চতুর্থ রমজানে

উসমানিরা সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড জয় করে

ইসলাম ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড। ছবি: সংগৃহীত

walton

আজ পবিত্র রমজানের চতুর্থ দিন। এ দিনে ঘটে যাওয়া ইসলামি ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা পাঠকের কাছে তুলে ধরা হলো।

php glass

এক. প্রথম হিজরির এদিনে রাসুল (সা.) হামজা বিন আবি তালেব (রা.)-কে ৩০ জন সৈন্যের আমির নিযুক্ত করে আবু জাহেলের নেতৃত্বে শাম থেকে আসা তিন শ সদস্যের বাণিজ্যিক কাফেলার গতিরোধ করতে প্রেরণ করেন। রাসুল (সা.)-এর প্রদত্ত প্রথম ঝাণ্ডা ছিল এটি। উভয় পক্ষ সমুদ্র তীরে মুখোমুখি হলেও মাজদি বিন আমরের প্রচেষ্টায় কোনো যুদ্ধ হয়নি।

দুই. ২৬২ হিজরির এদিন সেনাপতি বখতিয়ার বিন মুইজ্জুদ দাওলাহ বুওয়াইহ বাইজান্টাইন সম্রাজ্য আক্রমণ করার জন্য আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহর নেতৃত্বে একটি বাহিনী প্রেরণ করেন। এ যুদ্ধে রোমানরা চরমভাবে পরাজিত হয় এবং সেনাপতি দামাস্তাক বন্দী হয়।

তিন. ৬৬৬ হিজরির এদিন প্রখ্যাত সেনানায়ক জাহির রুকুনুদ্দিন বাইবার্স ক্রুসেডারদের ওপর বিজয় লাভ করেন এবং আনতাকিয়া নগর ফিরিয়ে নেন।

চার. ৬৯৪ হিজরির এদিনে দিল্লির সম্রাট জালালুদ্দিন ফিরোজ শাহ তুঘলক নিহত হন।

পাঁচ. ৯২৭ হিজরিতে উসমানিরা মধ্য ইউরোপের সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড জয় করে। এটি ছিল ইউরোপের প্রবেশদ্বার। ইরোপের সবচেয়ে সুরক্ষিত দূর্গ ছিল এখানেই। তিন বার আক্রমণ করা হলেও সর্বশেষ সুলতান সুলাইমান খান কানুনির সময়ে তা বিজয় করা সম্ভব হয়। 

ছয়. ১০৭৩ হিজরিতে দীর্ঘ ৫৮ বছর পর জার্মানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেয় উসমানি সম্রাজ্য। ১৯০৬ সালের কৃত ‘সেটাফাট্রুক’ শান্তি চুক্তি (satfatourok treaty)-এরপর সব ধরনের যুদ্ধ স্থগিত থাকলেও জার্মান উসমানি খেলাফতের সীমানার ভেতর দূর্গ নির্মাণ শুরু করলে আবার উভয়ের মাঝে শুরু হয় যুদ্ধ।

সাত. ১৩৬৩ হিজরিতে (১৯৪৪ সালের ২৩ আগস্ট) উসমানি খেলাফতের শেষ সুলতান দ্বিতীয় আবদুল মাজিদ ইন্তেকাল করেন। তিনি ১৯২২ সালের ১৯ নভেম্বর খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেও ১৯২৪ সালের ৩ মার্চে কুচক্রী ইহুদিগোষ্ঠী, বৃটিশ সরকার ও দেশীয় ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর সহায়তায় তাকে খেলাফত থেকে অপসারণ করা হয়। এরই মাধ্যমে মৃত্যু ঘটে ইসলামী খেলাফতের।

এরপর উসমানি বংশের রাজকুমার ও রাজকুমারীসহ পুরো বংশধরদের তুরস্ক থেকে দেশান্তর করা হয়। মিশরের তৎকালীন সম্রাট ফুয়াদের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করলে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। অতঃপর তিনি ফ্রান্সের নিস নগরের একটি পুরোনো বাড়িতে ভাড়া থাকতে শুরু করেন। এ সময়ে তিনি প্যারিস জামে মসজিদে মুসলিমদের আলোচনার বৈঠকগুলোতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। বার্ধক্যে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে শহরের বিভিন্ন লাইব্রেরি ও মিউজিয়ামে যেতেন।

তীব্র অভাবে অতিষ্ঠ হয়ে পরিবারের কিছু লোক মিশর চলে যায়। তিনি মেয়েকে নিয়ে চলে যান ভারতের হায়দারাবাদ প্রদেশের গভর্নর নেজামুদ্দিনের কাছে। অর্পূব সুন্দরী মেয়ে খাদিজাকে বিয়ে দেন হায়দারাবাদের শেষ গভর্নর উসমান আলি খানের সঙ্গে। ১৯৪৪ সালের ২৩ আগস্টে মারা যান সুলতান আবদুল মাজিদ। অসিয়ত অনুযায়ী তাকে তুরষ্কের পূর্বপুরুষদের কবরের পাশে দাফনের আপ্রাণ চেষ্টা করেন কন্যা খাদিজা আয়িশা দার শাহওয়ার। কিন্তু তুর্কি সরকার তার আবেদন গ্রহণ করেনি।

দীর্ঘ ১০ বছর পর ১৯৫৪ সালের ৩০ মার্চ সৌদি সরকার সাউদ বিন আবদুল আজিজ মেয়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে জান্নাতুল বাকিতে করব দেওয়ার অনুমতি দেয় এবং সেখানেই ইসলামি খেলাফতের সর্বশেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল আজিজকে দাফন করা হয়।

সংকলন ও গ্রন্থনা: মুহাম্মাদ হেদায়াতুল্লাহ

রমজানবিষয়ক যেকোনো লেখা আপনিও দিতে পারেন। লেখা পাঠাতে মেইল করুন: [email protected]

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩১ ঘণ্টা, মে ১০, ২০১৯
এমএমইউ

পাকিস্তান দল থেকে বাদ পড়ে জুনায়েদের অভিনব প্রতিবাদ
টিকিট বিক্রিতে প্রস্তুত রেলওয়ে
খুলনার মহাসড়ক চলনসই, জেলা সড়কে দুর্ভোগ
মানিকছড়িতে এক ব্যক্তির গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার
ত্রিপুরার বাজারে বিখ্যাত কুইন আনারস


মহেশপুরে যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার
পদ্মাসেতু ৫৩৭০, মেট্রোরেল পাচ্ছে ৭২১২ কোটি টাকা
কদর বেড়েছে চাঁই-বুচনার
ঐতিহ্যের সাক্ষী দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির
‘জুলুম সব সময় গরিবের ওপরই হয়’