php glass

২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ বড় মসজিদ

এম আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী বড় মসজিদ, ছবি: বাংলানিউজ

walton

ময়মনসিংহ: ইতিহাস-ঐতিহ্যের নগরী হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহ। আর এখানে প্রাচীনতম ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন হয়ে আছে ময়মনসিংহ বড় মসজিদ। জেলার গোড়াপত্তনের আগেই নির্মিত হয় এ মসজিদ।

ইতিহাস বলে, বড় মসজিদটি শুধু ব্রিটিশ আমল নয়, আরো আগে ময়মনসিংহে মুসলমানদের অবস্থানের ইতিকথা। 

এমনকি ময়মনসিংহের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে লেখা বিভিন্ন গ্রন্থে বড় মসজিদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। প্রতি জুমাবারে এ মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি থাকে অনেক বেশি। প্রতি রমজানেই পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে জেলার সবচেয়ে বড় উঁচু মিনারের এ মসজিদে। 

জেলার সবচেয়ে বড় তারাবির নামাজ নগরীর চকবাজার এলাকার প্রাচীন এ মসজিদে হয়। কমপক্ষে ৪ হাজার মুসল্লি একত্রে তারাবির নামাজ আদায় করেন। ফলে প্রতিবারই সংযম ও আত্মশুদ্ধির এ মাসে নতুন চেহারা পায় মসজিদটি। 

গ্রিল থেকে শুরু করে সবকিছুতেই নতুন রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। অজুখানার পানি ও হাউজের পানি পরিবর্তন করা হয়েছে। শৈল্পিক স্থাপনা হিসেবেও অনন্য বৈশিষ্ট্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে মসজিদটিকে। 

ময়মনসিংহের নগর সভ্যতার বিকাশে স্থানীয় হিন্দু-মুসলমান সমাজের সহাবস্থান ছিলো। বড় মসজিদের অবস্থান তারই ঐতিহাসিক দলিল। ব্রিটিশ আমলে এ মসজিদটির উন্নয়ন হয়। কোনো কোনো ইতিহাসবিদ বলেন, সে সময়ে টিনের ছাপড়া ঘরে মসজিদটি নির্মাণ হয়। 

অন্য ঐতিহাসিক সূত্র মতে, সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের আমলেই এই এলাকায় মুসলমান সমাজের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বড় মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। ময়মনসিংহ শহরের গোড়াপত্তনের সময় শহরের বিভিন্ন স্থানে ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়।

ওই সময় বড় মসজিদ এলাকার মুসলিম বসতির জায়গা জমি অধিগ্রহণ হয়। কিন্তু ঐতিহ্যের কারণে বড় মসজিদ তার স্থানে কালের স্বাক্ষী হয়ে থাকে। 

প্রায় পৌনে ২’শ বছরের ঐতিহ্য ধারণ করছে ময়মনসিংহ বড় মসজিদ। তবে ১৯৩৫ সালে বেঙ্গল ওয়াকফ অ্যাক্টের আওতায় বড় মসজিদ পাবলিক অ্যাস্টেটে রূপান্তরিত হয়। 

১০৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮৫ ফুট প্রস্থের ময়মনসিংহ বড় মসজিদে প্রায় ৯ হাজার মানুষ একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন। তিন তলার দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদটি প্রায় ১ দশমিক ৯ একর জমির ওপর নির্মিত। প্রতি তলায় ১৮ টি কাতার হয়। 

এ মসজিদে আছে মনকাড়া সুশোভিত গম্ভুজ। ছাদের চারদিকে সুউচ্চ বিশাল চারটি মিনার। এর মধ্যে দু’টি মিনার ১২৫ ফুট লম্বা আকৃতির। প্রতিটি গম্বুজ ও মিনার চীনা মাটির বিচিত্র রঙের বাসন ভাঙা ও কাচঁ দিয়ে কারুকার্য খচিত। ছাদের রেলিংও দেখতে গম্বুজের আদলে! 

এ মসজিদের মেঝেও মোজাইক পাথরের। দেয়ালও মনোরম টাইলসের। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ মসজিদে শব্দ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আধুনিক ব্যবস্থা। 

ময়মনসিংহ বড় মসজিদ ময়মনসিংহ বিভাগের কেন্দ্রীয় দ্বীনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। বড় মসজিদে মসজিদকেন্দ্রিক একটি বড় আবাসিক হাফিজি ও কাওমি মাদ্রাসা রয়েছে।  এখানে পাঠদান করা হয় ‘দাওরা হাদিস’ পর্যন্ত। আছে একটি লাইব্রেরিও। 

দীর্ঘ ৫৬ বছর এ বড় মসজিদের ইমাম ছিলেন হজরত মাওলানা ফয়জুর রহমান (রহ:)। এরপর থেকে মসজিদটির ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা আব্দুল হক। 

ব্রক্ষপুত্র নদ তীরবর্তী ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রাণকেন্দ্রে নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানা সংলগ্ন ময়মনসিংহ বড় মসজিদ যুগ যুগ ধরে নগরীর অন্যতম ল্যান্ডস্ক্যাপ হয়ে আছে। 

মসজিদটির মোয়াজ্জিন মাওলানা আব্দুস সামাদ (৫২) বাংলানিউজকে জানান, প্রতি বছরের মতো এবারো পবিত্র মাহে রমজানে চলছে বয়স্কদের জন্য মাসব্যাপী কোরআন শিক্ষা কার্যক্রম। এ কার্যক্রম চলবে ২০ রমজান পর্যন্ত। পাশাপাশি শুদ্ধভাবে আরবি সাহিত্যের প্রশিক্ষণ ও দাওয়াতি কার্যক্রমও চলছে। তাছাড়া পবিত্র রমজানে অসংখ্য মুসল্লি এ মসজিদে ইতিকাফও করেন। 

রমজানবিষয়ক যেকোনো লেখা আপনিও দিতে পারেন। লেখা পাঠাতে মেইল করুন: [email protected]

বাংলাদেশ সময়: ০৯৪০ ঘণ্টা, মে ১৫, ২০১৯
এমএএএম/এমএমইউ

শ্রীমঙ্গলে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রির দায়ে জরিমানা
এমবাপ্পের জন্য ৪০০ মিলিয়ন ইউরো অফার করবে রিয়াল!
বিত্তবানরা দলকে পৈত্রিক সম্পত্তিতে পরিণত করেছেন: নাছির
ডোবা থেকে নবজাতকের মরদেহ টেনে তুললো কুকুর
বরিশালে চরে আটকে পড়া লঞ্চের যাত্রীদের উদ্ধার


খান পরিবারের ৪ জনের হাতে সেরা করদাতার সম্মাননা
নাইরোবি সামিটে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ৫ প্রতিশ্রুতি
ট্রাকচালক বেশে ইয়াবা পাচার, আটক ১
বাংলাদেশ থেকে কেউ বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা চালাতে পারবে না
ভর্তি ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে শাবিপ্রবিতে বিক্ষোভ