বিশেষ সম্পাদকীয়

ফাঁড়া কাটার, অশুভ বিনাশের নির্বাচন

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বিশেষ সম্পাদকীয়।

স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে জন্মলাভের পর বহু ফাঁড়া কাটিয়েছে বাংলাদেশ। মোকাবেলা করেছে বহু বড় চ্যালেঞ্জের। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ছিল তেমনই এক বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জটি সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করতে পারা গেছে আর বড় একটি ফাঁড়াও কাটাতে পেরেছে দেশ।

php glass

তবে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনটি বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল না। না থাকার কারণও বহুবিধ। তবু অনিবার্য ছিল এর প্রয়োজনীয়তা। নির্বাচনটি না করে কোনো উপায়ও ছিল না। অবস্থাটা ছিল ‘ডু অর ডাই’। 

সঠিক সময়ে নির্বাচনটা না করা গেলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চলমানতা ও ধারাবাহিকতাটি ক্ষুন্ন হতো। সোজা কথায়, মুখ থুবড়ে পড়তো গণতন্ত্র। আর সে সুযোগে সমূহ অশুভের পথ প্রশস্ত হতো। নানান ছিদ্রপথে ‘লোহার বাসরঘরে সর্প’ ঢুকে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হতো। যাবতীয় অশুভের এইসব হীন পাঁয়তারা অনেক আগে থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। রক্ত আর খুন ছিল তারই বড় এক আলামত। 

অশুভ সে পাঁয়তারা প্রকট চেহারা নেয় ২০১৩ সালে। যখন গণতন্ত্রের নামে, জনগণের নামে জনগণের বুকের দিকেই জল্লাদের নাঙ্গা কৃপাণ উঁচিয়ে ধরেছিল বিএনপি-জামায়াত ও তাদের বহুদলীয় ডান ও উগ্র-ডান শরিকেরা । আগুন-বোমা-গুলি-সন্ত্রাসে প্রকাশ্য রাজপথে একের পর এক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে দৃশ্যত নরকের লক্ষ দরোজাই খুলে দিয়েছিল তারা। 

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া ধর্মনিরপেক্ষ উদার বাংলাদেশকে ধর্মান্ধ, খুনে, মৌলবাদী গোষ্ঠিগুলোর সঙ্গে আঁতাত করে তারা বানাতে চেয়েছিল উগ্রবাদের আস্তানা। ইংরেজিতে যাকে বলে ‘কুকুন অব টেরর’। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন তা হতে দেয়নি। বরং ভেস্তে গিয়েছিল সেই ‘ডাইনি-ছক’।

নির্বাচনটি যথাসময়ে না হলে কী হতো? জবাবটা সহজ। বাংলাদেশকে আজ এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার পথগামী হতে হতো। হুমকির মধ্যে পড়তে এর গণতন্ত্র। নিয়মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও বেসামরিক ঐতিহ্য ঝুঁকিতে পড়তো। 

আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা ভালো নয়। অগণতান্ত্রিক শক্তির দৌরাত্ম্য তো আমরা কম দেখিনি দূর ও নিকট অতীতে! আমরা প্রবাদের ‘ঘরপোড়া গরু’।

নির্বাচনটি সর্বাঙ্গসুন্দর, ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক, সর্বার্থে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছিল এমন দাবি অবশ্য কেউ করবে না। তথাপি ‘নিতান্ত দলদাস’ না হলে এর অনিবার্যতাকে অস্বীকারও করতে পারবে না কেউ। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির এই নির্বাচনটি ঘিরে নতুন পাঁয়তারা শুরু করেছিল বিএনপি-জামায়াত জোট। দেশব্যাপী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল তারা।  বিশেষ করে ধ্বংসযজ্ঞ, ভয়াবহ নাশকতা, প্রকাশ্যে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা, লাগাতার অবরোধ-হরতালের ক্রমাগত নৈরাজ্যে বাংলাদেশের ললাটে তারা তিলক এঁকে দিতে চেয়েছিল অকার্যকর রাষ্ট্রের।

আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার মতো নারকীয়তাই শুধু নয়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাসে-ট্রেনে তারা দিয়েছে আগুন। ট্রেনের ফিশপ্লেট খুলে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। অনেক ট্রেনকে তারা লাইনচ্যুত করেছে। বহু মানুষকে প্রাণে মেরেছে, করেছে পঙ্গু–আহত। সবই গণতন্ত্রের নামে। 

অথচ গণতন্ত্রকে হত্যার প্রথমপাঠটি শুরু করেছিল এই বিএনপি্ই। এর প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নামের এক আজব ভোটের চাষ তিনি করেছিলেন বাংলার গণতন্ত্রের নবীন মাটিতে। করেছিলেন রাজাকার-আল বদরদের প্রথম পুনর্বাসন।

জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করতে করেছিলেন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ নামের এক কুখ্যাত অধ্যাদেশ। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের তিরস্কৃত নয়, বরং করেছিলেন বিপুল পুরস্কৃত।বাংলাদেশের সবকিছুতে এনেছিলেন পাকিস্তানি ট্রেডমার্ক---জিন্দাবাদি সংস্কৃতি। মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান ‘জয়বাংলা’কে পাঠিয়েছিলেন দীর্ঘ বনবাসে। খালেদা জিয়া এবং তার একাত্তরবিরোধী রাজনৈতিক দোসরেরা, জামায়াত ও তাদের ভয়ঙ্কর অনুসারীরা সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে চেয়েছিল জোরকদমে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন তা হতে দেয়নি।

আমরা মনে করি, একাত্তরে যে চেতনা এবং রাজনৈতিক শপথে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের হয়েছে অভ্যুদয়,সেই চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে বিলীন করার আকাশপ্রমাণ ষড়যন্ত্র থেকে জাতিতে রক্ষা করেছে এই নির্বাচন। 
এর আগে ২০১১ সালের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে জাতীয় সংসদে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাশ হয়। এটা আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই করা। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফিরে যাওয়ার জন্য বিএনপি-জামাতের দাবিটি ছিল অমূলক। 

খালেদা জিয়ার মার্চ ফর ডেমোক্রেসি আসলে ছিল মার্চ ফর টোটাল অ্যানার্কি। তার স্বেচ্ছা অবরুদ্ধ হওয়াটা ছিল নিতান্তই এক অশুভ রাজনৈতিক নাটক। তবে সে নাটকটির যবনিকাপাত হয়েছে বড়ই শোচনীয়ভাবে। তিনি হয়েছেন প্রত্যাখ্যাত ও বিমুখ। মানুষ সে-নাটক গেলেনি।

৫ জানুয়ারি নির্বাচনটি সর্বাঙ্গ সুন্দর হতে পারতো, যদি বিএনপি তাতে যোগ দিতো। কিন্তু তারা তা না করে বিছিয়েছিল কাঁটা। ধরেছিল সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ও হত্যার চেনা পথ। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে সাথে নিয়ে ভোটের আগের দিন বিএনপির সন্ত্রাসীরা আগুনে পুড়িয়ে দেয় ১১১টি ভোটকেন্দ্র। নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে নির্বাচনী সরঞ্জাম ছিনতাই হয়, কুপিয়ে হত্যা করা হয় নির্বাচনী কর্মকর্তাকে। ভোটের দিনও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন অনেক নির্বাচনী কর্মকর্তা। মৃত্যুবরণ করেছেন কেউ কেউ।তাই নির্বাচনটির সর্বাঙ্গসুন্দর না হওয়ার দায় বিএনপির ঘাড়েও বর্তায়।

গণতন্ত্র একমুখি সড়ক নয়। নিজের করণীয় না করে অন্যের কাজের খুঁত ধরার অধিকার বিএনপির নেই। দেশে আবার ওয়ান-ইলেভেনের মতো আরেকটি অগণতান্ত্রিক সরকার তাদের কাম্য ছিল। সে আশা তাদের পূরণ হয়নি। এখন বিএনপিকে দেরিতে হলেও হাঁটতে হবে ইতিবাচক পথে। সন্ত্রাসের পথে নয়। শর্টকাট পথ গণতন্ত্রের পথ নয়। এবার ভুল করলে নিজের অস্তিত্বটাই হয়ে পড়বে নড়বড়ে। তাতে আম-ছালা দুটোই খোয়াবার আশঙ্কা। দেয়ালের অদৃশ্য লিখনটা কি দেখতে পাচ্ছে বিএনপি?সে কি দেখতে পাচ্ছে তার রাজনীতির পিঠজুড়ে দগদগ করছে এক ঘা, যার নাম জামায়াত? বিএনপিকে সেই দুষ্টক্ষতটাও সারিয়ে তুলতে হবে দ্রুত। তার নিজের ও দেশের স্বার্থে।

বাংলাদেশ সময়: ১২০৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৫, ২০১৭
জেএম

পদ্মাসেতুর রোডওয়েতে স্ল্যাব বসানোর কাজ শুরু
জুলহাজ-তনয় হত্যা মামলার প্রতিবেদন ফের পেছালো
তিন দিনব্যাপী বেসিস সফটএক্সপো শুরু
ঢাকা ট্রাভেল মার্টে বিমানের আকর্ষণীয় ছাড়
মাথাপিছু আয় বেড়ে ১৯০৯ ডলার, প্রবৃদ্ধি ৮.১৩ শতাংশ 


সিঙ্গাপুরে রুবেলের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন
হালদা ভ্যালীর ‘ফার্স্ট ফ্লাশ-টি ও হোয়াইট-টি’
আন্দোলন করেই দাবি আদায় করতে হবে: গয়েশ্বর
আইভীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি
চলে গেলেন অভিনেতা রমেন রায় চৌধুরী