php glass

বিএনপি ডুবছে কেন (৩)

3071 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
২০০৮ সালে বিএনপির নির্বাচনী স্লোগান ছিল: দেশ বাঁচাও-মানুষ বাঁচাও। মানুষ তখন বাঁচতে চায়নি! মানুষ বাঁচাও আন্দোলনে শরিক না হয়ে দিনবদলের স্বপ্নে বিভোর হয়ে তারা আওয়ামী লীগকে চেয়ারে বসায়।

২০০৮ সালে বিএনপির নির্বাচনী স্লোগান ছিল: দেশ বাঁচাও-মানুষ বাঁচাও। মানুষ তখন বাঁচতে চায়নি! মানুষ বাঁচাও আন্দোলনে শরিক না হয়ে দিনবদলের স্বপ্নে বিভোর হয়ে তারা আওয়ামী লীগকে চেয়ারে বসায়। বিএনপি দ্রুতই বুঝতে পারে এদের বাঁচিয়ে লাভ নেই, এরা বাঁচতে চায় না। এরপর তারা নতুন স্লোগানে আসে, "নতুন ধারার রাজনীতি"!

আমরা ভাবতে শুরু করি, নতুন ধারার রাজনীতি হবে আনন্দের ও সুখের। সবাই যার যার মতো করে সুখের কল্পিত চিত্র আঁকতে থাকি। যেমন, তারেক জিয়া ১৫ আগস্ট সকালবেলা উঠে চলে গেলেন বঙ্গবন্ধুর কবরে। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন। আমরা সবাই অবাক হয়ে তারেকের নতুন রাজনীতিতে ঢুকে পড়লাম। টিভিতে তারেক জিয়া জাতির জনকের সম্মান রক্ষার প্রতিজ্ঞা করলেন। তারেকের মহানুভবতায় চোখে জলে এসে গেছে সবার। তারেকের দেখাদেখি আওয়ামী লীগ নেতারাও লজ্জায় গলে গিয়ে ‘শহীদ জিয়া’র মাজারে গেলেন।

সেখানে তারা ঘোষণা দিলেন এ মহান যোদ্ধার কোনো সম্মানহানি হয় এমন বক্তৃতা তারা দেবেন না। হাটে-মাঠে-ঘাটে বিএনপি-আওয়ামী লীগ কোলাকুলি করছে। সবাই খুব খুশি।

তারেক রহমান নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করলেন ভিন্ন ভাবে। তারেক রহমান প্রথমেই তার স্বর্গীয় পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করলেন। শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘পাকবন্ধু’ বলে গালি দিলেন। ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রনায়ক’ বলে বেফাঁস উক্তি করে বসলেন। শেখ মুজিবকে গালমন্দ করে তাকে তার উচ্চাসন থেকে টেনে নামিয়ে আনার জন্য অনেক কিছু বললেন। এর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে গিয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরীর মতো আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা তারেক রহমানকে ‘তুই-তোকারি’ করে গালি দিলেন। তবুও তারেক রহমান থামেননি। এবার হয়ে উঠলেন এক কাঠি সরেস---ইতিহাসের নতুন পাঠ, নতুন সিলেবাস নিয়ে হাজির হলেন তারেক। তিনি যেসব তথ্য বা রেফারেন্স দেন তার অধিকাংশই অসত্য, ভুল, বানোয়াট। সেগুলো নিয়ে ব্লগে, অনলাইনে, টকশোতে, পত্রিকায় হাসি তামাশাও হয়েছে বিস্তর।

‘বিএনপি কেন ডুবছে’-- এ ধারাবাহিক লেখার এক সময় মনে হয়েছে বিএনপির তৃতীয় বড় সমস্যাটির নাম তারেক রহমান। ব্যক্তি তারেক রহমানকে সমস্যা বললে অনেকে সেটা না-ও মানতে পারেন, তাই ঘুরিয়ে বলছি, সমস্যার নাম তারেক রহমানের ভ্রান্ত রাজনৈতিক কৌশল। নতুন ধারার রাজনীতিতে তারেক রহমান শেখ মুজিবকে খাটো করে জিয়াউর রহমানকে প্রতিস্থাপন করতে চাইছেন। ইতিহাসের চরম সত্যকে অবলীলায় অস্বীকার করেছেন তার ওপর নিজের কল্পিত ধারণা প্রচার করছেন, শেখ মুজিবকে ছোট করার চেষ্টা করেছেন। এ কৌশল তারেক রহমানকে বা তার স্বর্গীয় পিতাকে কোনো অনন্য উচ্চতায় নেয়নি, বরং ব্যক্তি তারেক রহমান আস্থা আর শ্রদ্ধা হারিয়েছেন রাজনৈতিক সহকর্মীদের।

রাজনীতি করতে গেলে বিপক্ষ দলের সম্মান ও আস্থা অর্জন-আদায় করে নিতে হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে  তারেক বারবার গালি দিয়ে, কটু কথা বলে সেই শ্রদ্ধা ও সম্মান হারিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেকের মতো নেতা যদি সরকার পরিচালনা করেন তখন দেশের কী হাল হবে আওয়ামী লীগ এটা ভেবে শঙ্কিত।

তারেক সবার নেতা হয়ে উঠতে পারবেন কীনা সেই বিশ্বাস আওয়ামী লীগের বা তার সমমনা দলগুলোর নেই। সে আশঙ্কা বা ভীতি থেকেই তারা বিএনপি ও তারেক জিয়াকে সচেতনভাবে ক্ষমতার বাইরে রাখতে চাচ্ছেন।

এর আগে ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালানোয় তারেক রহমান জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তারেক আজও এ-ব্যাপারে কোনো বক্তব্য দেননি।

চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার ঘটনায়ও হাওয়া ভবন তথা তারেক রহমান জড়িত, এসব তথ্য বহুদিন ধরে গণমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে।

দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার দায়ে ওয়ান ইলেভেনের পরে তারেক রহমান রাজনীতি করবেন না বলে মুচলেকা দিয়ে বিদেশ চলে যান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারেক রহমান রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন। অনেকে তাকে কামনাও করছেন। ‘বিএনপির যুবরাজ’ হিসেবে তিনিই এরপর প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বলে তাকে আশা করেন অনেকে।

তারেকের ভুল রাজনীতি, জামায়াত ঘেঁষা অবস্থান, সিনিয়রদের অবজ্ঞা, আইএসআই-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিদ্বেষ-অবমাননা তারেককে প্রতিপক্ষের চোখে বরং হেয়ই করেছে। সত্যি বলতে কি, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক শক্তিই তারেক রহমানকে এখন আর সম্মানের  দৃষ্টিতে দেখে না। তারেক তার দলের অভ্যন্তরেও ভালো অবস্থানে নেই। স্থায়ী কমিটির বৈঠক না হওয়া, সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ না নেওয়া, দলে একনায়কতন্ত্র তৈরি করার ফলে বিএনপি ডুবতে বসেছে।

এ থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ তারেক রহমান নিজেই। তাকে সরে যেতে হবে অথবা ইমেজ উদ্ধারে নিজের রি-ব্র্যান্ডিং করতে হবে।

-মনোয়ার রুবেল, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও কলামিস্ট
ইমেইল-[email protected]

বাংলাদেশ সময়: ০৫০৪ ঘণ্টা, জুন ১৫, ২০১৫
সম্পাদনা: জেএম

** বিএনপি ডুবছে কেন? (২)
** বিএনপি ডুবছে কেন?

ব্রিজ পার হতে দুই সাঁকো!
রাজধানীতে দু’টি বোমা নিষ্ক্রিয় করলো পুলিশ
ভোলাহাটে মহানন্দা নদীর ডানতীর রক্ষা বাঁধে ভাঙন
কোহলি-রোহিতদের কোচ হচ্ছেন জয়াবর্ধনে!
হাওরে নিখোঁজ কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার


ইভিএমে ভোটদান শেখাতে শিক্ষার্থীদের সহায়তা নিতে চায় ইসি
৬ মাসে চট্টগ্রাম বিআরটিএতে চার হাজার মামলা
রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় নিহত ২
ছোটপর্দায় আজকের খেলা
ইবিতে নতুন ৩ সহকারী প্রক্টর নিয়োগ