রমজানের চাঁদ দেখে মহানবী (সা.) আনন্দিত হতেন

আবরার আবদুল্লাহ, অতিথি লেখক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি : প্রতীকী

walton

আল্লাহর দয়া-অনুগ্রহ, ক্ষমা ও মুক্তির বার্তা নিয়ে আসে পবিত্র রমজান। রমজান মুমিনের জন্য সৌভাগ্যের মাস। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মাস। প্রার্থনা ও ক্ষমাপ্রাপ্তির মাস। তাই মুমিনমাত্রই রমজানের জন্য অপেক্ষা করেন। রমজানের কল্যাণ লাভের জন্য দোয়া করেন।

php glass

প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সা.)ও রমজানের জন্য অপেক্ষা করতেন। এ সৌভাগ্য প্রাপ্তির জন্য দোয়া করতেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রজব মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রামাজান’ বলে দোয়া করতেন। (তাবরানি  ও কানজুল উম্মাল)

অর্থ: হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাসে আমাদের বরকতময় করুন এবং আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’

শাবান মাস শুরু হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের জন্য আরও ব্যাকুল হয়ে উঠতেন। তিনি শাবান মাসের দিন গণনা করতেন, চাঁদের হিসেব রাখতেন। রমজানের চাঁদের জন্য অপেক্ষা করতেন। 

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের চাঁদের যেভাবে হিসেব রাখতেন, অন্যকোনো মাসের হিসেব সেভাবে রাখতেন না। পরে চাঁদ দেখে রোজা রাখতেন।’ (মুসনাদে আহমদ)

রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকেও নির্দেশ দিয়েছেন, শাবান মাসের চাঁদের হিসেব রাখতে। যেনো রমজানের রোজা নির্ভুলভাবে রাখা যায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা রমজানের জন্য শাবানের চাঁদের হিসেব রাখো। (সুনানে বায়হাকি)

এসব হাদিসের আলোকে ইসলামী স্কলাররা শাবান মাসের ২৯ তারিখ সামগ্রিকভাবে চাঁদ দেখাকে ফরজে কেফায়া বলেন। আর রাসুল (সা.)-এর ব্যক্তিগত আমলের কারণে প্রত্যেক মুমিনের জন্য আকাশে চাঁদের অনুসন্ধান করা মুস্তাহাব মনে করেন।

আকাশে রমজানের চাঁদ দেখে রাসুল (সা.) খুশি হতেন। তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেন। রমজানের চাঁদকে অভিনন্দন জানাতেন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি রমজানের চাঁদকে সুপথ ও কল্যাণের বার্তাবহ বলে সম্বোধন করতেন এবং রমজানের কল্যাণ ও বরকত লাভের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। 

তালহা বিন উবায়দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) চাঁদ দেখে বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলামি, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ, হিলালু রুশদিন ওয়া খাইরিন।’

অর্থ: হে আল্লাহ! এ চাঁদকে ঈমান ও নিরাপত্তা, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদিত করুন। সুপথ ও কল্যাণের চাঁদ! আমার ও তোমার প্রভু আল্লাহ। -রিয়াজুস সালিহিন

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিরাও (রা.) রমজানের চাঁদ দেখে খুশি হতেন এবং দোয়া পড়তেন। 

হিশাম ইবনে হাসসান থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত হাসান ইবনে আলী (রা.) চাঁদ দেখে বলতেন-

‘আল্লাহুম্মাজআলহু শাহরা বারাকাতিন ওয়া নুর, ওয়া আজরিন ওয়া মুয়াফাতিন, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা কাসিমুন বাইনা ইবাদিম্মিন ইবাদিকা ফিহি খাইরান ফা-আকসিম লানা ফিহি খাইরাম্মা-তাকসিমু লিইবাদিকাস সালিহিন।’

অর্থ: হে আল্লাহ! এ মাসকে প্রাচুর্য ও জ্যোতিময় করুন, পুণ্য ও ক্ষমার মাধ্যম করুন। হে আল্লাহ! আপনি (এ মাসে) আপনার বান্দাদের মাঝে কল্যাণ বিতরণ করবেন, সুতরাং আপনার পুণ্যবান বান্দাদের জন্য যা বণ্টন করবেন- তা আমাদেরও দান করুন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা)

হাদিসের গ্রন্থসমূহে এমন অসংখ্য দোয়া পাওয়া যায়- যার মাধ্যমে সাহাবি ও আল্লাহর নৈকট্যশীল বান্দারা রমজানের চাঁদকে স্বাগত জানাতেন। 

সুতরাং আমাদের করণীয় হলো, রমজানের চাঁদ অনুসন্ধান করা, চাঁদকে কল্যাণ ও বরকত লাভের দোয়ার মাধ্যমে স্বাগত জানানো।

লেখক: আলেম-সাংবাদিক

রমজানবিষয়ক যেকোনো ধরনের লেখা আপনিও দিতে পারেন। লেখা পাঠাতে মেইল করুন: [email protected]

বাংলাদেশ সময়: ১৫২৩ ঘণ্টা, মে ০৬, ২০১৯
এমএমইউ

পাকিস্তান দল থেকে বাদ পড়ে জুনায়েদের অভিনব প্রতিবাদ
টিকিট বিক্রিতে প্রস্তুত রেলওয়ে
খুলনার মহাসড়ক চলনসই, জেলা সড়কে দুর্ভোগ
মানিকছড়িতে এক ব্যক্তির গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার
ত্রিপুরার বাজারে বিখ্যাত কুইন আনারস


মহেশপুরে যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার
পদ্মাসেতু ৫৩৭০, মেট্রোরেল পাচ্ছে ৭২১২ কোটি টাকা
কদর বেড়েছে চাঁই-বুচনার
ঐতিহ্যের সাক্ষী দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির
‘জুলুম সব সময় গরিবের ওপরই হয়’