রমজানের শেষ দশ দিনের গুরুত্ব

মাওলানা মুফতি শোয়াইব, অতিথি লেখক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

...

walton

নবীজী (সা.) রমজানের শেষ দশ দিনে ইবাদতে প্রাণপণ মশগুল থাকতেন। হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, ‘যখন রমজানের শেষ দশ দিন আসত, নবীজী তখন রাত্রি জাগরণ করতেন, কোমর শক্ত করে বেঁধে নিতেন। পরিবারের সদস‌্যদেরকে জাগ্রত রাখতেন। (সহীহ বুখারী-২০২৪)

রমজানের রাতে রাসুল (সা.) খুব কম সময় বিশ্রাম করতেন। বাকি সময় ইবাদত বন্দেগিতে ব‌্যয় করতেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূল (সা.) রমজান মাসে ২০ রাকাত তারাবি ও সালাতুল বিতর পড়তেন (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ২/৩৯৪ সুনানুল ক্বোবরা ২/৪৯৭, নাজবুর রায়া ২/১৫৩)।

উল্লেখিত হাদিস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তারাবির নামাজ ২০ রাকাত। এটা রাসূল (সা.) এর আমল। খোলাফায়ে আরবায়া ও সাহাবায়ে কেরামের আমল।

নবীজী (সা.) রমজানের শেষ দশ দিনে ইতিকাফ করে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতেন। এবং অন‌্যদেরও উৎসাহ দিতেন। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজী প্রতি বছর রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করতেন। ইন্তেকালের বছর শেষ ২০ দিনই ইতেকাফে ছিলেন (সহীহ বুখারী ৪৯৯৮)।

পূণ‌্যের এ মাসে নবীজী (সা.) এর আমল ও অনুশীলন আমাদের জন‌্য বড় শিক্ষা ও পয়গাম। আসুন আমরা যেন তা উপলব্ধি করে এ মতে আমল করতে পারি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাওফিক দান করুন। (আমিন)।

রাসূল (সা.) সারাবছর কুরআন তিলাওয়াত করতেন, যা রমজানে অধিক হারে বেড়ে যেত। হুযাইফা (রা.) বলেন, ‘আমি রমজানের একরাতে নবীজীর নিকট আসলাম। তখন তিনি আল্লাহু আকবার বলে নামাজে দাঁড়ালেন, তারপর একে একে সূরা বাকারা, নিসা, ও আল ইমরান প্রথম রাকাতে পড়লেন (সুনানে ইবনে মাজাহ ৮৯৭)।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রমজানের শেষ পর্যন্ত প্রত‌্যেক রাতে জিবরাঈল (আ.) নবীজীর সাথে সাক্ষাত করতেন এবং তিনি তাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। (বুখারী ৪৯৯৭)

রাসূল (সা.) এমনিতেই সাধ‌্যাতীত দান সদকা করতেন, তবে রমজানে নবীজীর দানশীলতার কোনো সীমা থাকতো না। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী (সা.) কল‌্যাণমূলক কাজে ছিলেন সর্বাধিক দানশীল। বিশেষভাবে রমজান মাসে।  (বুখারী ৪৯৯৭)।

এ পর্যায়ে সমাজের বিত্তশালীদের সমীপে নিবেদন, বর্তমান করোনার কারণে বিপর্যস্ত গরিব, অসহায়, কর্মহীন লোকদের প্রতি আমরা যেন আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ থেকে দান খয়রাতের হাতকে প্রসারিত করি।

বিশেষভাবে মধ‌্যবিত্ত শ্রেণির লোক, যারা লজ্জায় অপরের কাছে অভাব প্রকাশ করে না অথচ পরিবারের সদস‌্যদের নিয়ে নেহায়েত কষ্টের মধ‌্যে রয়েছে এবং কাওমি মাদ্রাসাগুলো যেগুলো সমাজের গরিব, এতিম ছাত্রদের ভরণপোষণ ও ধর্মীয় শিক্ষার গুরু দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে ওইসব মাদরাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের জন‌্য আমাদের সদকা, যাকাত ও দানের হাতকে প্রসারিত করে ধর্মীয় কাজে সহযোগিতা করুন।

লেখক: মুফতি ও মুহাদ্দিস। জামেয়া ইসলামিয়া আজিজিয়া, ছাগলনাইয়া-ফেনী। খতিব-ছাগলনাইয়া মধ্যম বাজার জামে মসজিদ।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৫৩ ঘণ্টা, মে ১৩, ২০২০
এইচএডি/

করোনা প্রমাণ করলো, পুলিশ জনগণের বন্ধু
গাজীপুরে কমেছে বায়ু দূষণ, বেড়েছে ফল-শাক-সবজির ফলন
‘পোলাডারে লইয়া বাঁচতে চাই’
উপকূলের জীবন-জীবিকা

‘পোলাডারে লইয়া বাঁচতে চাই’

বরিশালে ৮ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
কিশোরগঞ্জে করোনা আক্রান্ত বেড়ে ৫৫৭ জন


করোনামুক্ত চিকিৎসক হঠাৎ অসুস্থ, হেলিকপ্টারে নিলো ঢাকায়
আবারও ত্রিপুরা রাজ্য লকডাউন ঘোষণা হতে পারে
ঝালকাঠিতে সাংবাদিকের ওপর হামলা
বগুড়ায় ২ শিশুর মরদেহ উদ্ধার
দগ্ধ রোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন লিপি ওসমান