php glass

রমজানে পুণ্য লাভের সুবর্ণ সুযোগ

মো. তাহলীল আজীম, অতিথি লেখক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

রমজানে পুণ্য লাভের সুবর্ণ সুযোগ

walton

রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের পুণ্যময় সময় হলো রমজান। মহান আল্লাহর অপার দানে আবৃত মাস। পঙ্কিলতার খোলস ছিঁড়ে পুণ্যের ময়দানে গমন করার জন্যে মহান প্রভুর পক্ষ থেকে এক মহা সুযোগ। এ পবিত্র মাসে একেকটি আমলের বদৌলতে সত্তর গুণ সওয়াবের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে হাদিসে। অল্পতেই আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের এক অমিয় সুধা যেন এই রমজান।

রাসুল (সা.)-এর হাদিসে এ মাসের অসাধারণ কিছু বর্ণনা এসেছে। তিনি ইরশাদ করেন, ‘যখন রমজান মাস আসে, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নমের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করে রাখা হয়।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ২৩৬৬)

হাদিসে কুদসিতে রাসুল (সা.) আল্লাহ তাআলার ভাষ্য বর্ণনা করে বলেন, ‘রোজা আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেবো।’ (বুখারি, হাদিস নং: ১৮৯৪)

কতই না বরকতপূর্ণ সে মাস যে মাসের প্রতিদান রব্বেকারীম সয়ং নিজেই দেবেন। তাই বুদ্ধিমান মুমিন বান্দাতো সেই, যে এ রমজানের বিশাল সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগায় এবং প্রভুর নৈকট্য হাসিলে সচেষ্ট হয়। আল্লাহর নৈকট্য ও তাকওয়া অর্জনের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে তোমরা যারা ইমান এনেছ, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হল যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩)

আর রোজাদার ব্যাক্তির জন্য আল্লাহ্ তাআলা দুটি মহাপুরষ্কারের ব্যবস্থা রেখেছেন। যার একটি দুনিয়াতে আরেকটি আখেরাতে। হাদিসে এসেছে, ‘রোজাদার ব্যাক্তি দুটি আনন্দ লাভ করবে। একটি আনন্দ হলো, ইফতারের মূহুর্তে। অপরটি হবে তার প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাতের মূহুর্তে।’ (মিশকাত, পৃষ্ঠা: ১৫৭)

রোজাদার ব্যক্তি প্রতিদিন ইফতারের মুহূর্তে নগদ পাওনা হিসেবে ‘প্রথম আনন্দ’ ভোগ করে থাকে। সারাদিনের রোজা শেষে সামান্য এক ঢোক ঠান্ডা-পানি যেন তাকে নিয়ে যায় কোনো এক নৈসর্গিক অনুভবে। এ তো দুনিয়ার মজুরি রোজাদারের দিন শেষে। তাতেই কি আনন্দের শিহরণ জাগে শরীর জুড়ে। তবে কেয়ামতের দিন মহান প্রভুর সাক্ষাৎ লাভে যে আনন্দের ফোয়ারা বইবে রোজাদারের মাঝে, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে!

তাই মহান আল্লাহর সাক্ষাতের আনন্দ পেতে হলে, চাই যথাযথ সিয়াম-স্বাধনা। আর এ কারণে মহান আল্লাহ ও তার রাসূল আমাদের দিয়েছেন রমজান মাসের কিছু দিকনির্দেশনা। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা খাও এবং পান করো তখন পর্যন্ত যখন তোমাদের সামনে সুবহ সাদিকের আলোকচ্ছটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে কালোরেখা থেকে। অতঃপর সুবহ সাদিক থেকে রাত আসা পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮)

রমজান সম্পর্কে কোরআনে বর্ণিত আল্লাহর নির্দেশনা এটি। এ বিষয়ে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি  (রোজা রাখার পরও) মিথ্যা বলা ও খারাপ কাজ করা বর্জন করেনি, তার পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বুখারি, হাদিস নং: ১৯০৩)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, রোজা পালনের পাশাপাশি আখলাক ও অন্যান্য নেক আমলের প্রতি যত্নবান হওয়াও জরুরি। কেননা শুধু পানাহার পরিত্যাগ করে অন্যান্য সদামলের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে  রোজার পূর্ণতা লাভ করা অসম্ভব।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানের প্রধান উদ্দেশ্য তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জনের পাশাপাশি অন্যান্য গুণাবলিও অর্জনের তাওফিক দান করুন।

রমজানবিষয়ক যেকোনো লেখা আপনিও দিতে পারেন। লেখা পাঠাতে মেইল করুন: [email protected]

বাংলাদেশ সময়: ১১১৮ ঘণ্টা, মে ১৮, ২০১৯
এমএমইউ

বইয়ের দোকানের সামনে নারীর মরদেহ
আকাশপথে পেঁয়াজ আমদানির চার্জ মওকুফ
করপোরেট গ্রাহকের তথ্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেয়ার নির্দেশ
প্রথম রাউন্ডে পিচ করল দেশের ১৬টি দল
সব বয়সের পুরুষের জন্য ইনফিনিটির ব্লেজার 


ম্যারাডোনা এবার থাকলেন তিন মাস
শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন সড়ক আইন, শাস্তির জন্য নয়: সেতুমন্ত্রী
কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনা: তদন্ত কমিটির ৫ দফা সুপারিশ
৯০ শতাংশ শ্রমিককে ডিজিটাল ওয়েজ পেমেন্টের আওতায় আনা হবে
গ্রামেও এডিস মশার প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা করছেন মন্ত্রী