গুনাহ মাফ ও জান্নাত লাভের সোপান হলো রমাজান

মোহাম্মদ মাকছুদ উল্লাহ, অতিথি লেখক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

প্রতীকী ছবি

walton

সিয়ামুন শব্দটি সাওমুন এর বহুবচন। এটি একটি আরবি শব্দ এবং ইসলামের ধর্মীয় পরিভাষাসমূহের অন্যতম। যার আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। আর পারিভাষিক অর্থে সাওম বা সিয়াম বলতে কোনো মুমিন ব্যক্তি মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনের নিয়তে তাঁরই নৈকট্য লাভের উদ্দেশে সুবহে সাদিক উদীত হওয়ার আগ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য-পানীয় ও সহবাস থেকে বিরত থাকাকে বোঝায়। 

দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে রমজান মাসে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন এবং ওই বছর থেকেই রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবীগণ রমজানের ফরজ রোজা রাখতে শুরু করেন। অর্থাৎ দীর্ঘ ১৪৩৯ বছর ধরে মুসলিম উম্মাহ রোজা পালন করে আসছে একই নিয়মে। কিন্তু এবার প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে রমজান মাসে রোজাদার মুসলমানের জন্য উপরোক্ত তিনটি বিষয় ছাড়াও সামাজিক নৈকট্য বর্জন করাও জরুরি হয়ে পড়েছে। নিজের, পরিবারের ও সমাজের অন্যদের সুরক্ষার জন্য বলা যায়- আপাতত এর কোনো বিকল্প নেই। 

সাওম বা রোজার রোকন দুটি। সেগুলো হলো-

১. সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য, পানীয় ও যৌনতা থেকে বিরত থাকা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করো এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরণ কর। 

আর পানাহার করো যতক্ষণ না রাতের কালো রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা স্পষ্ট হয়ে যায়। অতঃপর রোজা পূর্ণ করো রাত পর্যন্ত। (সুরা আল-বাকারা: ১৮৭) আয়াতে রোজা পূর্ণ করার জন্য সুবহে সাদীক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সূর্যাস্তের পর থেকে সুবহে সাদীক পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হয়েছে

২. নিয়ত করা। এরশাদ হয়েছে, তাদেরকে এছাড়া অন্য কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে।(সুরা আল-বায়্যিনাহ: ৫) রোজা আদায়ের জন্য নিয়ত করা জরুরি। 

নিয়ত ছাড়া সারাদিন খাদ্য, পানীয় ও যৌনতা থেকে বিরত থাকলে সেটা রোজা হিসেবে গণ্য হবে না। ফরজ রোজার জন্য সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার আগে নিয়ত করতে হবে। নিয়ত আরবি শব্দটির অর্থ মনের ইচ্ছা। সুতরাং রমজান মাসের ফরজ রোজা আদায়ের জন্য মনে ইচ্ছা পোষণ করাই যথেষ্ট। সেই মতে গভীর রাতে ঘুম থেকে ওঠা, ওজু করা, খাবার গ্রহণ করা এসবইতো নিয়তের দ্বারা পরিচালিত হয়। সুতরাং নিয়ত করতে ভুলে গেছি রোজা হবে কী না এ জাতীয় প্রশ্ন অবান্তর। 

তবে যারা রাতে ঘুম না ভাঙার কারণে সূর্য ওঠার পরে জাগ্রত হন- তাদের ক্ষেত্রে নিয়তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা মুস্তাহাব। নিয়ত আরবিতে করা জরুরি নয়। তবে যদি কেউ আরবি ভাষা বুঝতে পারেন তাহলে তিনি আরবিতে নিয়তের উচ্চারণ করতে পারেন। নিয়ত আরবিতে বা বাংলায় করাতে নেকি কম বা বেশি হবার কোনো সম্পর্ক নাই।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার পরে দ্বিতীয় বছর রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হয়। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের আয়াত নাযিল হয়, “রমজান হলো সে মাস যাতে কোরআন নাযিল করা হয়েছে। মানুষের হেদায়েতের জন্য এবং হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্য নির্ধারণের জন্য। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটি পাবে সে তাতে রোজা রাখবে।” (সুরা আল-বাক্বারা: ১৮৫)

ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিধান, গুনাহ মাফের সীমাহীন সুযোগ আর জান্নাত লাভের মহৎ সোপান হলো সিয়ামে রমাজান। তাই প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম নর ও নারীর উচিৎ মাহে রমজানের সব রোজাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা। আল্লাহ সাবাইকে তৌফিক দান করুন।

লেখক: পেশ ইমাম, রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদ।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৪২ ঘণ্টা, মে ০৪, ২০২০
এইচএডি/

বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল বিশ্ব
ভার্চ্যুয়াল আদালতে সারাদেশে সাড়ে ২৭ হাজার আসামির জামিন
ভোলার মেঘনায় মিলছে না ইলিশ, কষ্টে দিন কাটছে জেলেদের
ছোটপর্দায় আজকের খেলা
কাশিমপুর কারাগারে হাজতির মৃত্যু


করোনা প্রমাণ করলো, পুলিশ জনগণের বন্ধু
গাজীপুরে কমেছে বায়ু দূষণ, বেড়েছে ফল-শাক-সবজির ফলন
‘পোলাডারে লইয়া বাঁচতে চাই’
উপকূলের জীবন-জীবিকা

‘পোলাডারে লইয়া বাঁচতে চাই’

বরিশালে ৮ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
কিশোরগঞ্জে করোনা আক্রান্ত বেড়ে ৫৫৭ জন