সেহেরির রাতে এই কলকাতা অচেনা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

কলকাতার রাস্তা

walton

কলকাতা: চলমান লকডাউনে এক গভীর রাত! শহরের অর্ধেকের বেশি নাগরিক তখনো স্বপ্ন নগরীতে বিচরণ করছেন। নিয়নের আলো তখনো ধুয়ে চলছে কলকাতার রাজপথ। মায়াবী সেই আলোয় রাজপথে নীরবতা ভাঙছে দ্রুতগতিতে মাঝেমধ্যে ছুঁটে আসা কোনো গাড়ির হেড লাইট। 

সেই আলোয় প্রতিফলিত হচ্ছে ঝিমিয়ে পড়া রুপালি ট্রাম লাইন। ঠিক তার পাশেই সভ্যতার সমস্ত আয়জনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আধঘুম চোখে নিশ্চিন্তে হেঁটে চলেছে এক ভবঘুরে ফুটপাতবাসী। ভোর হওয়ার আগ মুহূর্তে, রাতের অন্ধকার যেন আরও গাঢ় হয়ে আসছে। নিরবচ্ছিন্ন নৈশব্দের ধ্যানে তখনো নিমজ্জিত শহর কলকাতা।

জিলাপি কিনতে কলকাতা শহরে মানুষের ভিড়

আকাশচুম্বী অট্টালিকাগুলোর মাথার আড়ালে তখনো উঁকি মারছে কাস্তের ন্যায় এক ফালি চাঁদ। কল্লোলিনী কলকাতার অতলস্পর্শী চেহারার তখন একমাত্র সাক্ষী উত্তর আকাশের ধ্রুব তারা এবং পশ্চিম আকাশের লক্ষ লক্ষ বছর ধরে রাতজাগা কালপুরুষ!

এহেন গভীর দিবারাতে আংশিক জেগে শহরবাসী। কারণ পবিত্র রমজান। সিয়াম সাধনার মাস এটি। আর কিছুক্ষণ পরই শুরু হরে সেহরি।

গতবছর শহরের এই সময়টাও নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকার নির্জন রাস্তার বাঁক বাঁকে খোলা থাকতো দোকান। দোকান ঘিরে মোড়ে মোড়ে চোখে পড়তো ছোট ছোট জমায়েত। গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে পরিবারের সেহরির জন্য দোকানিকে অর্ডার দিয়ে ফেলতো কোনো এক রোজাদার। ব্যস্তভাবে হাত চালাতো দোকানের কর্মচারী। অর্ডার মাফিক পরিবেশন হতো পুরী, সবজি, হালুয়া, জিলাপি, ভাত-মাছ, ফিরনি, লাচ্চি অথবা দই, মিষ্টি ইত্যাদি।

কিন্তু এক মহামারি পাল্টে দিয়েছে কলকাতার চরিত্রটা। না হলে এই সময় পার্কসার্কাস, রিপন স্ট্রিট, রফি আহমেদ খিদওয়াই রোড, মার্কুই স্ট্রিট, এসপ্ল্যান্ডে, জাকরিয়া স্ট্রিট, খিদিরপুর, মোমিনপুর, একবালপুরের মতো বহু জায়গায় শুধুমাত্র সেহরির জন্য খোলা থাকতো রেস্তোরাঁগুলো।

বলা হতো, এই সময় দেবী অন্নপুর্ণা ভর করে শহরে। এই রমজান মাসে এসব এলাকায় কখনই নিভত না চুলার আগুন। রেস্তোরাঁগুলোয় থাকতো নানারকম অয়োজন। শুধু রোজাদার নয়, সব ধর্মের খাদ্যরসিক মানুষ অপেক্ষা করতো সময়টার। কারণ এ সময়টায় ভোররাতে পুরী-হালুয়া কিংবা গরম গরম মাছ-ভাতের স্বাদে যেন এক বৈচিত্র্য এনে দিত কলকাতাবাসীর জীবন ও জিহ্বায়।

তবে একবারেই কি পাল্টে গেছে চিত্রটা? তা নয়! চলমান লকাউনে অন্তত ১০ ভাগ বহাল আছে। কয়েকটা ছোট ছোট রেস্তোরাঁ এবারও খোলা আছে শহরের বুকে। তবে তা অলিগলিতে এবং প্রায় গোপনেই। বিক্রি হচ্ছে পুরী, সবজি, হাত রুটি, মাংস, জিলাপি, হালুয়ার মতো কয়েকরকম আইটেম। এসব রেস্তোরাঁয় খুব বেশি ভিড়ও নেই আবার একবারে ফাঁকাও নয়। তবে বন্ধ করে দিয়েছে রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া। খেতে হবে বাসায়।

চলমান লকডাউনে কেনো বাসা ছেড়ে রেস্তোরাঁ থেকে সেহরি নিতে আসছে? ১৮ ঊর্ধ্ব জামালের কথায় সারাদিন বাসা থেকে বের হতে দেয় না আব্বু। এই সময়টায় বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়। ভিডিও কলিংয়ে কি আর মন ভরে! 
সেহরি নিতে আসা রিয়াজও মাথা নাড়িয়ে সায় দেয়। জানিয়ে দেয় সে একমত। তবে শাকিলের মতে বাসার খাবার মানে ফ্রিজে রাখা খাবার গরম করে খাওয়া। তার চেয়ে টাটকা পুরী, হালুয়া সেহরিতে, দিনভর রোজার সময়টা জমে ওঠে।

সময় বলছে আর কিছুক্ষণ পর মসজিদ থেকে ভেসে আসবে ফজরের আজান। দূর থেকে ভেসে আসছে পাখিদের কলতান, দুধের গাড়ির হর্ন, খবরের কাগজ বয়ে নিয়ে যাওয়া সাইকেল সওয়ারীর ক্রিং ক্রিং বেল। নানা শব্দে মুখরিত হয়ে উঠছে শহর কলকাতা। আর কিছুক্ষণ পরই জেগে উঠবে ব্যস্তহীন কলকাতা। দেখবে আরও একটা নতুন দিন।

বাংলাদেশ সময়: ০৩২০ ঘণ্টা, মে ০৪, ২০২০
ভিএস/এইচএডি/ওএফবি
 

করোনা প্রমাণ করলো, পুলিশ জনগণের বন্ধু
গাজীপুরে কমেছে বায়ু দূষণ, বেড়েছে ফল-শাক-সবজির ফলন
‘পোলাডারে লইয়া বাঁচতে চাই’
উপকূলের জীবন-জীবিকা

‘পোলাডারে লইয়া বাঁচতে চাই’

বরিশালে ৮ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
কিশোরগঞ্জে করোনা আক্রান্ত বেড়ে ৫৫৭ জন


করোনামুক্ত চিকিৎসক হঠাৎ অসুস্থ, হেলিকপ্টারে নিলো ঢাকায়
আবারও ত্রিপুরা রাজ্য লকডাউন ঘোষণা হতে পারে
ঝালকাঠিতে সাংবাদিকের ওপর হামলা
বগুড়ায় ২ শিশুর মরদেহ উদ্ধার
দগ্ধ রোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন লিপি ওসমান