ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২২ জিলহজ ১৪৪১

অপার মহিমার রমজান

শেষ প্রান্তে রমজান, কোথায় আমাদের অবস্থান

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮১৬ ঘণ্টা, মে ১৭, ২০২০
শেষ প্রান্তে রমজান, কোথায় আমাদের অবস্থান

দেখতে দেখতে রমজান প্রায় শেষ প্রান্তে চলে এসেছে। রহমত, বরকত পেরিয়ে নাজাত বা ক্ষমার দিনগুলো পেরিয়ে যাচ্ছে। মানুষ হিসেবে রমজানে আমাদের প্রাপ্তি কী? এমন প্রশ্নের হিসাব মেলাতে গেলে প্রথমে পবিত্র কুরআনের এ আয়াতটি দেখা যেতে পারে। রব বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে করে তোমরা মুত্তাকি হতে পার। (সূরা বাকারা-১৮৩)

বোঝা গেলো রোজা শুধু আমাদের উপর নয় পূর্ববর্তীদের উপরও ফরজ ছিল। আর রোজার উদ্দেশ্য হলো আমরা যেন মুত্তাকি হতে পারি।

যদি বলা হয় মুত্তাকি কী জিনিস? সহজ ভাষায় জবাব, সকল অন্যায় কাজে আল্লাহ তায়ালার ভয় এতটা প্রবল হওয়া যে ভয় তাকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। এখন আমরা নিজেরাই নিজেদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে পারবো। রোজা চলে যাচ্ছে আর আমরা কতটুকু মুত্তাকি হয়েছি? দুনিয়ার মোহ থেকে আমরা কতটা বের হতে পেরেছি? মানুষ ঠকানোর যে প্রতিযোগিতা, প্রতারণা, অহংকার, মিথ্যা, বাটপারি সর্বোপরি আমার, আমার বলে যে ধ্যান জ্ঞান তা থেকে কতটুকু পবিত্র আমরা?

বর্তমানে কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের কারণে গোটা বিশ্ব ও মানবতা বিপন্ন। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ তার বাইরে নয়। দীর্ঘ ‘লকডাউনের’ কারণে অসহায় হয়ে পড়েছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনেকে লজ্জায় নিজের অসহায়ত্বের কথা বলতেও পারছেন না। সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন, কাজ করছেন।

যদিও জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে সকল বিত্তশালীদের হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত ছিল। ইউরোপ, আমেরিকা বাদ দিলাম প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতেও আমরা দেখছি বিত্তশালী মানুষ উদারহস্তে অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়ে গেছে। আর আমাদের বিত্তশালীরা হাত গুটিয়ে বসে আছেন (কিছু বাদে)। রমজানে না খেয়ে থেকে আমরা কী শিখলাম? না খেয়ে থাকার উদ্দেশ্যই বা কী?

উদ্দেশ্য একটাই, আমরা যেন অসহায়ের কষ্ট বুঝি। পবিত্র কালামে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট ভাষায় প্রকৃত মুসলমানদের পরিচয় এভাবে দিয়েছেন, তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, মানুষের কল্যাণের জন্য তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। (সূরা আল ইমরান: আয়াত ১১০)

রাসূল (সা.) বলেছেন, কোনো বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যরত থাকে, আল্লাহ তায়ালাও ততক্ষণ তাকে সাহায্য করতে থাকেন। (তিরমিজি)

রাসূল (সা.) থেকে বর্ণিত, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাকে জিজ্ঞেস করবেন, আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম, তুমি আমাকে আহার্য দাওনি। আমি তৃষ্ণার্ত ছিলাম, তুমি আমাকে পানি দাওনি। আমি অসুখে ভুগছিলাম, তুমি আমার সেবা করনি।

বান্দা তখন অবাক হয়ে বলবে, হে আমার প্রতিপালক, আপনি  অভাবমুক্ত, আপনি  খান না, পান করেন না, আপনি কীভাবে ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত ও অসুস্থ হতে পারেন?

আল্লাহ তায়ালা তখন প্রতি উত্তরে বলবেন, আমার অমুক বান্দা যে ক্ষুধার্ত হয়ে তোমার দুয়ারে হাজির হয়েছিল, তুমি তো তাকে খাবার দাওনি, তাকে দিলে আমাকে দেওয়া হতো। পিপাসার্তকে তুমি পানি পান করাওনি, তাকে পানি দিলে আমাকে দেওয়া হতো। রোগ শোকে ভোগা ব্যক্তি কষ্টে ছটফট করতো, তার সেবা করলে আমাকে সেবা করা হতো, তুমি কী এটা জানতে না? (মুসলিম)

ইসলামের সোনালি যুগের ইতিহাস সাক্ষী, পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে ইসলাম তার আলো ছড়িয়েছে মুসলমানের উত্তম চরিত্র, মানবিক গুণের কারণে। তারা নিজেদের সর্বস্ব বিলিয়েছেন অসহায় মানুষের সেবায়। আল্লাহ তায়ালা রমজানের শেষ প্রান্তে হলেও আমাদের বুঝ দান করুন। গুনাহগুলো ক্ষমা করে দিন।

লেখক: কথাসাহিত্যিক ও গল্পকার।

বাংলাদেশ সময়: ১৮১৬ ঘণ্টা, মে ১৭, ২০২০
এইচএডি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa