সিয়ামের উদ্দেশ্যাবলী অর্জিত হলে জীবন হয়ে উঠবে সুন্দর

​মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ, অতিথি লেখক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

...।

walton

রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে এসেছিলো পবিত্র মাহে রমজান। এখন শেষের দিকে, বিদায়ের পালা। এমন সময়ে আমাদের মনে প্রশ্ন আসা উচিত আমরা কি সিয়ামের সব উদ্দেশ্যাবলী অর্জন করতে পেরেছি?

মানুষের উন্নতি ও বিকাশের জন্য উত্তম পরিবেশ প্রয়োজন। পরিবেশ ভালো না হলে, সুন্দর না হলে মানুষের জীবনকে ভালো ও সুন্দররূপে গড়ে তোলা যায় না।

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য পবিত্র ও সুন্দর পরিবেশ নিয়ে আসে। পুণ্যময় জীবন যাপনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয় এই মাসে। সহানুভূতি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের পরিবেশ সৃষ্টি করে সিয়াম। রমজানে মানুষ পুণ্যের দিকে ধাবিত হওয়ার পরিবেশ পায়। পাপ থেকে দূরে থাকার শক্তি পায়। সর্বত্র যেন এক শান্ত, পূত-পবিত্রতা বিরাজ করে। গোটা পরিবেশ যেন পুণ্যের আবেশে আবিষ্ট হয়ে উঠে। গোটা মাসটি যেন রহমতের ফল্গুধারায় অভিষিক্ত হয়ে উঠে।

এদিকে ইঙ্গিত দিয়েই মহানবী (স.) বলেছেন, যখন রমজান মাস আসে, তখন জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মানব সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা, উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য পরস্পরের সহানুভূতি ও সহমর্মিতা একান্ত প্রয়োজন। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে যদি সহমর্মিতা না থাকে, তাহলে সে সমাজ সুখী-সমৃদ্ধ হতে পারে না। এক কথায় সমাজ উন্নয়নের জন্য, সামাজিক সুষম বিকাশের জন্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে সুদৃঢ় করার জন্য পরস্পর সহানুভূতি-সহমর্মিতা সৃষ্টি একান্ত কার্যকর।

মাহে রমজানের সিয়াম একটি সমষ্টিগত ইবাদত। এ মাসটি আসা মাত্র সারা দুনিয়ার মুসলমানদের মধ্যে এক অনাবিল প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেয়। স্বতস্ফূর্তভাবেই এমন এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে যায়, যাতে সিয়াম সাধনা সবার জন্য অনায়াসসাধ্য ও সহজবোধ হয়। মু’মিনের মন আপনা থেকেই যেন বিগলিত হয়ে ওঠে। প্রতিযোগিতা শুরু হয় ইবাদাত-বন্দেগি, দান-খায়রাত, পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহযোগিতায় কে কার থেকে অগ্রগামী হবে তার জন্য।

সিয়াম একই সময় সারা বিশ্বব্যাপী পালন করা হয় বলে এটি সবার জন্য সহজ ও অনায়াসসাধ্য। আর এর মাধ্যমে ঐক্য ও সৎসাহস বৃদ্ধি পায়। এভাবে সিয়ামের প্রভাব আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাব ফেলে।

মাহে রমজানের সিয়াম বয়ে আনতে পারে আমাদের জীবনে অপরিসীম কল্যাণ। সিয়ামের উদ্দেশ্যাবলী অর্জন করতে পারলে আমাদের জীবন হয়ে উঠবে সুন্দর। পানাহার থেকে বিরত থাকার সঙ্গে সঙ্গে যাবতীয় মিথ্যা, অন্যায়, শোষণ, জুলুম ও অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকতে হবে। তাহলে সিয়াম আমাদের জীবনে ফলপ্রসূ হবে।

লেখক: খতীব, ফেনী জেলা কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদ। মুহাদ্দিছ, ফেনী আলীয়া কামিল (এম.এ) মাদ্রাসা। 

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৭ ঘণ্টা, মে ২১, ২০২০
এইচএডি

করোনা রোগীর সেবা ও দাফন-কাফন আমাদের দ্বীনি দায়িত্ব
আমতলীর পৌর মেয়রের ওপর হামলা, চাপাতিসহ ৩ জন আটক
রায়সাহেব বাজারে গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কেমিক্যালে
ধর্মপাশায় বজ্রপাতে জেলের মৃত্যু
কানাডায় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে ট্রুডো


যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যোগদান অনলাইনে
‘করোনা রোধে নারায়ণগঞ্জের সিস্টেমটা সারাদেশে প্রয়োগ হবে’
বর্ণ-বৈষম্য দূরীকরণে ১০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেবেন জর্ডান
ফেনীতে করোনা আক্রান্ত বাড়লেও তোয়াক্কা নেই স্বাস্থ্যবিধির
করোনা উপসর্গে মৃত্যু: পরিবার পিছুহটায় দাফন করলো প্রশাসন