকার তৃণমূল পর্যন্ত তাদের কমান্ড নিশ্চিত করার জন্যই দলীয় লোকদের দিয়ে স্থানীয় সরকার গঠন করে। আর এ ব্যবস্থায় বিরোধী সংগঠন, ভিন্ন মতাদর্শ, সরকারের সমালোচনা একেবারেই উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়।

রিজভী বলেন, নোয়াখালী সদর, কসবা,  ছাগলনাইয়া পৌরসভা নির্বাচনে ভোট শুরু হওয়ার আগেই আওয়ামী লীগের ‘সশস্ত্র ক্যাডাররা’ কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে। প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদতে সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়। ভোট কেন্দ্রের বাইরে স্থানীয় ও বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবস্থান নিয়ে কেন্দ্র ঘেরাও করে রেখেছে। এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটদের বিষয়টি বারবার জানানোর পরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

এসময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলায় চার্জশিট দেওয়া সরকারের দূরভিসন্ধিমূলক চক্রান্ত বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক। হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আপোষহীন নেত্রী। জনবিছিন্ন এই সরকার খালেদা জিয়াকে মানসিকভাবে দুর্বল করার জন্য তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলায় চার্জশিট দিচ্ছে। এটা সরকারের দূরভিসন্ধিমূলক চক্রান্ত, বেআইনি কাজ। যাত্রাবাড়ী থানায় নাশকতায় মামলায় খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। যখন মামলা হলো, তখন বিএনপি চেযারপারসন খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ। সরকার তাকে ইট-বালুর ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। শুধু তাই নয়, খালেদা জিয়ার অফিসের বিদ্যুত, পানি, গ্যাসের লাইনও কেটে দেওয়া হয়েছিল। তাহলে তিনি কীভাবে নাশকতার হুকুম দিলেন? এটা হাস্যকর অভিযোগ।

সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রিজভী বলেন, সরকারের কোনো কারাগারেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা যাবে না। বরং কারাগারে থাকতে সরকারি মহল প্রস্তুত থাকবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুন উর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৩২ ঘণ্টা, মে ২৫, ২০১৬
এমএম/এইচএ/

Nagad
সাহেদের যত প্রতারণা
ইউআইটিএস ও গুলশান ক্লিনিকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক
সিরাজগঞ্জে বেড়েই চলেছে যমুনার পানি, প্লাবিত নতুন এলাকা
বসুন্ধরা গ্রুপের সিনিয়র ডিএমডি বেলায়েত হোসেন আর নেই
পাটুরিয়া ঘাটে পারের অপেক্ষায় সাড়ে তিন শতাধিক যানবাহন


সূচকের মিশ্র প্রবণতায় পুঁজিবাজারে লেনদেন চলছে
খুমেক হাসপাতালে বিক্রি হচ্ছে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট!
প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের লভ্যাংশ ঘোষণা
নিউইয়র্কে পাঠাওয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম খুন
ছোটপর্দায় আজকের খেলা