কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হারাম

ইসলাম ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

.

walton

আজ ২৭ শাবান। দরজায় কড়া নাড়ছে পুণ্যের মাস রমজান। ঈমানদাররা সওয়াব ও পুণ্য অর্জনের প্রতীক্ষায় প্রহর গুণছেন। অন্যদিকে পবিত্র রমজান সামনে রেখে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা আদায়ের জন্য বিভিন্ন রকম প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তারা ক্রেতাদের ঝামেলায় ফেলে। সবাই যখন সংযম পালন করে, তারা তখন অত্যন্ত অসংযমী হয়ে ওঠে। অপকৌশলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে তারা আনন্দ-অনুভব করে। ফলে রমজান এলে দ্রব্যমূল্য উত্তাপ ছড়াতে থাকে।

পবিত্র মাহে রমজানে এক শ্রেণির সুযোগসন্ধানী কালোবাজারি, মজুদদার ও মুনাফাখোর ব্যবসায়ী পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস মজুদ করে রেখে, তারা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এতে করে তারা ক্রেতাদের কষ্ট দিয়ে অবৈধ ও অযাচিত আনন্দ অনুভব করে। অথচ অধিক মুনাফার প্রত্যাশায় পণ্য মজুদ করা ইসলামে অবৈধ।

অসাধু ব্যবসায়ীরা হয়তো মনে করতে পারে, এভাবে তারা লাভবান ও বিত্তশালী হয়ে যাবে। এ ধরনের অবৈধ ও অভিশপ্ত সম্পদ আয় করে সুখ পাওয়া যায় না। ভোক্তাদের জিম্মি করে অর্থ-কড়ি উপার্জন ঘৃণ্য ও সভ্যতাবিবর্জিত। উপরন্তু এগুলো পরকালে জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘কেউ যদি খাদ্য গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, আল্লাহ তাকে দুরারোগ্য ব্যাধি ও দারিদ্র্য দ্বারা শাস্তি দেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ২২৩৮)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি (সংকট তৈরি করে) খাদ্যশস্য গুদামজাত করে সে অপরাধী।’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস নং: ১৬০৫)।

এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ৪০ দিনের খাবার মজুদ রাখে, সে আল্লাহ-প্রদত্ত নিরাপত্তা থেকে বেরিয়ে যায়।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস নং: ২০৩৯৬)।

আল্লামা ইবনে হাজর হাইতামি (রহ.) গুদামজাত করে মূল্য বৃদ্ধি করাকে কবিরা গুনাহ বলে উল্লেখ করেছেন। (নিহায়াতুল মুহতাজ : ৩/৪৫৬)

গুদামজাত করে কিংবা অন্য কোনোভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্যবৃদ্ধি করলে, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়। অনেকে আবার বেশ দুর্ভোগেও পড়ে।

তবে গুদামজাত পণ্য যদি মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু না হয় কিংবা এসব পণ্য চাহিদার অতিরিক্ত হয় বা গুদামজাতকারী বর্ধিত মুনাফা অর্জনের অভিলাষী না হয়, তাহলে পণ্য মজুদ রাখা অবৈধ নয়।

ব্যবসার লক্ষ্যই হলো মুনাফা লাভ। ইসলামে তা নিষিদ্ধ নয়। ইসলাম ব্যবসায়ীকে মুনাফা থেকে বঞ্চিত করে না। সাধারণভাবে ব্যবসা করা ও মুনাফা অর্জন বৈধ। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৫)

তবে ইসলামে জালিয়াতি, ধোঁকাবাজি, ভেজাল মেশানো ও দালালি ইত্যাদি নিষিদ্ধ। জিম্মি করে বা তার অজ্ঞতার সুযোগে অধিক মুনাফা অর্জন সম্পূর্ণ হারাম।

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বর্ধিত মুনাফা অর্জনের প্রচেষ্টা একটি সামাজিক অপরাধ। সামাজিকভাবেই এ ধরনের অপরাধগুলোর প্রতিরোধ করা চাই। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘মনিটরিং সেল’ গঠন করা যেতে পারে। প্রয়োজনে আইন প্রণয়ন করতে পারে।  ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.) তার শাসনামলে যেমনটি করেছিলেন।

ইসলাম বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। লেখা পাঠাতে মেইল করুন: [email protected]

বাংলাদেশ সময়: ১০৩০  ঘণ্টা, মে ০২, ২০১৯
এমএমইউ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: ইসলাম
বেনাপোলে প্রায় আড়াই মাস আটকা ১৯ ভারতীয় ট্রাকচালক
মোরা ত্রাণ চাই না, বেড়ি চাই
রবীন্দ্র সরোবর যেন সবুজের গালিচা
ফলন ভালো হলেও বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাহাড়ের কৃষক
করোনায় মারা গেলেন প্রথম কোনো ফুটবলার


শ্বাসকষ্ট নিয়ে চবি শিক্ষকের মৃত্যু
প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে ‘করোনামুক্ত’ মন্টেনিগ্রো
উল্লাপাড়ায় ঘুড়ি কেনাবেচা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত এক
ইডিইউতে হারমনি অব আর্টস আজ ও কাল
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস রোববার