php glass

‘৫ জানুয়ারি’ ভালো

1699 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
সামষ্টিকভাবে একটি দেশের জনগণ সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। গণতন্ত্রের এটাই সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। দেশের মানুষ একজন পাগলকে নির্বাচিত করতে পারে। একজন মুচিকেও নির্বাচিত করতে পারে। প্রকৃতই, ভোটের মাধ্যমে যেটা হয় সেটা হল জনপ্রিয়তা যাচাই। যোগ্যতা নয়।

সামষ্টিকভাবে একটি দেশের জনগণ সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। গণতন্ত্রের এটাই সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। দেশের মানুষ একজন পাগলকে নির্বাচিত করতে পারে। একজন মুচিকেও নির্বাচিত করতে পারে। প্রকৃতই, ভোটের মাধ্যমে যেটা হয় সেটা হল জনপ্রিয়তা যাচাই। যোগ্যতা নয়।

অনেকেই বলেন, জনগণ যাকে বেছে নেবেন তিনি নির্বাচিত হবেন, এর ব্যত্যয় হতে দেওয়া উচিত নয়। জনগণ যাকে ভালো মনে করেন তিনি দেশ চালাবেন।

কিন্তু এই দর্শন অনেক সময় ভুল। কিছু ব্যক্তিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া হতে দূরে রাখতে হয়। তা না হলে হুজুগে তারাও নির্বাচিত হয়ে যেতে পারেন। যা দেশের জন্য অমঙ্গলকর হতে পারে।

ভারতের নরেন্দ্র মোদী তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। নরেন্দ্র মোদী নির্বাচিত হওয়ার পর গণতন্ত্রের দুর্বলতা যেন আরও বড় হয়ে ধরা দিল। তিনি একজন উগ্রবাদী হিন্দু। ভারতের জঙ্গিবাদী সংগঠন আরএসএস’র সক্রিয় সদস্য ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি গুজরাট হত্যাকাণ্ডের হোতা। সেই হিসেবে মোদী একজন ‘টেরোরিস্ট’। বিন লাদেনের সমপর্যায়ের না হলেও তার সঙ্গে তুলনা করা যায়। আমেরিকা সুদীর্ঘ সময় তাকে নিষিদ্ধ রেখেছিল। সেই মোদী যখন নির্বাচন করেন, নির্বাচনে দাঁড়ান তখন ভারতের প্রগতিশীল, সচেতন মানুষরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছিল। শুধু ভারত কেন, সারা বিশ্বের প্রগতিশীল মানুষরা আহত ও আতঙ্কিত হয়েছিল মোদীর বিজয়ে।

শুধুমাত্র গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে মোদীর জয় মেনে নিতে বাধ্য হয় সবাই। দেশের সব মানুষ একসঙ্গে ভুল করতে পারে না। কিন্ত ভারতের জনগণ সেই ভুল করেছে।

মোদীর জয়ের পর অনেকে ভেবেছেন, তিনি তার অতীত থেকে ফিরে আসবেন। উদার গণতান্ত্রিক ভারতের আদর্শ উপলব্ধি করতে পারবেন। কিন্তু না, মোদী জয়ের পর যেটা হতে চলেছে, সেটা সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের চেয়েও জঘন্য। সাধারণ মানুষের ধর্ম ও বিশ্বাস পাল্টে ফেলতে চাপ দেওয়া হচ্ছে, বাধ্য করা হচ্ছে। গুজরাটে এবং দিল্লিতে চলছে ধর্মান্তরকরণ উৎসব।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, রেশন কার্ডের লোভ দেখিয়ে, উচ্ছেদ করার চাপ দিয়ে বস্তির ২০০ গরিব মুসলমানকে ধর্মান্তর করে অনুষ্ঠান হয়েছে। আরএসএস ও বিজেপির যৌথ উদ্যোগে সারা ভারতে এই ধর্মান্তরকরণ চলছে। ‘হিন্দু ধর্মে আসো না হয় ভারত ছাড়ো’ এমন একটা স্লোগান নিয়ে তারা কাজ করছে। এটা ভারতের ৬৭ বছরের ইতিহাসে লজ্জার।  এ কারণে গণতান্ত্রিক ভারত শীঘ্রই পাকিস্তানে পরিণত হবে, সন্দেহ নেই।

ভারতে প্রায় ১৭ শতাংশ মুসলমান, অন্যান্য মিলিয়ে ২০ শতাংশের অধিক ভিন্ন ধর্মাবলম্বী রয়েছে। আরএসএস এই ২০ শতাংশ লোককে ভারত ছাড়ার মিশনে নেমেছে। গুজরাট হত্যাকাণ্ডের মতোই মোদীর প্রত্যক্ষ মদতে এটা হচ্ছে। এর ফলে ভারত খুবই কদর্য একটা রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার হুমকিতে রয়েছে, যদি না এক্ষুণি কেউ তাদের প্রতিহত করে।

বিজেপির এই নোংরামিতে বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমসের মতো পত্রিকায় নিবন্ধ ছাপা হয়েছে। ভারতীয়রা এই খবর পড়ে লজ্জিত হন। আমার ফেসবুক লিস্টে থাকা কিছু ভারতীয় বন্ধুর সঙ্গে কথা হয়। তারা নরেন্দ্র মোদী সরকারের হাতে ভারত নিরাপদ নয় ভেবে আতঙ্কিত। নিকট ভবিষতে ভারতজুড়ে মহাদাঙ্গা লাগতে পারে বলেও শঙ্কাবোধ করেন তারা।

লজ্জা পাওয়ার মূল কারণ মোদী নন, গণতন্ত্রের দুর্বলতা। এ জন্যই সবাইকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা উচিত নয়।

৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে যখন জামায়াতের মত উগ্র দলকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার কথা হচ্ছিল, তখন কেউ কেউ এর সমালোচনা করেছে। বলেছে, জনগণ চাইলে জামায়াত কেন নয়। ভারতে বিজেপি জয়ের পর বিএনপি ডাকঢোল পিটিয়ে উল্লাস করেছে। আমরা বলেছি উগ্রবাদী দলের বিজয় কখনো সুখকর হয় না। তখন বিএনপির কিছু বুদ্ধিজীবীকে বলতে শুনেছি, জনগণ চেয়েছে তাই বিজেপি জিতেছে। বাংলাদেশেও জনগণ চাইলে জামায়াত জিতবে।

এই ঔদ্ধত্যের জবাব তখন দিতে পারিনি আমরা। এখন দিতে পারি।

না, জামায়াতের মত স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন এ দেশে চাইলেই জিততে পারবে না। গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তারা ক্ষমতায় এলে কী হবে- প্রতিবেশী দেশের বিজেপির দিকে তাকান। জামায়াত বা হেফাজত তার চেয়েও ভয়ংকর হবে।  এই সব শক্তিদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখাই রাষ্ট্রের কর্তব্য। গণতন্ত্রে সবাইকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়াই সর্বোত্তম পন্থা নয়।

বলে রাখি, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হয়। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন না হলে রাষ্ট্রে সংবিধানের উপস্থিতি শূন্য হয়ে পড়তো। রাষ্ট্র এক সেকেন্ডও সংবিধানশূন্য থাকতে পারে না। ১৯৬৩ সালে আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি নিহত হওয়ার পর তার ভাইস প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসনকে বিমানে থাকা অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে শপথ পড়ানো হয়। শক্তিশালী গণতন্ত্রের দেশ আমেরিকায় নিহত প্রেসিডেন্টের প্রতি আবেগকে জলাঞ্জলি দিয়ে তারা প্রথমেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছেন। এটাই গণতন্ত্রের চর্চা। আমাদের দেশে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন। কে কেন বলেন সেটা বোঝা যায়।

তবে আমার মনে হয়, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার চেয়ে আরও একটি ভালো দিক ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের রয়েছে। সেটা হলো উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীকে ক্ষমতার বাইরে রাখা। যেভাবেই হোক ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জামায়াত-হেফাজতের মত ভয়ংকর শক্তি অংশ নিতে পারেনি। এটাই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সবচেয়ে ভালো দিক।

লেখক: মনোয়ার রুবেল
অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও কলাম লেখক
ইমেইল: [email protected]

বাংলাদেশ সময়: ২১৪৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৪, ২০১৪

সৌমনা দাশগুপ্ত'র একগুচ্ছ কবিতা
ধামরাইয়ে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
সরকার আবার আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছে: রিজভী
জনসনের জয়ে ট্রাম্পের নজর বাণিজ্যে!
একাত্তরে চট্টগ্রামজুড়ে গণহত্যা


ইয়োগা অনুশীলনের আগের সতর্কতা
চলে গেলেন অভিনেতা-চিত্রনাট্যকার গোলাপুডি মারুতি রাও
পাটকল শ্রমিকের জানাজা সম্পন্ন, উত্তপ্ত খুলনার শিল্পাঞ্চল
আসামির সেলফিকাণ্ড, ঘটনা তদন্তে ডিবি
৪০ বছরের অভিজ্ঞতায় এত ভয়াবহ বার্ন দেখিনি: সামন্ত লাল