php glass

ঐতিহ্যবাহী কমলাপুর জামে মসজিদে ইফতার-তারাবি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঐতিহ্যবাহী কমলাপুর জামে মসজিদ। ছবি: বাংলানিউজ

walton

বরিশাল: সুলতানি আমলে পোড়ামাটি দিয়ে তৈরি ঐতিহাসিক কমলাপুর জামে মসজিদ। বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে অবস্থিত। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট আয়তাকার এ মসজিদটি সতেরো শতকের শেষ দিকে নির্মাণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

১.৮৩ মিটার বা ৬ ফুট পুরু দেয়ালবিশিষ্ট মসজিদটি উত্তর-দক্ষিন দিকে ১৭.২২ মিটার বা ৫৬ ফুট দৈর্ঘ্য এবং পূর্ব-পশ্চিম দিকে ৮.০৮ মিটার  বা ২৬ ফুট দৈর্ঘ্য।

ঐতিহ্যবাহী কমলাপুর জামে মসজিদের দৃশ্য। ছবি: বাংলানিউজ

দেয়ালগুলিতে বহুখাঁজ বিশিষ্ট খিলানযুক্ত প্রবেশপথ রয়েছে। পূর্ব দিকে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে একটি করে মোট দুইটি। সর্বমোট ৫টি প্রবেশপথ রয়েছে। পূর্ব পাশে মসজিদের মধ্যভাগের প্রবেশ পথটি বাকিগুলোর থেকে বড় হওয়ায় এটিকে প্রধান ফটক হিসেবেই ব্যবহার করা হয়।

মসজিদের কিবলার দিকে তিনটি অর্ধ-অষ্টভুজ মিহরাব আছে। এর মধ্যে মাঝখানের মিহরাবটি বাইরের দিকে অভিক্ষিপ্ত এবং দুপ্রান্তে দুটি ছোট অষ্টভুজ বুরুজ রয়েছে। 

পাশাপাশি ইটের তৈরি এই মসজিদকে খিলানের সাহায্যে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যার প্রত্যেকটি ভাগে একটি করে সামান্য কন্দাকৃতির গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের মধ্যখানের কেন্দ্রীয় গম্বুজটি অপর দুটি অপেক্ষা বড়। গম্বুজগুলির শীর্ষে রয়েছে পদ্ম-কলসের নকশা।

সম্মুখ থেকে ঐতিহ্যবাহী কমলাপুর জামে মসজিদের দৃশ্য। ছবি: বাংলানিউজ

মসজিদের অলংকরণের মধ্যে রয়েছে সুলতানি বৈশিষ্ট্যের পোড়ামাটির কাজ। প্রবেশপথের আয়তাকার অংশে প্যাঁচানো ফুলেল নকশা, গোলাপ নকশা, জালি নকশা প্রভৃতি মোটিফ সম্বলিত পোড়ামাটির ফলক দিয়ে সাজানো হয়েছে। এছাড়াও মিহরাবের বহুখাঁজ নকশাগুলি অসাধারণ।

এছাড়াও মসজিদের তিনপাশ দিয়ে রয়েছে হাটার রাস্তা এবং মসজিদের সামনের অংশে রয়েছে সুবিশাল বসার স্থান, যার পূর্বদিকে (সামনের অংশে) ছোট ছোট চারটি  স্তম্ভ রয়েছে।

মসজিদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সৈয়দ সুমন আহমেদ বাংলানিউজকে জানান, প্রধান প্রবেশপথে যে শিলালিপিটি ছিল তা হারিয়ে যাওয়ার কারনে মসজিদের নির্মাণসময় সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের হিসেবে সতেরো শতকের শেষ ভাগে এটি নির্মাণ হয়েছিলো।

কমলাপুর জামে মসজিদের প্রধান ফটকের দৃশ্য। ছবি: বাংলানিউজ

তিনি জানান, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।  বহুবার সংস্কার কাজও হয়েছে মসজিদটিতে তবে ১৯৮৭ ও ২০১২ সালের সংস্কার কাজ তিনি নিজেই দেখেছেন।

তিনি বলেন, ঝড়ের কারণে মসজিদের গম্বুজগুলোর ওপর থাকা কলসের নকশা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাছাড়া আরো কিছু সমস্যা রয়েছে, যে জন্য এখন আবার মেরামত প্রয়োজন। তবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পক্ষ থেকে মসজিদটি দেখভালের জন্য নিয়মিতো একজন লোক আগে থাকলেও এখন তিনি নিয়মিতো নন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ২৬ শতক জায়গার ওপর মসজিদ কমপ্লেক্সের পাশেই এখন একটি মাদ্রাসা রয়েছে। যেখানকার শিক্ষক-শিক্ষর্থীরাই মসজিদের দেখভাল এখন করেন। মসজিদ ভবনের উত্তরপূর্ব কোণে একটি বিদেশী সংস্থা ওজুখানা নির্মান করে দিয়েছেন। এছাড়াও ওজুর জন্য মসজিদের পূর্বদিকে পুকুর রয়েছে।

মসজিদের ভেতরের দৃশ্য। কিছুটা জরাজীর্ণ। ছবি: বাংলানিউজ

মসজিদের নিয়মিত মুসল্লিরা বাংলানিউজকে জানান, বহু বছর ধরে এ মসজিদে স্থানীয়দের সহায়তায় রমজানমাসে ইফতারের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এছাড়াও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি রমজানে তারাবির নামাজসহ সকল ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করা হয়।

সৈয়দ সুমন আহমেদ নামে একজন বাংলানিউজকে জানান, মসজিদের ভেতরের অংশে ৩ টি কাতারে ৮০-৯০ জন একসাথে নামাজ আদায় করতে পারে, এছাড়া বাহিরের অংশ নিয়ে ২ থেকে ৩ শত মুসল্লী নামাজ আদায় করেন।  এই মসজিদে বর্তমানে স্থানীয়দের উদ্যোগে ইফতারে ২ শত লোকের আয়োজন করা হচ্ছে।তারাবিতেও বহু লোকের সমাগম ঘটে। তবে বিশেষ করে শুক্রবারে দূর-দুড়ান্ত থেকে জুমআর নামায আদায় ও মসজিদ দেখতে মানুষ এখানে বেশি আসেন।

রমজানবিষয়ক যেকোনো লেখা আপনিও দিতে পারেন। লেখা পাঠাতে মেইল করুন: [email protected]

বাংলাদেশ সময়: ১৭১৪ ঘণ্টা, মে ১৩, ২০১৯
এমএস/এমএমইউ

নেইমারের বিনিময়ে ফাতিকে চায় পিএসজি!
রিটার্ন জমার ক্ষেত্রে হয়রানি করলে ব্যবস্থা
পোস্টমর্টেম রিপোর্ট স্পষ্ট অক্ষরে লেখার নির্দেশ
বঙ্গবন্ধু-প্রধানমন্ত্রীকে ছাপিয়ে ছোট নেতাদের বড় ছবি!
মন্দবাগ ট্রাডেজির জন্য দায়ী তূর্ণার লোকোমাস্টার-গার্ড


এবার বসুন্ধরা কিংসে এক আর্জেন্টাইন
গাইবান্ধায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহায়তা চাইলেন শাহরিয়ার আলম
সিলেটে মোবাইলফোনসহ ৪ চোরাকারবারি আটক
‘নতুন সড়ক পরিবহন আইনে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়’