রোজার প্রস্তুতি যেভাবে নিতে পারি

বুরহান উদ্দিন আব্বাস, অতিথি লেখক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি : প্রতীকী

walton

মহিমান্বিত মাস রমজান। বছরের সেরা ও শ্রেষ্ঠ মাস। মুমিনের বসন্তকাল। অফুরন্ত নেকি অর্জনের অবারিত সুযোগ নিয়ে আসে রমজান। অল্প ইবাদতেই সওয়াব মিলে অগণিত-বেশুমার। অবিরাম বর্ষে ক্ষমা, রহমত, বরকত, মুক্তি ও প্রাপ্তির পবিত্র শিশির।

php glass

‘রমজান’ শব্দেই মুমিন-হৃদয় হয়ে ওঠে কোমল ও সতেজ। নুয়ে পড়ে পরম কৃতজ্ঞতায়। নেক আমলে আসে জোয়ার। মন্দ কাজে-কর্মে লাগে ভাটার টান।  আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রতিনিয়তই ঘোষণা হতে থাকে সাধারণ ক্ষমার। এ দোয়া কবুল ও ক্ষমা লাভের মাস। তাই মন থাকে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে যথেষ্ট প্রশান্ত। আর এর সবকিছুই রমজানের বরকত।

রমজানের এ বরকতকে আরো বেশি নিজের করে নিতে এবং আল্লাহ তাআলার অধিক নৈকট্য লাভে প্রয়োজন প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানো। আর এর জন্য চাই পরিকল্পিত পূর্বপ্রস্তুতি।

একজনের প্রস্তুতি অপরজনের সঙ্গে নাও মিলতে পারে। তবুও কিছু সাধারণ বিষয় তো থেকেই যায়, যা সকলের জন্যেই প্রযোজ্য ও সমান উপকারী।

ইবাদত ও ক্ষমার পথ ধরে নৈকট্য লাভের মাস রমজান। তাই প্রস্তুতি শুরু হোক পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার মাধ্যমে।
রোজার আগেই তাওবা ইস্তিগফারে নিজেকে পবিত্র করে নেয়া চাই। যেনো নিজের পাপের কারণে রমজানের বরকত থেকে বঞ্চিত না হই। রমজানের প্রথম থেকেই যেনো বরকত লাভে ধন্য হতে পারি, সে জন্যও দোয়া ও তাওবা করা চাই।

• অতিরিক্ত সওয়াব লাভ ও ক্ষমা প্রাপ্তির লক্ষ্যে নিজের সঙ্গে নিজে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা। কেননা রমজান নেকি উপার্জনের মৌসুম আর রমজানে ক্ষমা না পেলে তা চরম বিপর্যয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে রমজান পেলো অথচ নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারেনি, সে হতভাগা। তাই রমজানে ক্ষমা লাভের জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টার দৃঢ় অঙ্গীকার করা জরুরি।

•  রমজানে আল্লাহ তাআলা বিপুল পরিমাণে ক্ষমা করে থাকেন। তবে এ ক্ষমা পেতে হলে অবশ্যই নিজেকে শিরক ও হিংসা থেকে মুক্ত রাখতে হবে।

•  রমজানের গুরুত্ব ও ফজিলত ভালোভাবে পড়তে ও শুনতে হবে। এতে করে ইবাদত বন্দেগিতে উৎসাহ উদ্দীপনা পাওয়া যাবে।

•  এ রোজার আগেই পূর্বের কাজা রোজা আদায় করে নিতে হবে। 

•  রোজার প্রয়োজনীয় মাসআলা সম্পর্কে জানতে হবে।
কেননা যেকোনো আমলই হওয়া চাই (জ্ঞান) ইলমের সঙ্গে। এতে আমলের তৃপ্তি ও স্বাদ পাওয়া যায়। আর এটা ইবাদত কবুল হওয়ার অধিক নিকটবর্তী।
•  রমজান কোরআনের মাস। এ মাসে রাসুল (সা.) নিজেই অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি তেলাওয়াত করতেন। তাই আমাদেরও উচিত তেলাওয়াতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া।

•  রমজান মাসের জন্য চব্বিশ ঘণ্টার একটা রুটিন করা চাই। যেটিতে ইবাদত-বন্দেগির সময় বেশি থাকবে। আর কাজের সময়সূচি থাকবে কম।

এভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারলে রমজানের ক্ষমা, বরকত-রহমত ও প্রতিশ্রুত সব কল্যাণ আমাদের ভাগ্যে জুটবে। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আমিন।

লেখক: ফতওয়া-গবেষক

ইসলাম বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। লেখা পাঠাতে মেইল করুন: [email protected]

বাংলাদেশ সময়: ১৯০৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৯, ২০১৯
এমএমইউ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন: ইসলাম
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে কাটলো বিনিয়োগ সংকট, গতি কাজে
রংপুরে হোটেল-বেকারির অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট
ভবন থেকে ফেলে দেওয়ায় নবজাতকের মৃত্যু
মেসির গোলেও শিরোপা ধরে রাখতে পারল না বার্সা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবক নিহত


পাহাড়ি ফুটবলকন্যা মনিকার বিশ্বজোড়া খ্যাতি!
জাহাজশিল্পে ক্যারিয়ার গড়ুন বাগেরহাট মেরিন ইনস্টিটিউটে
চকরিয়ায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু
এতিমখানা ও মাদ্রাসায় ঈদ বস্ত্র বিতরণ
বিপদসীমার নিচে মনু নদের পানি, জনমনে স্বস্তি