রমজান কোরআন তেলাওয়াতে প্রাণবন্ত হোক

মুহাম্মাদ হেদায়াতুল্লাহ, অতিথি লেখক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি : প্রতীকী

walton

রমজান মাসে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনসহ অনেক আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। তাই এ মাস কোরআন অবতীর্ণের মাস হিসেবে সমাদৃত। রমজানের সঙ্গে কোরআনের আছে গভীর সম্পর্ক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘রমজান মাস যাতে কোরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে মানুষের জন্য সঠিক পথের দিশাদানকারী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নিরূপনকারী হিসেবে।’(সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৬)।

php glass

কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অন্তরে তৈরি হয় প্রশান্তি। বিগলিত হয় হৃদয়জগত। কেটে যায় দুঃখ-ব্যথা ও দুশ্চিন্তা। তাই আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দাদের কোরআন তেলাওয়াতে উদ্বুদ্ধ করেন। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আর তোমরা কোরআন (বিশুদ্ধভাবে) তেলাওয়াত করো।’ (সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত : ৪)।

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘তোমরা ধীরে ধীরে তেলাওয়াত করো। যেন কোরআন বোঝা, ভাব অনুধাবন করা ও চিন্তা করা সহজতর হয়। এমনিভাবেই প্রিয়নবী (সা.) কোরআন তেলাওয়াত করতেন।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির)।

কোরআন তেলাওয়াতকারীর জন্য কেয়ামতের দিন সুপারিশ করবে। আবু উমামা বাহিলি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা কোরআন তেলাওয়াত করো, তা কেয়ামতের দিন তেলাওয়াতকারীদের জন্য সুপারিশ করতে আসবে। তোমরা ‘যাহরাওয়ান’ বা সুরা বাকারা ও সুরা আলে ইমরান তেলাওয়াত করো। তা কেয়ামতের দিন মেঘমালা হয়ে আসবে বা সারিবদ্ধ পাখির ঝাঁক হয়ে এসে তেলাওয়াতকারীদের রক্ষা করবে। তোমরা সুরা বাকারা তেলাওয়াত করো। এতে সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে এবং তা ত্যাগ করলে হতাশা বাড়বে। আর এ সুরার সঙ্গে জাদুকররা কিছু করতে পারে না অর্থাৎ তা পাঠের দ্বারা জাদু থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।’ (মুসলিম)।

কোরআন তেলাওয়াতে মানুষের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকা চাই। কারণ যে যত সুন্দরকরে তেলাওয়াত করবে, তার মর্যাদা ততো বৃদ্ধি পাবে। প্রত্যেকে নিজের সামর্থ্য অনুসরারে তেলাওয়াত করবে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে বিশুদ্ধভাবে সুন্দরকরে কোরআন তেলাওয়াত করবে, কেয়ামতের দিন সে সৎ সম্মানিত ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকবে। আর যে কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তেলাওয়াত করবে, তার জন্য দুটি প্রতিদান থাকবে।’ (বাইহাকি)।

কোরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি অর্থ-ভাব, বিষয়বস্তু, বিধি-বিধান ও নিদর্শনাবলি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা চাই। এতে বুদ্ধির পরিপক্কতা বাড়বে। চিন্তাজগত শাণিত হবে। তাই আল্লাহ তাআলা মুমিনদের পাশাপাশি কাফিরদেরও কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে উৎসাহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা কি কোরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না, নাকি তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?’ (সুরা মুহাম্মাদ,আয়াত : ২৪)।

অপর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আমি আপনার কাছে এ বরকতময় কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাতে তারা এর আয়াত নিয়ে চিন্তা করে এবং বুদ্ধিমানরা তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।’ (সদ, আয়াত : ২৯)।

রমজানবিষয়ক যেকোনো লেখা আপনিও দিতে পারেন। লেখা পাঠাতে মেইল করুন: [email protected]

বাংলাদেশ সময়: ১২৫৩ ঘণ্টা, মে ১৫, ২০১৯
এমএমইউ

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে কাটলো বিনিয়োগ সংকট, গতি কাজে
রংপুরে হোটেল-বেকারির অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট
ভবন থেকে ফেলে দেওয়ায় নবজাতকের মৃত্যু
মেসির গোলেও শিরোপা ধরে রাখতে পারল না বার্সা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবক নিহত


পাহাড়ি ফুটবলকন্যা মনিকার বিশ্বজোড়া খ্যাতি!
জাহাজশিল্পে ক্যারিয়ার গড়ুন বাগেরহাট মেরিন ইনস্টিটিউটে
চকরিয়ায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু
এতিমখানা ও মাদ্রাসায় ঈদ বস্ত্র বিতরণ
বিপদসীমার নিচে মনু নদের পানি, জনমনে স্বস্তি