যেভাবে রমজানকে স্বাগত জানাবেন

মুফতি বুরহান উদ্দিন আব্বাস, অতিথি লেখক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি : প্রতীকী

walton

রমজান মাস বছরের অন্য এগারো মাসের চেয়ে অধিক মর্যাদাশীল ও বরকতময়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রমজান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)

php glass

হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যখন রমজানের আগমন হয় তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।’ (বুখারি, হাদিস নং : ১৮৯৯)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ তাআলা প্রত্যহ ইফতারের সময় অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি দিয়ে থাকেন। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ২১৬৯৮)

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান পেলো অথচ নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারেনি, সে হতভাগা।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং: ৯০৮)

তাই এ মাস হচ্ছে হেদায়েত প্রাপ্তির মাস, গুনাহ মাফের ও ক্ষমা অর্জনের মাস, আল্লাহ তাআলার রহমত ও বরকত লাভের মাস এবং জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার মাস। ধৈর্য্য ও সহমর্মিতার মাস।

সুতরাং বেশি বেশি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা এবং তাওবা-ইস্তেগফারের মাধ্যমে ক্ষমা অর্জন ও মুক্তির সনদ লাভে সচেষ্ট হওয়া কর্তব্য।

এ মাসের রোজাকে আল্লাহ তাআলা ফরজ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাস পাবে, সে যেনো এ মাসে রোজা রাখে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)

তাই প্রত্যেক সুস্থ ও বালিগ মুসলিম নর-নারীর জন্য রোজা রাখা অপরিহার্য। বলাবাহুল্য যে, ফরয ইবাদতের মাধ্যমেই বান্দা আল্লাহ তাআলার সর্বাধিক নৈকট্য অর্জন করে। কাজেই নফল ইবাদতে কিছু ত্রুটি হলেও ফরজ-ওয়াজিবে ত্রুটি হওয়া উচিত নয়। বরং গুরুত্বের সঙ্গে তা পালন করা উচিত।

পানাহার ও স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সর্বপ্রকার অনাচার-অশ্লীলতা থেকেও বেঁচে থাকা কর্তব্য রোযাদারের। রাসুল (সা.) এর এ বাণী রোজাদারের সর্বদা স্মরণ রাখা কর্তব্য- ‘রোযা শুধু পানাহার ত্যাগের নাম নয়, বরং অশ্লীল ও অর্থহীন কাজ থেকেও বেঁচে থাকা জরুরি।’ সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস নং: ১৯৯৬)

অতএব কেউ যদি রোজাদারের সঙ্গে ঝগড়া করতে থাকে কিংবা মূর্খের আচরণ করতে থাকে, তখন এ কথা ভেবে নিজেকে সংযত রাখবে যে, আমি রোজাদার, আমি রোজাদার। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৩৪৭০)

কাজেই রোজাদারের রোজার পূর্ণতা সাধনের জন্য সবরকমের অন্যায়-অশোভন কাজ থেকে বিরত থাকাও কর্তব্য। 

রোজাদার চোখ, মুখ, কান ও প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের হেফাজত করে সর্বপ্রকার গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার অঙ্গীকারে আবদ্ধ হতে হবে, যাতে সে মহানবী (সা.) এর ঘোষিত এই সাবধান বাণীর আওতায় না পড়ে যায় যে, ‘কোনো কোনো রোযাদার এমনও আছে, রোজা দ্বারা যার শুধু ক্ষুৎপিপাসায় অর্জিত হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং: ১৬৯০)

আল্লাহ তাআলা রমজানকে খায়ের ও বরকত, তাঁর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জন এবং মুমিনের জন্য গোটা বছরের ঈমানী শক্তি অর্জনের কেন্দ্র বানিয়েছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, এ মাসে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ঘোষক ঘোষণা করতে থাকে- 'হে কল্যাণ অন্বেষী, অগ্রসর হও;  হে অকল্যাণের পথিক, থেমে যাও।’ (তিরমিজি, হাদিস নং: ৬৮২)

এসবের প্রভাবে রমজান মাসে চেতনে বা অবচেতনে ভালো কাজের দিকে আগ্রহ হতে থাকে। সৌভাগ্যবান ওই সব মানুষ, যারা এই আসমানী আহ্বান-প্রেরণাকে মূল্য দেয় এবং আযমত ও অবিচলভাবে ইবাদত-আমল অব্যাহত রাখে।

হাদিসের ভাষায়, ‘আল্লাহ তাআলার কসম! মুসলমানের জন্য এর চেয়ে উত্তম মাস আর নেই আর মুনাফিকের জন্য এর চেয়ে ক্ষতির মাসও আর নেই। মুসলমান এ মাসে ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সঞ্চয় করে (গোটা বছরের জন্য)।

হাদিসে আরো এসেছে, ‘এ মাস মুমিনের জন্য গনীমত এবং মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ।’ (মুসনাদে আহমদ ২/৩৩০) হাদিসের মর্মার্থ হলো, রমজানের কল্যাণ ও বরকত থেকে বঞ্চিত থাকা মুনাফেকির দলিল।

আল্লাহ তাআলা আমাদের মুনাফিকি (বিশ্বাসঘাতকতা) থেকে রক্ষা করুন এবং মুমিনের মতো এ মাসের ইস্তিকবালের তাওফিক দান করুন। মুমিনের মতোই এই মূল্যবান সময় কাজে লাগানোর তাওফিক দান করুন। 

মাহে রমজান আমাদের সবার জীবনে মুবারক হোক। শুভ, কল্যাণকর, ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনুক। আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনের সব পঙ্কিল ও আবিলতা দূর হয়ে যাক। আমাদের চিন্তা-চেতনা, মন-মগজ, কথা-কাজ, আচরণ-উচ্চারণ আলোকিত হয়ে উঠুক মাহে রমজানের শিক্ষায়। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন ও কবুল করুন। আমিন।

রমজানবিষয়ক যেকোনো ধরনের লেখা আপনিও দিতে পারেন। লেখা পাঠাতে মেইল করুন:
[email protected]

লেখক: আলেম-গবেষক

বাংলাদেশ সময়: ১৯২১ ঘণ্টা, মে ০৭, ২০১৯
এমএমইউ

টিকিট বিক্রিতে প্রস্তুত রেলওয়ে
খুলনার মহাসড়ক চলনসই, জেলা সড়কে দুর্ভোগ
মানিকছড়িতে এক ব্যক্তির গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার
ত্রিপুরার বাজারে বিখ্যাত কুইন আনারস
মহেশপুরে যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার


পদ্মাসেতু ৫৩৭০, মেট্রোরেল পাচ্ছে ৭২১২ কোটি টাকা
কদর বেড়েছে চাঁই-বুচনার
ঐতিহ্যের সাক্ষী দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির
‘জুলুম সব সময় গরিবের ওপরই হয়’
ঈদে খুলনা স্পেশালের এক ট্রিপ