php glass

ফেসবুক মনস্তত্ত্ব ও আমাদের আক্কেল

1788 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
ফেসবুকের আবির্ভাব আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অনেকাংশে সমৃদ্ধ ও গতিশীল করেছে। বর্তমান বিশ্বে এটি নিঃসন্দেহে একটি জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট। আমাদের মোবাইল কোম্পানিগুলো ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা দেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশেও এর ব্যবহারকারীর

ফেসবুকের আবির্ভাব আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অনেকাংশে সমৃদ্ধ ও গতিশীল করেছে। বর্তমান বিশ্বে এটি নিঃসন্দেহে একটি জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট। আমাদের মোবাইল কোম্পানিগুলো ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা দেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশেও এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং দাপ্তরিক কাজের জন্য এটি এখন অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যক্তির সুখ ও সাফল্যের ঘটনাগুলোকে ছড়িয়ে দিতেই সম্ভবত সর্বোত্তম ব্যবহার ঘটে ফেসবুকের। সেকেন্ড সময়ের মধ্যে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ব্যক্তি, দেশ-মহাদেশ ছাড়িয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরুতে স্পর্শ করে। কখনোবা এর ব্যবহার হয় দুঃখ ভাগের আশায়, আবার কখনোবা রাজনৈতিক হীন স্বার্থে। ফেসবুকের মাধ্যমে অধার্মিক যেমন তার অনুসারীর (ফলোয়ার) সংখ্যা বাড়াতে সচেষ্ট, ঠিক তেমনিভাবে বকধার্মিকও। প্রিয়দর্শিনীরা আবার নিত্য নতুন বসন-ভূষণ আপলোড করে অনুরাগী-অনুরাগিনীদের মনোরঞ্জনের প্রয়াস চালায়। কেউ কেউ হয়তোবা শুধুই সেলফিশ সেলফিতে নিমজ্জিত। এভাবেই ফেসবুকের মধ্য দিয়ে বহিঃপ্রকাশ ঘটে ব্যক্তির রুচি, সংস্কৃতি ও ব্যক্তিত্বের।

সমাজকর্মীর প্রতিবাদের ভাষাও সরব হয়ে উঠে ফেসবুকে। বর্তমান সময়ে দেশে-বিদেশে সামাজিক অনেক আন্দোলনের মূল ভিত্তি হল ফেসবুক। আর্ন্তজাতিক পরিমণ্ডলে আরব বসন্ত নামে পরিচিত মিশরের আন্দোলন, ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনসহ বাংলাদেশের শাহবাগের আন্দোলনে ফেসবুকের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। সাহিত্যচর্চা-কাব্যচর্চার মত সৃষ্টিশীলতা-সংবেদনশীলতার প্রয়াসও চলে ফেসবুকে।

শুধু মনের মধ্যেই যা ছিল এতকাল সীমাবদ্ধ, আমাদের মনের সেই অব্যক্ত সব না বলা কথা এখন ফেসবুকের পাতায়। এমনকি একান্ত ব্যক্তিগত ছবির অ্যালবামও ঠাঁই পায় ফেসবুকের পাতায়।

ভার্চুয়াল জগত হওয়ার কারণে ফেসবুকে নেই রাষ্ট্রীয় শাসনের ভীতি, নেই সামাজিক অনুশাসন, নেই বিধি-রীতি-নীতি। আর এই সুযোগের অপব্যবহার করে ফেসবুকের সুন্দর পরিবেশকে কলুষিত করছে কেউ কেউ। যেমন ‘গরম পানি’, ‘৪২০’ জাতীয় অদ্ভুত নামের ভুয়া অ্যাকাউন্টের ছড়াছড়ি এখন ফেসবুকে। কোনো কোনো প্রোফাইলে জন্তু-জানোয়ারের ছবিও থাকে।

একই ব্যক্তি পবিত্র কোর‍ান ও হাদীসের বাণী পোস্ট দিয়ে পরক্ষণেই অশ্লীল কিছু আপলোড দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার বিশিষ্টজনের ছবি বিকৃত করে পোস্ট দিয়ে আনন্দ পাচ্ছেন। কেউ আবার কারও পোস্ট অপছন্দ হলে শ্লীল-অশ্লীল, পরিবার-সমাজ ভুলে ইচ্ছেমতো গালাগাল দিচ্ছেন। এভাবে তারা তাদের ভাষাকে, চিন্তাকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন অন্যদের মাঝে। অনেকে হয়তো লুফেও নিচ্ছেন। তারা হয়তো কখনোই ভাবেন না—এটা সত্য কিনা? এটা প্রয়োজনীয় কিনা?

একটি সত্যি ঘটনা দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যাক। কয়েকদিন আগে আমার এক বোনকে এক কিশোর ফ্রেন্ড রেকোয়েস্ট পাঠায়, সঙ্গে অনেক বড় একটা মেসেজ। পুরো মেসেজে বোনটির চেহারার প্রশংসা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। মেসেজ পড়ে আমার বোন নিশ্চিত হলেন যে, কিশোরটি তার কোনো স্ট্যাটাস পড়েনি। শুধু তার ছবি দেখে অনুরোধ পাঠিয়েছে। ছবি দেখে বোনটির মনে হয়েছিল কিশোর ছেলেটির বয়স হবে ১৭-১৮ বছর। মেসেজের ভাষাগুলো ছিল সবই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

কিন্তু কিশোরটি আমার বোনকে আন্টি বলে সম্বোধন করেছে। কিছুক্ষণ পর সে ইনবক্সে একজন নারীর ছবি পাঠিয়ে লিখল, ‘see aunty, my mom is also gorgeous’।

যাহোক, বোনটি কৌতূহলবশতঃ কিশোরটির টাইমলাইন যাচাই করে দেখলেন আইডি ভুয়া কিনা। ছবি আর ছবির কমেন্ট দেখে তিনি বুঝলেন, আইডিটি ভুয়া নয়। সেই নারীর সঙ্গে তার অনেক ছবি। প্রায় ছবিতেই আরও একটা মেয়ে আছে, ওর বোন সম্ভবত। মাকে আর বোনকে নিয়ে তার বন্ধুদের কমেন্ট পড়ে আমার বোনের জ্ঞান হারানোর অবস্থা। ভাষাগুলো ভীষণ অশালীন, পাঠযোগ্য নয়। ‘দোস্ত তোর মা তো হেব্বি হট।’ এটাই ছিল সবচেয়ে ভদ্র কমেন্ট! আমার বোন অতি দ্রুত ওই আইডিকে ব্লক করলেন।

এটা কি আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অবদান? নাকি আমরা অভিভাবকরা শিশু-কিশোরদের সঠিকভাবে দিক-নির্দেশনা দিতে পারছিনা? তাদের নৈতিকতা, মূল্যবোধের এত খারাপ অবস্থা যে তারা নিজের মা বোনকেও অন্যদের সামনে উলঙ্গ করতে দ্বিধাবোধ করছে না।

এ প্রসঙ্গে শিশু মনস্তত্ত্ববিদ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ফেসবুকের প্রকৃত ধারাটি হচ্ছে ইতিবাচক ধারা। ইতিবাচক দিকগুলোর অধিকতর প্রয়োগের মাধ্যমে উপজাত তথা নেতিবাচক দিকগুলোকে পরিহার করা সম্ভব। মা-বাবারা ফেসবুক থেকে তাদের সন্তানদের বিরত না রেখে তাদের উপযুক্ত তথা দায়িত্বশীল প্রয়োগ শেখাতে পারেন। ফেসবুক বোঝার এবং ব্যবহার করার সঠিক বয়স বিভিন্ন জনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রূপ হতে পারে। শিশু-কিশোররা না চাইলেও অন্যরা তাদের বিপথগামী করতে পারে। সেজন্য নজরদারি নয়, বরং নিয়মিত দেখাশোনা তাদের জন্য খুবই উপযোগী।

ফেসবুকের মাধ্যমে নিজেকে বিকাশ করার, নিজের স্বচ্ছ চিন্তাভাবনা অন্যদের কাছে তুলে ধরার সুযোগ অপরিসীম। সামাজিক এই যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে অনেকে নিজেদের ভাগ্যও পরিবর্তন করতে পেরেছেন। এখানে বিবেচ্য হল, আমার হাতে একটা ছুরি আছে। এটা দিয়ে আমি গলা কাটার কাজ করবো, নাকি নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করবো তা সম্পূর্ণভাবেই আমার নিজের উপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে আমাদের অভিভাবকদের অধিকতর সচেতন হতে হবে। সুস্থ মানসিকতার বিকাশে এবং ফেসবুকের অপব্যবহার রোধ করতে সন্তানদের নিয়মিত দেখাশোনা ও প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালনের কোনো বিকল্প নেই।

লেখক: রিসার্চ ফেলো, সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদ
ইমেইল- [email protected]

বাংলাদেশ সময়: ২১৩৮ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০১, ২০১৪

বরখাস্ত হলেন ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার প্রধান নির্বাহী
হাটহাজারীতে জোড় ইজতেমা শুরু
‘যুদ্ধে হিট অ্যান্ড রানে বিশ্বাসী ছিলাম’
ভারতে সেনা ক্যাম্প থেকে রাইফেল-গুলি চুরি, জরুরি সতর্কতা
মূল্য নিয়ন্ত্রণে ভারতের বাজার আগাম পর্যবেক্ষণ জরুরি


শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্যের জন্য অসুস্থ রাজনীতি দায়ী
গ্রিজম্যান একটি মেশিন
চাকরির আবেদনে বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি
রাঙ্গুনিয়ায় নুরুন্নাহার স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা
সোনার স্বপ্ন জাগিয়েও পারলেন না আঁখি