php glass

পাঁচশতাধিক বছরের ঐতিহাসিক ‘খোজার মসজিদ’

মাহমুদ এইচ খান, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

খোজার মসজিদ। ছবি: বাংলানিউজ

walton

মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে মোস্তফাপুর ইউনিয়নের গয়ঘড় গ্রামে ৫ শত বছরের ইতিহাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গয়ঘড় খোজার মসজিদ। গ্রামীন রাস্তার পাশে একটি টিলার মতো স্থানে খোজার মসজিদ সতের শতাব্দির ইতিহাসের সাক্ষ্য দিচ্ছে বিংশ শতাব্দীকে। ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে এই মসজিদটি মুসলমান ধর্মালম্বী ছাড়া অন্যান্য ধর্মের মানুষের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।

জানা যায়, খোজার মসজিদ নির্মাণ করা হয় সুলতান বরবক শাহের ছেলে সুলতান শামসউদ্দীন ইউছুফ শাহর আমলে। ১৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। সিলেটের হজরত শাহজালালের মসজিদ ও খোজার মসজিদের শিলালিপিতে উল্লেখ থাকা মজলিস আলম একই ব্যক্তি। মসজিদ দুটি নির্মিত হয়েছিল চার বছরের ব্যবধানে।

খোজার মসজিদের নামকরণ নিয়ে অনেক লোককথা রয়েছে, তবে প্রচলিত আছে বাংলার সুবেদাহার মানসিংহের কাছ থেকে বিতাড়িত হয়ে পলায়নের সময় পাঠান বীর খাজা উসমান মসজিদটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই থেকে খাজা নামের অপভ্রংশ ‘খোজা’ থেকে এর নামকরণ।

স্থানীয় লোকজনের বিশ্বাস, একসময় এই এলাকা ঘন জঙ্গলে পূর্ণ ছিল। সেময়  মসজিদ যখন নির্মাণ করা হচ্ছিল তখন এ এলাকায় বাঘের বিচরণ ছিল। সময়ই কোনো বাঘ মসজিদের কাঁচা দেয়ালে থাবা বসিয়েছিল। কয়েক শ বছর ধরে টিকে আছে সেই চিহ্ন। দেয়ালের ওপরের দিকে আরবি লেখা ও বিভিন্ন ফুলের আঁকা। পশ্চিমের দেয়ালে কৃষ্ণ পাথরের বহু পুরোনো একটি শিলালিপি। চুরি ঠেকাতে লোহার খাঁচার বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে এতে। শিলালিপি থেকে এই মসজিদের ইতিহাস জানা যায়। তবে সাধারণ মানুষ তা পড়তে পারেননা।

স্থানীয়দের ভাষ্যে এই মসজিদের বাইরে দুটি বড় কষ্টিপাথর ছিল। পাথর দুটিকে জীবন্ত পাথর বলা হত। প্রচলিত আছে, এগুলো রাতের আঁধারে ঘোরাফেরা করত। তাই মানুষ পাথর দুটিকে মনে করত জীবন্ত। পাথরে হাত দিয়ে অনেকে সে হাত লাগাতেন মুখে-বুকে। ভক্তি করে পাথর ধোয়া পানিও খেতেন। পাথর নিয়ে হেলাফেলা করলে সেগুলো কেউ তুলতে পারতেন না। পরে পাথর দু’টি চুরি হয়ে যায়।.পবিত্র রমজান উপলক্ষে এই মসজিদে ধর্মপ্রাণ মানুষের সমাগম বাড়ে। অন্যান্য সময়ে এই সমজিদে বিভিন্ন ধরর্মের মানুষের উপস্থিতি হলেও রমজানে শুধুমাত্র মুসলিমরা সেখানে ইবাদত করতে আসেন। রমজানের ফজিলত কামনায় সেখানে তারাবির নামজে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ প্রতিনিয়ত উপস্থিত হন বলে বাংলানিউজকে জানান মসজিদের ছানী ইমাম আরব আলী।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিদিন তারাবির নামাজ আদায় করতে প্রায় ৬ থেকে ৭ শত মানুষ এখানে আসেন। মসজিদের ভেতরে তাদের জায়গা না হওয়াতে মসজিদের আঙ্গিনায় তারা নামাজ আদায় করেন।

রমজানবিষয়ক যেকোনো লেখা আপনিও দিতে পারেন। লেখা পাঠাতে মেইল করুন: [email protected]

বাংলাদেশ সময়: ১১৫০ ঘন্টা, মে ২৫, ২০১৯
এমএমইউ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: মৌলভীবাজার
একই দিনে ঢাকায় ‘ফ্রোজেন ২’ ও ‘ফোর্ড ভার্সেস ফেরারি’
বইয়ের দোকানের সামনে নারীর মরদেহ
আকাশপথে পেঁয়াজ আমদানির চার্জ মওকুফ
করপোরেট গ্রাহকের তথ্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেয়ার নির্দেশ
প্রথম রাউন্ডে পিচ করলো দেশের ১৬টি দল


সব বয়সের পুরুষের জন্য ইনফিনিটির ব্লেজার 
ম্যারাডোনা এবার থাকলেন তিন মাস
শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন সড়ক আইন, শাস্তির জন্য নয়: সেতুমন্ত্রী
কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনা: তদন্ত কমিটির ৫ দফা সুপারিশ
৯০ শতাংশ শ্রমিককে ডিজিটাল ওয়েজ পেমেন্টের আওতায় আনা হবে