php glass

‘গোড়ায় কি ছিল - এখন কি করণীয়’

1162 | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

walton
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা। তার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলতে চাই এখন কি করণীয়। এর আগে একটু বুঝে নেই গোড়ায় কি হয়েছি। ১৯৭১ সালে ৯ মাস যে যুদ্ধ হয়েছিল তা দৃর্শ্যত অন্য ১০টি যুদ্ধের মত ভয়াবহ আকার ধারণ না করলেও সেই সমস্ত যুদ্ধের যে প্রতিক্রিয়া সমাজে হয়েছিল তার চেয়ে কোন অংশে কম বলা চলে না বরঞ্চ অনেক বেশী।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা। তার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলতে চাই এখন কি করণীয়। এর আগে একটু বুঝে নেই গোড়ায় কি হয়েছি। ১৯৭১ সালে ৯ মাস যে যুদ্ধ হয়েছিল তা দৃর্শ্যত অন্য ১০টি যুদ্ধের মত ভয়াবহ আকার ধারণ না করলেও সেই সমস্ত যুদ্ধের যে প্রতিক্রিয়া সমাজে হয়েছিল তার চেয়ে কোন অংশে কম বলা চলে না বরঞ্চ অনেক বেশী।

১. প্রায় দেশেই জাতীয় গণতান্ত্রিক সংগ্রামে, সমাজনীতিতে, রাজনীতিতে এবং অর্থনীতি যুদ্ধজনিত প্রতিক্রিয়াগুলো সরাসরি এভাবেই আসে। সেগুলো সেসময় জনগণের জীবনে একসঙ্গে ভয়ঙ্করভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নানামুখী সংকটের আবর্তে, নানান ধরনের চ্যালেঞ্জর সম্মুখীন হয়ে রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি বাস্তবতাসম্মত প্রয়োগনির্ভর রুপে তৈরি করতে বাধ্য হয়। জনগণও নতুন অবস্থা সঙ্গে খাপ খাইয়ে শিখে। যারা নেতৃত্ব দেয় এবং যায়া অনুসরণ করে উভয়ের অবস্থান অনেকটা সহযাত্রীর মত। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশগুলো এই অভিজ্ঞতারই সাক্ষ্য দিয়েছে, যেমন যুদ্ধ বিধ্বস্ত জাপান এবং পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলো।

২. কিন্তু বাংলাদেশে ব্যাপারে ঘটেছিল ভিন্ন রকম। এখানে জাতীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব যাদের ওপর পড়েছিল তাদের জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে কোন পরিকল্পনা ছিল না। একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযদ্ধে অবর্তীণ হওয়ার জন্য মন-মানসিকতার কোন পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ২৫ মার্চ মধ্য রাতে আক্রমণের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধটা আমাদের ঘাড়ের ওপর এসে পড়ল।

দেখা গেলো প্রধান নেতা গ্রেপ্তার হলেন(মতান্তরে আত্মসমপর্ণ)। অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা ভারতে পালিয়ে গিয়ে দেশপ্রেমিক পরিচয়ে পরিচিতি নিয়েছেন। নেতৃবৃন্দের পিছুপিছু সাধারণ লাখ লাখ মানুষেরা আতঙ্কিত, দিকভ্রান্ত হয়ে ছুটে পালাচ্ছে, ঠিক সেই মূহুর্তে চট্রগ্রাম কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে সেই কণ্ঠস্বরটি ভেসে আসে একটি ঐশ্বরিক দিক নির্দেশনার মতো।

৩.
আবেগমথিত দেশমাতৃকার প্রতি নিবেদিত গভীর দৃঢ়তায় পরিপূর্ণ কণ্ঠস্বরটি থেকে যা উচ্চারিত হয়েছিল সেটিই ছিল প্রকৃত অর্থে Declaration of Independence  বা স্বাধীনতা ঘোষণা। মেজর জিয়াউর রহমান কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথম যে ঘোষণাটি দেন সেটি হল- I Major Zia, head of the provisional revolutionary government Bangladesh do hereby declare war of Independence against pakistan occupation army. একটা জাতীয় উপর এত বড় একটা হ্রদয় বিদায়ক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেলো।

কিন্তু কারো কিছু বলবার নাই প্রতিবাদ করবার নেই। জাতির বিবেকের কোনো কণ্ঠস্বর তখন ধ্বনিত হয়ে ওঠে না।এহেন হীনমন্যতা থেকে জাতিকে রক্ষা করেছিলেন মেজর জিয়া- মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণায় জাতির অপরিমেয় আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

৪. নয় মাস যুদ্ধ শেষে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম লাভ। যুদ্ধ বিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন একটি দরিদ্র দেশ সত্যিকারভাবে জনগণের কল্যাণকামী রাজনৈতিক অনুশীলনের জন্য যে পরিমান প্রজ্ঞা দৃঢ়তা এবং মানুষ ও সম্পদ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন ছিল সে সময় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলে কর্মসূচি এবং কর্মনীতির মধ্যে এসবের কোন প্রতিফলন ছিল না।

দেশটিতে শুধু মাত্র বেপরোয়া ইচ্ছা শক্তি বলে টিকে থাকার উগ্র আকাঙ্খাই এই ব্যক্তির সর্বস্ববাদের লক্ষণ ছিল। যার ফলে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে বিজয়ের পর জনগণ কর্মদ্দীপনায় দেশ পুনর্গঠনের আবেগ স্বাভাবিকভাবে সঞ্চারিত হতে পারেনি।

৫. দেশের মানুষকেই শাসকদের সমস্ত বোকামী, হঠকারীতা, লোভ- মোহের দায়ভার পোহাতে হয়েছিল। শাসক দল সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে কল-কারখানা জাতীয়করণ করেছিল। কিন্তু সেগুলো তহবিল লুট করে, যন্ত্রাংশ বেঁচে দিয়ে একেবারে অচল করে দিয়েছিল। দেখতে না দেখতেই উৎপাদন ব্যবস্থার মধ্যে একটি নৈরাজ্য দেখা দিল। দেশের সম্পদ বাইরে পাঁচার করা, চোরা চালান, বিদেশী ব্যাংকে টাকা রাখবার ব্যাপারে তারা অগ্রণী ভূমিকায় উত্তীর্ণ হল।

জেলায় জেলায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিল, দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার উর্ধ্বে চলে গেল। উপনিবেশবাদী পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে লক্ষ্য লক্ষ্য প্রাণবন্ত উদ্যমশীল যুবক যারা অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দেয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাদের বেশীর ভাগেই হতাশার শিকার হয়ে চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি ইত্যাদি অসামাজিক কাজে ঝুঁকে পড়েছিল। এর বিপরীতে জনগণের আস্থাভাজন অন্য কোন রাজনৈতিক দল, বলিষ্ঠ  কোন রাজনৈতিক দর্শন খাড়া করতে পারেনি। ১৯৭৫’র ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তন।

৬. রাষ্ট্রের শাসনতন্ত্র স্বঘোষিত দখলকারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফের বন্দিশালা থেকে ৭৫’র ৭ নভেম্বরে সিপাহী জনতা মিলে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে আনে। তারপর সেই আশ্চর্যজনক ঘটনা।

স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়া এবার মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান হিসাবে জাতির উদ্দেশ্যে বললেন প্রিয় দেশবাসী আসসালামু আলাইকুম আমি মেজর জেনারেল জিয়া বলছি বর্তমান পরিস্থিতে বাংলাদেশের জনগণ, সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিডিআর, পুলিশ, আনসার এবং অন্যান্যদের অনুরোধে আমাকে সাময়িকভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের চিফ মার্শাল হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হয়েছে। এ দায়িত্ব ইনশাল্লাহ আমি সুষ্ঠুভাবে পালন করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করব। আপনারা সকলে শান্তিপূর্ণভাবে যথাস্থানে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করুন। দেশের সর্বস্থানে অফিস-আদালত, যানবাহন, বিমানবন্দর, নৌ-বন্দর ও কল-কারখানাগুলো পূর্ণভাবে চালু থাকবে। আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হোন। খোদা হাফেজ বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

৭. ৭৫’র ৭ নভেম্বরে সিপারী জনতার সম্মিলিত বিল্পবের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরে প্রকাশ্যে রাজনীতি। গঠিত হয় রাজনৈতিক দল, পূর্ণ প্রতিষ্ঠিত হয় নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারা। এই বিল্পবের মধ্য দিয়ে চক্রান্ত মুক্ত হয়ে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিল্পবের ধারায় ভারতীয় স্বার্থের পরিপূরক অবস্থান থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়। একাত্তরের মুক্তিযদ্ধে বাংলাদেশ নামের যে জাতি রাষ্ট্র এবং জাতীয়তাবাদের জন্ম নিয়েছিল সেই রাষ্ট্রে নাগরিকরা আধুনিক ও বাস্তবসম্মত এক জাতীয় পরিচয় অর্জন করে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী জনগোষ্ঠীকে সারিবদ্ধ করেছিল।

৮. বর্তমান সময়টা একটা যুগসন্ধিকাল তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। অতীতের সমস্ত অর্জনই ধ্বংস হয়ে গেছে। অর্থনৈতিক কাঠামো পুরোপরি ভেঙে পড়েছে। সামাজিক মূল্যবোধগুলো ঝাঁপসা হয়ে গেছে। নীতি-নৈতিকতা বাতিল হয়ে পড়েছে। শিক্ষা পদ্ধতি উপযোগিতা হারিয়ে গেছে। সামনে বিপদ সমূহ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।

৯. এর থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেওয়া বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনের ওপর দাঁড়িয়ে, তার আর্দশকে লালন করে স্বপ্নের তৈরি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির নেতৃত্বে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার হাত ধরে, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই প্রজন্মকে জাগ্রত করে বলবেন বাংলাদেশের নিকট অতীত ছিল দুর্যোগপূর্ণ। বর্তমান হতাশাচ্ছন্ন। কিন্তু হতাশার বিশৃঙ্খলা এবং বিভ্রান্তি কাটিয়ে ভবিষ্যতের কাছ থেকে আশা করার মত আমাদের অনেক কিছুই রয়েছে, আমরা ইনশাল্লাহ সফলকাম হবো।

লেখক- শায়রুল কবির খান, সাংবাদিক ও কলাম লেখক

বাংলাদেশ সময়: ১৬০৩ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৯, ২০১৪

সৃজিতকে অভিনন্দন অনুপমের
সাকিবের পরিবর্তে বর্ষসেরা স্টোকস, সমালোচিত ভারত আর্মি
বান্দরবানে বেড়েছে শীত, গরম পোশাকের বাজার
নাগরিকত্ব বিল আর এনআরসি একই মুদ্রার দুই পিঠ: মমতা
ফুটবল খেলা বাঙালির রক্তের সঙ্গে মিশে আছে


নানা আয়োজনে যশোরে হানাদারমুক্ত দিবস পালন
বিএনপি আইন-আদালত মানে না: নাসিম
ডিসি হিল সংস্কৃতিচর্চার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি
বিশ্বকাপ নয়, আপাতত বিপিএল নিয়েই ভাবছেন সানি
ধরে নিয়ে যাওয়া ২ জেলেকে ফেরত দিলো বিএসএফ