রোজা লালসা দূর করে মুমিনকে উপহার দেয় পরিচ্ছন্ন দেহ-মন

মুফতি মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, অতিথি লেখক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

রমজানের রোজা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলার শিক্ষা দেয়।

walton

রমজানের রোজা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলার শিক্ষা দেয়। হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি ও আত্ম-অহংবোধ ভুলে গিয়ে সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধিশালী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাসই হলো রমজান।

উম্মতে মুহাম্মদীর নৈতিক চরিত্র উন্নত করে সাহাবায়ে কিরামের মতো আদর্শ জীবন গঠন করার প্রশিক্ষণ এ মাসেই গ্রহণ করতে হয়। রোজা মানুষকে প্রকৃত ধার্মিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ করে দেয়। রোজাদারদের ইবাদত-বন্দেগির ভেতর দিয়ে সব ধরনের অন্যায়-অত্যাচার, অশোভন-অনাচার, দুরাচার-পাপাচার ও যাবতীয় অকল্যাণকর কাজকর্ম থেকে বিরত হয়ে সংযম সাধনার পথ ধরে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে আত্মসমর্পণের শিক্ষা দেয়।

আল্লাহ তায়ালা যত সব ইবাদত তাঁর মুমিন বান্দাদের উপর ফরজ করেছেন, এর পেছনে কোনো না কোনো উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে। মুমিনদের উপর রোযা ফরজে করার পেছনেও রয়েছে আল্লাহর মহান উদ্দেশ্য। রমজানের এ উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলানিউজে লিখেছেন ফেনী আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার প্রধান ফকীহ মুফতি মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। তিন পর্বের ধারাবাহিকের দ্বিতীয় পর্ব আজ।

ধৈর্য ও সহানুভূতির শিক্ষা দান

সিয়াম সাধনায় রয়েছে সিয়াম পালনকারীর জন্য ধৈর্য ও সহানুভূতির শিক্ষা। রোযা পালনের ফলে আত্মসংযম ও আত্ম ত্যাগের মহাপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে রোযাদারের দৈহিক, আত্মিক ও মানসিক অবস্থা পরিশুদ্ধ হয়। নিজে জঠর জ্বালা সহ্য করে এবং সমাজের গরিব-দুঃখী, ফকির-মিসকিন, যারা উপবাসে দিন কাটায়, তাদের অবস্থা অনুভব করে। তাই রমজানকে বলা হয় ধৈর্য ও সহমর্মিতার মাস।

রিপুসমূহ দমন করা

সিয়াম সাধনা রিপুগুলো দমন করে এবং আত্মার লালসা দূরীভূত করে মুমিনের দেহ ও মনে পরিচ্ছন্নতা আনে। ফলে সিয়াম সাধনা আত্মশুদ্ধির অন্যতম সুযোগ। সিয়াম রিপুগুলো পুড়ে ছাই করে দিয়ে মুত্তাকি হওয়ার পরম সুযোগ করে দেয়। সিয়াম সাধনা অনর্থক কাজ, মিথ্যা বচন, প্রবঞ্চনা, পরনিন্দা, অশ্লিলতা, অসৎকর্ম, কর্কষবাক্য ব্যবহার ইত্যাদি থেকে মুক্ত রাখে। মহানবী (সা.) বলেন, পাঁচটি জিনিস সিয়ামকে নষ্ট করে দেয়। সেগুলো হলো মিথ্যা কথা, পরনিন্দা, কুটনামি, মিথ্যা শপথ ও কামভাবে দৃষ্টিপাত।

মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা ও মিথ্যা কাজ করা ছাড়তে পারলো না, তার পানাহার ত্যাগ তথা রোজা রাখা আল্লাহর কোনোই প্রয়োজন নেই।’ (বুখারি, হাদিস: ১৭৭০)

আল্লাহর গুণে গুণান্বিত করা

সিয়াম সাধনা মানুষকে আল্লাহর গুণে গুণান্বিত করে। ইমাম গাজ্জালি (র.) ইয়াহইয়া উল উলুম’গ্রন্থে বলেছেন, আখলাকে ইলাহির গুণে মানুষকে গুণান্বিত করে তোলাই সিয়ামের অন্যতম উদ্দেশ্য। আল্লাহ তাআলা পানাহার করেন না। রোজাদার পানাহার বর্জনের ফলে আখলাকে ইলাহির গুণে গুণান্বিত হয়।

আরও পড়ুন>> দৈহিক ও আধ্যাত্মিক উভয় ফায়দা অর্জিত হয় রোজায়

বাংলাদেশ সময়: ১৪৪৫ ঘণ্টা, মে ০৯, ২০২০
এসএইচডি/এইচএডি

যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যোগদান অনলাইনে
‘করোনা রোধে নারায়ণগঞ্জের সিস্টেমটা সারাদেশে প্রয়োগ হবে’
বর্ণ-বৈষম্য দূরীকরণে ১০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেবেন জর্ডান
ফেনীতে করোনা আক্রান্ত বাড়লেও তোয়াক্কা নেই স্বাস্থ্যবিধির
করোনা উপসর্গে মৃত্যু: পরিবার পিছুহটায় দাফন করলো প্রশাসন


বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল বিশ্ব
ভার্চ্যুয়াল আদালতে সারাদেশে সাড়ে ২৭ হাজার আসামির জামিন
ভোলার মেঘনায় মিলছে না ইলিশ, কষ্টে দিন কাটছে জেলেদের
ছোটপর্দায় আজকের খেলা
কাশিমপুর কারাগারে হাজতির মৃত্যু