চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সদস্যপদ মিলবে কার কাছে ধর্ণা দিলে?

রফিকুল বাহার, অতিথি লেখক  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব দেশের ঐতিহ্যবাহী একটি সংগঠন। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সংগঠনটি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়, পেশার মান উন্নয়ন, বন্দরনগরীর উন্নয়ন-অগ্রগতিতে ব্যাপক অবদান আর ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে স্থায়ী সদস্য সংখ্যা ২৪০ জনের মতো। এরা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কাজ করছেন।

php glass

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব দেশের ঐতিহ্যবাহী একটি সংগঠন। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সংগঠনটি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়, পেশার মান উন্নয়ন, বন্দরনগরীর উন্নয়ন-অগ্রগতিতে ব্যাপক অবদান আর ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে স্থায়ী সদস্য সংখ্যা ২৪০ জনের মতো। এরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করছেন। 

গত বৃহস্পতিবার রাতে নতুন করে ১১ জন সংবাদকর্মীকে অস্থায়ী সদস্যপদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ। অস্থায়ী থেকে স্থায়ী সদস্য হবেন এসব সংবাদকর্মী। মোট ৫৮ জন সংবাদকর্মী আবেদন করেছিলেন। সদস্যপদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে পেরেছিলেন ৩৬ জন। 

সদস্যপদ দেওয়ার জন্য ১৩ জনের একটি কোরাম লাগে। ওই কোরামে গোপন ব্যালটে ২ জন কারও বিরুদ্ধে ‘না-সূচক’ ভোট দিলে আবেদনকারী সদস্যপদ লাভের যোগ্যতা হারাবেন। না-সূচকে ভোটকে ‘ব্ল্যাকবল’ও বলা হয়। ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত দেশের ঐতিহ্যবাহী চিটাগং ক্লাবেও এই ব্ল্যাকবল প্রথা চালু রয়েছে। 

এবার যে সকল সংবাদকর্মী গোপন ব্যালটে সদস্যপদ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যদের একটি তালিকা তুলে ধরা যায়। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দৈনিক কালের কন্ঠের রবি শংকর, রাশেদুল তুষার ও এস এম রানা, শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমের উজ্জ্বল ধর, দেশের প্রথম অনলাইন নিউজপোর্টাল বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর.কমের সুমন বাবু ও মিঠুন চৌধুরী।

এর আগে অস্থায়ী থেকে স্থায়ী হওয়ার ক্ষেত্রে বাদ পড়েছেন দৈনিক সমকালের ব্যুরো প্রধান সারোয়ার সুমন, দৈনিক আজাদীর ঋত্বিক নয়ন। 

মজার ব্যাপার হলো, দৈনিক সমকালের ব্যুরো প্রধানের সারোয়ার সুমনকে স্থায়ী না করে তার জুনিয়র রুবেল খানকে স্থায়ী করা হয়েছে (যদিও রুবেল খান এটা পাওয়ার যোগ্য)।  

যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমে তারা বেশ সুনামের সঙ্গেই কাজ করে যাচ্ছেন এবং সক্রিয়ও। এদের অনেকেই দেশ-বিদেশে বেশ পরিচিত। কারও কারও তারকা খ্যাতিও আছে। প্রত্যেকের সাংবাদিকতার গড় বয়স ১০ থেকে ১৫ বছরেরও বেশি। চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকদের ২০ জনের একটি তালিকা করলে অনায়াসে এদের নাম যোগ হবে। 

প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রের ৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘সম্পাদক এবং কর্মরত সাংবাদিক যারা সংবাদপত্র, সংবাদসংস্থা, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় টানা ৫ বছর বা তার বেশি সময় ধরে স্থায়ীভাবে কর্মরত আছেন, সাংবাদিকতাই যাদের প্রধান পেশা এবং জীবিকা নির্বাহের প্রধান উৎস কেবল তারাই প্রেসক্লাবের অস্থায়ী সদস্যপদের জন্য আবেদন করতে পারবেন।’ 

কেন ওয়ার্কিং জার্নালিস্টদের সদস্যপদ না দেওয়ার জন্য এত নাটকীয়তা আর কৌশল সেটি জানতে প্রেসক্লাবের ২ জন শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছিলাম। কথা বলেছিলাম সদস্যপদ দেওয়ার উপ-কমিটির একজন্য প্রভাবশালী সদস্যের সঙ্গেও। তাদের প্রত্যেকেরই এই নিয়ে হতাশা। যদিও কেউ আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। কিন্তু সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রে যে তারাও কার্যত অসহায় সেটি স্বীকার করেছেন। 
 
আমার ২৬ বছরের সাংবাদিকতার ক্যারিয়ার। আমি তখন দৈনিক ভোরের কাগজে। আবেদন করেছিলাম সদস্যপদের জন্য। শর্ত অনুযায়ী সদস্যপদ পেয়েও গেছি। খুব সম্ভবত সেটি ’৯৭ সালের কথা। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, প্রেসক্লাবের সদস্যপদ পাওয়ার জন্য সামান্যতম ভোগান্তি পোহাতে হয়নি আমাকে। অথচ এখনকার সংবাদকর্মীরা দুর্দান্ত সব কাজ করছেন। পেশায় ঝুঁকি নিচ্ছেন, সাহসী রিপোর্ট করছেন-আর এরাই ব্যক্তিবিশেষের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কারণে বঞ্চিত হচ্ছেন তার প্রাপ্য অধিকার থেকে। 

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ভোটের আগে যারা বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তারা ভোট চাইতে এসে সংবাদকর্মীদের কাছে অঙ্গীকার করেন যে, সংবাদকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা প্রেসক্লাবের সুযোগ সুবিধা ও যোগ্য সংবাদকর্মীদের সদস্যপদ দেওয়ার জন্য নিরলস ও নিঃস্বার্থভাবে কাজ করবেন।  

সাংবাদিকতা কেবল একটি চাকরি বা পেশা নয়। একে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ, সমাজের আয়না। ফলে সাংবাদিকদের নীতিবোধ, দায়িত্ববোধ যেমন থাকতে হয় তেমনি তাদের হতে হয় অনেক সংবেদনশীলও। এবার সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসক্লাবের নির্বাচিত নীতিনির্ধারকদের অতি রক্ষণশীল মনোভাব অনেক সংবাদকর্মীকে আহত করেছে। তারা কষ্ট পেয়েছেন, মানসিক যন্ত্রণায়ও ভুগছেন কেউ কেউ। নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করছেন, সদস্যপদ না পাওয়ার ক্ষেত্রে কি তার অপরাধ ছিল? এমন প্রশ্নও কেউ কেউ তুলেছেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব তাহলে কিসের জন্য, কাদের জন্য। সংবাদকর্মীদের কাছে এটি এখন সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু। 

কতদিন, কী ধরনের সাংবাদিকতা করলে, কার কাছে ধর্ণা দিলে, কতটা নতজানু হয়ে থাকলে, কী কৌশল অবলম্বন করলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সদস্যপদ পাওয়ার অধিকার পাবেন-একজন প্রকৃত সংবাদকর্মী?

ছোট্ট একটি নোট: গঠনতন্ত্র অনুসরণ করলে এমন অনেক সদস্য রয়েছেন যাদের সদস্যপদ থাকার কথা নয় (নাম উল্লেখ না-ই করলাম)। তারা কী করে বছরের পর বছর এখানে সদস্য থাকেন? কী তাদের ক্ষমতা? প্রেসক্লাবের কোন পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা তাদের আশ্রয় বা সমর্থন দেন? 

লেখক
আবাসিক সম্পাদক, একুশে টেলিভিশন, চট্টগ্রাম
ইমেইল- rafiqul_bahar@yahoo.com

বাংলাদেশ সময়: ২১৪০ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৫, ২০১৬
এইচএ/

এক্সিম ব্যাংকের কুমিল্লা অঞ্চলের গ্রাহক সমাবেশ 
বিআরটিএ’র বিভিন্ন পদে নিয়োগ
আফগানিস্তানে জোড়া বোমা হামলায় নিহত ৪
খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করায় দণ্ড
মানবাধিকার সমুন্নত করতে সরকার কাজ করছে


সিরিয়ায় আইএসের ‘খেলাফতের সমাপ্তি’ ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ কংগ্রেসের
মুকসুদপুরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
খাগড়াছড়িতে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স
শিবগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ১