আমরা কি চিরকালই অসচেতন রয়ে যাব

মাহমুদুল হাসান, অতিথি লেখক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

মাওলানা যুবায়ের আহমাদ আনসারীর জানাযায় অংশ নিয়েছেন লাখো মানুষ।

walton

সময় বড়ই খারাপ। যা নতুন করে আর বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনই করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। বাড়ি ফিরছে অতি সামান্য সংখ্যক। যা ভাবারই বিষয়।

সময় ভীষণ খারাপ। পৃথিবী ভালো নেই। লকডাউন নামের অদৃশ্য এক খাঁচায় বন্দি পুরো পৃথিবী। আল্লাহর এক আজাব নেমে আসছে আমাদের দিকে। চিকিৎসকরা নিজেদের জীবনের মায়া ছেড়ে করে যাচ্ছেন অক্লান্ত পরিশ্রম। পুলিশ-সেনাবাহিনী-ফায়ার সার্ভিস-বিজিবির সদস্যরা খাটছেন আমাদের জন্যই, কেবল আমাদের জন্যই।

ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে যাওয়ায় ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। আমাদের প্রাণ প্রিয় হেরেম শরীফ, মদীনা মুনাওয়ারায়ও নিষেধাজ্ঞা। আমরা মসজিদে যেতে পারছি না। জুমা পড়তে পারছি না। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে না। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-মাদরাসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ আমাদের জন্যই। কেবল আমাদের এই ভয়ানক বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে।

কিন্তু তবুও আমরা সচতেন নই। একটি বার কি ভাবা উচিত ছিল না আমরা নিজেদের কারণে কেন অন্যের বিপর্যয় ডেকে আনছি। আমাদের কি ডাক্তারদের প্রতি একটুও মায়া হয় না? আমাদের কারণে তারা ভুগছে। তাদের আকুতিগুলো কি আমাদের কানে যায় না?

চিকিৎসকরা বলছেন,  ‘আমরা আপনার জন্য বাইরে আছি, আপনারা আমাদের জন্য ঘরে থাকুন।’

আমরা মুসলমানরা চিরকালই একটু উদাসীন! এই উদাসীনতার জন্যই আমরা আমাদের ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতি হারিয়েছি। যেটুকু আছে সেটুকুও যাচ্ছে যাচ্ছে করছে। আমরা নিজেদের ইজ্জত নিজেরাই নষ্ট করছি। কাকে দোষ দেবো?

বিশিষ্ট আলেম মাওলানা যুবায়ের আহমাদ আনসারী খোদার ডাকে সাড়া দিয়ে পাড়ি দিয়েছেন না ফেরার দেশে। ওনার জানাযায় অংশ নিয়েছেন লাখো মানুষ। এমন নাজুক পরিস্থিতিতেও আমরা নিজেদের বিবেকের দারস্থ না হয়ে জযবাকেই প্রাধান্য দিয়েছি। আর যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মানুষ উন্মাদ হয়ে গেছে। হওয়ার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। বলা হচ্ছে ঘরে থাকার জন্য। ভালোবাসা ভালোবাসার জায়গায়। তাতে কেউ বাধা তো দিচ্ছে না। তবুও কেন এত উপচে পড়া ভিড়। মানুষের মুখ তো আর বন্ধ করা যাবে না! আল্লাহ না করুন যদি এর জন্য আমাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তখন কী হবে? মুসলিমরা তো বিচক্ষণ জাতি ছিল। আমরা তো মডেল। মডেলই যদি ভুল করে তবে! এমন মূর্খতা আমাদের শোভা পায় না।

জানাযা ফরজে কেফয়া। আমাদের যে পরিস্থিতিতে ফরজ নামাজই সচেতন আলেমরা ঘরে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে জানাজ? বাঙালি মুসলমানদের ইসলাম বিদ্বেষীদের কথা মাথায় রেখে হলেও সচেতন হওয়া দরকার। এখনো সময় আছে, চলুন সচেতন হই। ঘরে থাকি। নিরাপদে থাকি। সবাইকে ভালো রাখি।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৫৪ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৯, ২০২০
এইচএডি/

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: করোনা ভাইরাস
ঝড়ে লালমোহনে শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
করোনা উপসর্গ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বিকাশ দত্তের মৃত্যু
উত্তর কোরিয়ার ব্রিটিশ দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা
বিরামপুরে অ্যালকোহল পানে আরও ৪ জনের মৃত্যু
কবে আগের মতন কাজ করতে পারমু?


চিড়িয়াখানায় প্রাণীরা মহানন্দে, বাচ্চা দিয়েছে জিরাফ-জলহস্তী
ঈদের বন্ধেও পর্যটকশূন্য বান্দরবান
খুলনা জেলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক কাজল আর নেই
শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু
সুবর্ণচরে সরকারি চাল জব্দ, ক্রেতাকে অর্থদণ্ড