php glass

সেহরিতে কাফেলার ডাকাডাকি ও গজলের প্রথা কমে যাচ্ছে

মো. আমিরুজ্জামান, ডিষ্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সেহরিতে কাফেলার ডাকাডাকি। ছবি: বাংলানিউজ

walton

নীলফামারী: রমজানে রোজাদারদের ডেকে তোলার কাফেলার হাঁকডাক ও গজলের প্রথা কমে যাচ্ছে। একসময় এই দুইটির প্রচলন থাকলেও এখন কমে এসেছে। রমজান মাসের মধ্যরাতে সৈয়দপুরে দূর থেকে মাইকে বেজে উঠতো ‘উঠুন, উঠুন। সময় হয়েছে সেহেরির। তাড়াতাড়ি উঠুন, সেহরি খান, রোজা রাখুন। ‘সেহরির সময় হয়ে গেছে, আপনারা উঠুন, আপনারা উঠুন’ ইত্যাদি সব বাক্য।

পবিত্র রমজান মাসে সৈয়দপুরে সেহরির ঘণ্টাখানেক আগে রিক্সা কিংবা ভ্যানে মাইক লাগিয়ে অথবা হাতে টিনের চোঙ্গা নিয়ে এভাবে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে সেহরির সময় হয়ে গেছে বলে সেহরির জন্য ডাক দিতো কয়েকজন যুবকের কাফেলার দল। সাথে সুললিত কন্ঠে চলতো হামদ, নাত, গজলের সুর। গলায় সুর তুলে হাঁক দিয়ে এভাবেই হেটে যেতো রমজানে রাত জাগানিয়ার দলের সেই কাফেলাটি।

শুধু কি শহরে, সৈয়দপুরের গ্রামাঞ্চল থেকেও কমে যাচ্ছে ইফতারের একটু আগে ছোট ছোট শিশুদের দলবেঁধে গজল পাঠের সেই মিনি কাফেলাটিও। মাথায় টুপি, ওড়না আর হাতে থলে নিয়ে শিশুরা তখন পাড়ায় পাড়ায় দল বেঁধে রমজানের উপর গজল পাঠ করতো। মানুষজন তাদের বকসিস ও চাল আটা দিতেন। প্রযুক্তির সুবাদে সেটিও এখন আর আগের মত দেখা যায় না। শুনা যায় না আর ইফতার ও সেহরীর সময় বেজে উঠা সরকারি সাইরেনটিও।

পবিত্র রমজানে কাফেলার সাথে সৈয়দপুরের গভীর সম্পর্ক ছিলো এক সময়। কাদেরি কাফেলা, মাদানী কাফেলী, আজমেরী কাফেলা, কাদিমী কাফেলা নামে কয়েক বছর আগেই সৈয়দপুরের ইসলামবাগ, মিস্ত্রিপাড়া, বাঁশবাড়ী, রসুলপুর, নতুন বাবুপাড়া, গোলাহাট, সাহেব পাড়াসহ বেশিভাগ মহল্লা থেকে বের হত সেহরীর সময় হয়ে গেছে রাত জাগানিয়ার সেই কাফেলাটি। তাদের ডাকে ঘুম থেকে জেগে উঠতেন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। প্রস্ততি নিতেন সেহরি এবং রোজার। আবার রমজানের শেষের দিকে প্রতিটি মহল্লার কাফেলা দলদের নিয়ে হতো প্রতিযোগীতার আয়োজন।

বহু মানুষের উপস্থিতিতে বিজ্ঞ বিচারকগণ ১ম, ২য় ও ৩য় নির্ধারণ করতেন। দেওয়া হতো ক্রেস্ট ও সম্মাননা। আবার রমজান মাস আসলে ইফতার কিংবা সেহরির সময় মসজিদে সাইরেন দেওয়া হত। কিন্ত এখন সেগুলো যেনো অতীত। হাতে হাতে মোবাইল প্রযুক্তির ছাপ যেনো সবকিছুকে বিলীন করে দিচ্ছে। এভাবে সৈয়দপুর থেকে আসতে আসতে উঠে যাচ্ছে কাফেলা ও গজলের রেওয়াজ।

বাংলানিউজকে কাফেলার সদস্য ইমরান জানান, আগে কাফেলা নিয়ে বের হলে পিছনে পিছনে অনেক শিশু-কিশোরদের জটলা থাকতো। মানুষজন ভালো মনে অনেকে বকশিসও দিতেন। কিন্ত এখন একজনও দেখতে আসে না যে কে এলো আর কে গেলো। আমাদের কেউ পৃষ্ঠপোষকতাও করে না। যতটুকু সম্ভব নিজের খরচে সাধ্যমতে কাফেলা বের করা হয় এখনো।

কাফেলার আরেক সদস্য ইসলামবাগের নাদিম বাংলানিউজকে জানান, এখনতো বের হলে বিভিন্ন মহল্লায় মানুষের কথাও শুনতে হয়, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে নানা রকম কথা শুনতে হয়। অথচ কয়েক বছর আগেই এই কাফেলার আওয়াজের অপেক্ষায় থাকতো মানুষজন।

রমজানবিষয়ক যেকোনো লেখা আপনিও দিতে পারেন। লেখা পাঠাতে মেইল করুন: [email protected]

বাংলাদেশ সময়: ২২০৩ ঘণ্টা, জুন ০১, ২০১৯
এমএমইউ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: ঈদুল ফিতর রমজান
বইয়ের দোকানের সামনে নারীর মরদেহ
আকাশপথে পেঁয়াজ আমদানির চার্জ মওকুফ
করপোরেট গ্রাহকের তথ্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেয়ার নির্দেশ
প্রথম রাউন্ডে পিচ করল দেশের ১৬টি দল
সব বয়সের পুরুষের জন্য ইনফিনিটির ব্লেজার 


ম্যারাডোনা এবার থাকলেন তিন মাস
শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন সড়ক আইন, শাস্তির জন্য নয়: সেতুমন্ত্রী
কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনা: তদন্ত কমিটির ৫ দফা সুপারিশ
৯০ শতাংশ শ্রমিককে ডিজিটাল ওয়েজ পেমেন্টের আওতায় আনা হবে
গ্রামেও এডিস মশার প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা করছেন মন্ত্রী