রমজানে মুমিনের দৈনন্দিন কর্মসূচি

ইসলাম ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি : প্রতীকী

walton

কল্যাণ, ক্ষমা ও সৌভাগ্যের মাস আমাদের মাঝে উপস্থিত। এ মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রমজানের মহামূল্যবান সময়গুলো যথাযথভাবে কাজে লাগাতে কী কী করা যায়? পাঠকদের সুবিধার্থে একটি তালিকা দেওয়া হলো, যেন সুযোগ-সুবিধা মতো এ মাসের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগিয়ে আখেরাতের জন্য সঞ্চয় করে রাখা যায়।

php glass

ফজরের আগে
এক.
আল্লাহর দরবারে তাওবা-ইস্তেগফার ও দোয়া: কারণ মহান আল্লাহ প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করে বলেন, ‘কে আছে আমার কাছে দোয়া-প্রার্থনাকারী, আমি তার দোয়া কবুল করবো।’ (মুসলিম)

দুই.  সাহরি খাওয়া : নবী (সা.) বলেন, ‘সাহরি খাও। কারণ সাহরিতে বরকত রয়েছে।’ (বুখারি, মুসলিম)

ফজরের পর
এক.  ফজরের সুন্নত আদায়, রাসুল (সা.) বলেন, ‘ফজরের দুই রাকাত সুন্নত দুনিয়া ও দুনিয়ার মাঝে যা আছে তার থেকে উত্তম।’ (মুসলিম)

দুই. ইকামত পর্যন্ত দোয়া ও জিকিরে মশগুল, নবী (সা.) বলেন, ‘আজান ও ইকামতের মাঝে দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ (আহমদ, তিরমিজি, আবু দাউদ)

তিন. ফজরের নামাজ আদায়, নবী (সা.) বলেন , ‘তারা যদি ইশা ও ফজরের ফযীলত জানতো, তো হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হতো।’ (বুখারি ও মুসলিম)

চার. সূর্যোদয় পর্যন্ত জিকির-তেলাওয়াতের মাধ্যমে মসজিদে অবস্থান: ‘প্রিয়নবী (সা.) ফজর নামাজের পর নিজ স্থানেই সূর্যোদয় পর্যন্ত অবস্থান করতেন।’ (মুসলিম)

পাঁচ. সূর্যোদয়েরে পর দুই রাকাত নামাজ নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ পড়লো, অতঃপর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর জিকির করলো, তারপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করলো, তার জন্য এটি একটি পূর্ণ হজ ও ওমরার মতো।’ (তিরমিজি)

ছয়. কিছু সময় বিশ্রাস নিয়ে নিজের কাজে (সম্ভব হলে) যোগ দেওয়া। নবী (সা.) বলেন, ‘নিজ হাতের কর্ম দ্বারা উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাবার নেই।’ (বুখারি)

জোহরের সময়
এক. জামাতের সঙ্গে জোহরের নামাজ আদায়। অতঃপর কিছুক্ষণ কোরআন তেলাওয়াত কিংবা ধর্মীয় বই পাঠ।
দুই. আসর পর্যন্ত বিশ্রাম নেওয়া। কারণ  রাসুল (সা.) বলেন,  তোমার ওপর তোমার শরীরেরও হক আছে।

আসরের সময়
এক. আসরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা। সম্ভব হলে নামাজিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য কিংবা শোনা অথবা পরস্পর আলোচনা করে জ্ঞান অর্জন করা। নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মসজিদে ভাল কিছু শিক্ষা নিতে কিংবা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে গেল, সে পূর্ণ এক হজের সমান নেকি পেলো।’ (তাবারানি)

দুই. পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইফতারির আয়োজনে সহায়তা করা। এর মাধ্যমে কাজের চাপ হাল্কা হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভালবাসাও বৃদ্ধি পায়।

মাগরিবের সময় 
এক. ইফতারি করা এবং এই দোয়া পড়া: ‘জাহাবায্ জামাউ ওয়াব্ তাল্লাতিল্ উরূকু ওয়া সাবাতাল্ আজরু ইন্ শাআল্লাহু তাআলা।’ অর্থ: তৃষ্ণা নিবারিত হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং ইনশাআল্লাহ সওয়াব নির্ধারিত হলো। (আবু দাউদ)

দুই. মাগরিবের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা। যদিও ইফতারি পূর্ণরূপে না করা যায়। বাকি ইফতারি নামাজের পর সেরে নেওয়া মন্দ নয়। অতঃপর সন্ধ্যায় পঠিতব্য জিকির-আজকার পাঠ করে নেওয়া।

তিন. স্বভাব অনুযায়ী রাতের খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে তারাবির নামাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।

এশার সময়
এক. জামাতের সঙ্গে এশার নামাজ আদায় করা।

দুই. ইমামের সঙ্গে সম্পূর্ণ তারাবির নামাজ আদায় করা। নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও পুণ্যের আশায় রমযানে কিয়াম করবে, (তারাবিহ পড়বে ) তার বিগত সব (ছোট গুনাহ) ক্ষমা করা হবে।’ (বুখারী ও মুসলিম)

তিন. সম্ভব হলে বিতরের নামাজ শেষ রাতে পড়া। রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা বিতরকে রাতের শেষ নামাজ করো।’ (বুখারি, মুসলিম)
অবশ্য কারো শেষ রাতে পড়া সম্ভব না হলে, তারাবির পরপর আদায় করে নেওয়া চাই।

রমজানবিষয়ক যেকোনো ধরনের লেখা আপনিও দিতে পারেন। লেখা পাঠাতে মেইল করুন: [email protected]

বাংলাদেশ সময়: ১২৫২ ঘণ্টা, মে ০৭, ২০১৯
এমএমইউ

খুলনার মহাসড়ক চলনসই, জেলা সড়কে দুর্ভোগ
মানিকছড়িতে এক ব্যক্তির গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার
ত্রিপুরার বাজারে বিখ্যাত কুইন আনারস
মহেশপুরে যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার
পদ্মাসেতু ৫৩৭০, মেট্রোরেল পাচ্ছে ৭২১২ কোটি টাকা


কদর বেড়েছে চাঁই-বুচনার
ঐতিহ্যের সাক্ষী দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির
‘জুলুম সব সময় গরিবের ওপরই হয়’
ঈদে খুলনা স্পেশালের এক ট্রিপ
বিশ্বকাপে বোলারদের দায়িত্ব নিতে হবে: নাফীস