চায়ের দোকানের মিনি সংসদ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: সংগৃহীত

walton

সাধারণ মানুষ সবকিছু সাধারণভাবে চিন্তা করে না। সাধারণভাবে চিন্তা করে না বলেই আমাদের মহান রাজনীতিবিদরা তাদের নিয়ে বিপদে পড়ে যান। একজন মন্ত্রী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সম্পর্কে বলেছেন, স্বাভাবিক নিয়মেই মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে।

সাধারণ মানুষ সবকিছু সাধারণভাবে চিন্তা করে না। সাধারণভাবে চিন্তা করে না বলেই আমাদের মহান রাজনীতিবিদরা তাদের নিয়ে বিপদে পড়ে যান। একজন মন্ত্রী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সম্পর্কে বলেছেন, স্বাভাবিক নিয়মেই মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। আমার গ্রামে চায়ের দোকানে আমার পাশে বসা এক কৃষক চায়ে চুমুক দিতে দিতে বললেন, স্বাভাবিক নিয়মে সবকিছু চললে তাদের কাজটা কি?

অতি উত্তম কথা, তাদের কাজটা কি। ভোটের রাজনীতি শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় এইসব কথাবার্তার যথেষ্ট ভ্যালু রয়েছে। কিন্তু যাদের কথা ভোট প্রভাবিত করার জন্য ভ্যালুয়েবল হওয়ার কথা ছিল, বর্তমানে তাদের মুখ দিয়েই সবচেয়ে ভ্যালুলেস উক্তি নিঃসৃত হচ্ছে। বরং উক্ত উক্তিগুলো সাধারণের হাসির খোরাক যোগায়। বিনোদনের উৎস হিসেবে কাজ করে।

বাসে, রেলের বগিতে, চায়ের দোকানের এসব জ্ঞানীবচনের পোস্টমর্টেম হয়। মূল্যবান আলোচনা হয়। আমরা প্রায়ই এসব আলোচনাকে সস্তাদরের আলাপ জ্ঞান করি এবং আলোচনাকারীর দিকে ভ্রুকুঞ্চিত হেলাভরে তাকাই। তখন আমরা মনে রাখি না তারাও সরকার পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। আমরা ভুলে যাই যে, আমরা কথিত শিক্ষিতজনরা তাদের মতোই মাত্র একটি ভোটই দিতে পারি। কেউ একথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার আগে আমরা তাদের ন্যূনতম সম্মানটুকুও দিই না।

সমভোটাধিকার থাকলেও এসব লোকদের কথা আমরা আমলে নিই না। নেতারাতো ননই। অবশ্যি ইদানি মিডিয়ার কথাও নেতারা আমলে নিচ্ছেন না। মিডিয়ার সমালোচনাকে অন্যায় ও অযাচিত মনে করছেন। নরসিংদীর লোকমান হত্যাকান্ডে মূল আসামিদের দিকে না তাকিয়ে বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকনকে গ্রেফতার করায় সমালোচনার ঝড় উঠলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সমালোচনাকে অন্যায় বলে অভিহিত করেছেন।

জনগণ ন্যায়ের সংজ্ঞা খুঁজছে। অতিকথন দেখেছি আমরা যুদ্ধাপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, বিদ্যৎমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, যোগাযোগমন্ত্রী, ধর্মমন্ত্রী সবাই এব্যাপারে কথা বলেন।  যেন কার কোন দায়িত্ব কেউ জানে না।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারে ৪০ বছর লাগতে পারে। মন্ত্রীদের নিয়ন্ত্রণহীন অতিকথনে সরকারের নীতি নির্ধারকরা পর্যন্ত বিরক্ত। শনিবার বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের অর্থমন্ত্রীর অতিকথনে বিরক্ত হয়ে বলেছেন, দায়িত্বশীল চেয়ারে দায়িত্বহীন কথাবার্তা সরকারকে বিব্রত করছে।

শুধু সরকারই নন, জনগণও বিরক্ত। তেলের দাম বাড়ছে, গ্যাসের দাম বাড়ছে, বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। দিশেহারা জনগণ এসব ব্যাপারে ব্যাখ্যা চায়। ব্যাখ্যা না দিয়ে লাইনচ্যুত বক্তব্য কাটা গায়ে নুনের ছিটার মতো কাজ করে। গা জ্বালাপোড়া করে। তাদের কথনে ভোট কমে।

টিভি চ্যানেলে বুদ্ধিজীবীরা রাতভর নেতাদের প্রলাপ বিষয়ে, এব্যাপারগুলো নিয়ে আলাপ করেন। তেলের বা বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে কোট-টাই পরে কৃষক বাঁচাতে টিভি পর্দায় বিলাপ করেন। যে সব মানু মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তারা টিভিতে কথা বলার সুযোগ পান না। কিন্তু চ্যানেলওয়ালারা  রাতভর সহজলভ্য বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে টকশো না করে এসব খেটে খাওয়া মানুষদের নিয়ে শো করলে সেটা বেশি রিয়েলস্টিক হতো, অধিকতর কার্যকরী বক্তব্য আসতো। বাসের উপর বা চায়ের দোকান থেকে লাইভ টকশো সম্প্রচার করা যেতে পারে। এতে জনগণের মতামত উঠে আসতো। নিম্নবিত্তের খেটে খাওয়া মানুষগুলো শহরের ভদ্রজনের চাইতে কোনও অংশে কম সুচিন্তিত মতামত দেন না। মাঝে মাঝে ভয়াবহ মন্তব্যও বেরিয়ে আসে।

গত কিছুদিন আগে মওদুদ আহমদ যখন বললেন, বঙ্গবন্ধু ও জিয়া সমপর্যায়ের নেতা নন, তাই তাদের তুলনা করা ঠিক হবে না। তখন বিএনপি’তে মওদুদ বিরোধী ঝড় ওঠে। আমি তখন ফেনীতে। শহরের একটি চায়ের দোকানে লুঙ্গিপরা এক লোক একটি চমকপ্রদ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, `বিএনপি এখন একটি ধর্ম। ধর্মের বিরুদ্ধে যেমন কেউ সমালোচনা করতে পারে না। বিএনপি`র বিরুদ্ধে সমালোচনা করা যাবে না। সমালোচনা করলেই গর্দান যাবে।` তার আঁতকে ওঠার মতো গভীর দর্শন দেখে আমি অভিভুত।

গ্রামে চায়ের দোকানগুলো যেন একেকটি মিনি সংসদ। এখানে সাধারণ সমর্থকরা বাকযুদ্ধ করে। তাদের বাকযুদ্ধের উপর এলাকায় দলের অস্তিত্ব নির্ভর করে। দলীয় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের মতো কাজ করে। দলের বিপর্যস্ত অবস্থায়ও এরা একটা যুক্তি দাঁড় করান। আবার দিশেহারা হয়ে কড়া সমালোচনাও করেন। যেখানে দল পৌঁছে না। নেতার বজ্রকন্ঠ যেখানে দূরের ঘটনা। সেখানে এরা দলঅন্তপ্রাণ। সেখানে এরাই দল, এরাই নেতা। সেখানে চায়ের দোকানই সংসদ। আমাদের অনেক টিভি চ্যানেল। কত টকশোই না সম্প্রচার হয়।  কোন চ্যানেল প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানে সেই মিনি সংসদগুলোর আলোচনা সম্প্রচারের ব্যবস্থা নিলে মন্দ হতো না। আমাদের নেতারা তাদের সম্পর্কে জনগণের প্রত্যক্ষণ বুঝতে পারতো। বুঝতে পারতো কে কি ভাবছে।

মনোয়ার রুবেল, একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ও ব্লগার।
[email protected]

বাংলাদেশ সময় ১৫১১ ঘণ্টা, নভেম্বর ১২, ২০১১

Nagad
ধামরাইয়ে স্বর্ণে বারসহ আটক ৫
স্বাস্থ্যবিধি না মানায় কুটুমবাড়ী রেস্তোরাঁকে জরিমানা
স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১২ জুলাই থেকে খুলবে হাফিজিয়া মাদ্রাসা
ভূরুঙ্গামারীতে পাট কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু
বগুড়ায় কোরবানিযোগ্য গবাদি পশু প্রায় ৪ লাখ


বান্দরবান হত্যাকাণ্ড: নিহত ৬ জনের দাহ সম্পন্ন
হাতীবান্ধায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু 
আ. লীগকে বারবার ক্ষমতায় আনতেই ইসির যতো উদ্যোগ: ফখরুল
বন্ধ পাটকলগুলো আধুনিকায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৪১ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৩৬০