রমজানের শেষ ১০ দিনের রাত ইবাদতে কাটান

হাফেজ মাওলানা মো. মহিউদ্দিন | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: সংগৃহীত

walton

হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত হুজুর সা. বলেছেন, রমজানের প্রথম দশদিন রহমত, দ্বিতীয় দশদিন মাগফেরাত ও তৃতীয় দশদিন মুক্তির।

হাদিসে বর্ণিত আছে, এই (রমজান) মাসের প্রথম অংশ রহমত; অর্থাৎ এই অংশে আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত ও পুরস্কার এগিয়ে আসতে থাকে এবং আল্লাহ তায়ালার এই ব্যাপক রহমত সাধারণভাবে সব মুসলমানদের জন্য হয়। অতঃপর যারা এই রহমতের জন্য আল্লাহর শোকর আদায় করে তাদের ওপর রহমতের বর্ষণ আরো বাড়িয়ে দেওয়া হয়। 

‘তোমরা শোকর করলে অবশ্যই আমি (নেয়ামত ও পুরস্কার) বাড়িয়ে দেবো-(সুরা ইব্রাহিম, আয়াত-৭)’

এই মাসের মাঝের অংশ থেকে মাগফেরাত অর্থাৎ গোনাহমাফি শুরু হয়ে যায়। কারণ রোজার কিছু অংশ অতিবাহিত হয়েছে; যার বদলা ও সম্মানস্বরূপ মাগফেরাত শুরু হয়ে যায়। আর এই মাসের শেষ অংশে তো (জাহান্নামের) আগুন থেকে একেবারে মুক্তিই হয়।

হজরত জাকারিয়া (র.) বলেন, রহমত, মাগফেরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি এই তিন অংশের মধ্যে পার্থক্য এই যে, মানুষ তিন প্রকারের হয়। এক, ওই সমস্ত লোক যাদের ওপর গোনাহের বোঝা নেই; এই সমস্ত লোকের জন্য তো রমজানের শুরু থেকেই রহমত এবং নেয়ামত ও পুরস্কারের বৃষ্টি বর্ষণ শুরু হয়ে যায়। 

দ্বিতীয় প্রকার, ওই সব মানুষ যারা মামুলি গোনাহগার; তাদের জন্য রমজানের কিছু অংশ রোজা রাখার পর এই রোজার বরকতে ও বদলায় মাগফেরাত হয়।

আর তৃতীয় প্রকার, ওই সব মানুষ যারা বেশি গোনাহগার; তাদের জন্য রমজানের বেশিরভাগ রোজা রাখবার পর জাহান্নাম থেকে মুক্তি হয়। আর যাদের জন্য রমজানের শুরু থেকে রহমত ছিল এবং আগে থেকে তাদের গোনাহ মাফ হয়েছিল, তাদের জন্য যে কী পরিমাণ আল্লাহর রহমতের স্তূপ লেগে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সামনে মুক্তির দশদিন। এই দশদিনকে নবী করিম সা. অনেক গুরুত্ব দিতেন। 

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রমজানের শেষ দশদিন শুরু হতো, তখন হুজুর সা. রাতে জেগে থাকতেন। এমনকি তার আহলিয়াকেও জাগ্রত করতেন এবং ইবাদতের অত্যাধিক চেষ্টা করতেন।

অন্য একটি হাদিসে পাওয়া যায় যে রাসুল সা. এই (শেষ) দশদিনে যত বেশি ইবাদত করতেন রমজানের অন্য রাতে ততবেশি ইবাদত করতেন না। এর উদ্দেশ্য কদরের রাতকে তালাশ করা। যে রাতের মর্যাদার কথা আল্লাহ নিজে সুরা কদরে বর্ণনা করেছেন যে, তা হাজার মাস থেকেও উত্তম বা শ্রেষ্ঠ। 

তাই আমাদের উচিত শেষ দশদিনের রাতগুলো এবাদতের মাধ্যমে কাটিয়ে দেওয়া। বর্তমানেও পৃথিবীতে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা এমনও আছেন যে তারা এই দশদিনের রাতে ঘুমান না। তার এবাদতের মাধ্যমে রাত কাটিয়ে দেন। 

আমাদের সর্ব ধরনের পাপের কাজ থেকে বিরত থাকা দরকার। বিশেষ করে চোখের হেফাজত করা অত্যাধিক প্রয়োজন। কেননা কু-দৃষ্টি শয়তানের তীরের মতো যা মানুষকে চরমভাবে ক্ষতি করে।

নির্জনে আল্লাহর ইবাদত করা। নফল এবাদত গোপনে করা উত্তম আর ফরজ ইবাদত প্রকাশ্যে করা জরুরি। আর আমরা যা কিছু ইবাদত করি না কেন এবং পাপের কাজ থেকে বিরত থাকি না কেন সবই আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করবো। কোনো মানুষের সন্তুষ্টির জন্য নয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফিক দান করুন-আমিন।

লেখক: হাফেজ মাওলানা মোঃ মহিউদ্দিন
ইমাম ও খতিব ঈদগাহ জামে মসজিদ, নবগ্রাম রোড, বরিশাল।

বাংলাদেশ সময়: ০৯১৪ ঘণ্টা, মে ১৫, ২০২০
এএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: বরিশাল
কানাডায় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে ট্রুডো
যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যোগদান অনলাইনে
‘করোনা রোধে নারায়ণগঞ্জের সিস্টেমটা সারাদেশে প্রয়োগ হবে’
বর্ণ-বৈষম্য দূরীকরণে ১০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেবেন জর্ডান
ফেনীতে করোনা আক্রান্ত বাড়লেও তোয়াক্কা নেই স্বাস্থ্যবিধির


করোনা উপসর্গে মৃত্যু: পরিবার পিছুহটায় দাফন করলো প্রশাসন
বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল বিশ্ব
ভার্চ্যুয়াল আদালতে সারাদেশে সাড়ে ২৭ হাজার আসামির জামিন
ভোলার মেঘনায় মিলছে না ইলিশ, কষ্টে দিন কাটছে জেলেদের
ছোটপর্দায় আজকের খেলা