php glass

প্রকৃতির সঙ্গে মানুষও চালায় ধ্বংসযজ্ঞ

অফবিট ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: সংগৃহীত

walton

মধ্যযুগের আর্মেনীয় বাগরাটিড  রাজবংশের রাজধানী, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও আঞ্চলিক শক্তি আনি শহরে এককালে এক লাখ মানুষের বাস থাকলেও এখন ভুতুড়ে-পরিত্যক্ত। দখল নিয়ে যুদ্ধ-বিগ্রহ, ভূমিকম্প, খননকার্য ছাড়াও মানুষের নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে তিনশ’ বছর আগে পরিত্যক্ত হয় মালভূমির শহরটি।

এর প্রাসাদ, দুর্গ ও ভবনগুলো ধীরে ধীরে ভেঙে পড়লেও স্থাপত্যকলাও এখনও ইতিহাসবিদদের কাছে আগ্রহের বিষয়। আনি শহরকে ঘিরে গড়ে ওঠা বাইজান্টাইন ও অটোমানদের বিশাল সাম্রাজ্যের গৌরবগাথাও ইতিহাসে স্মরণীয়।
 
উত্তর-পূর্ব তুরস্কের কার্স প্রদেশের ৪৫ কিলোমিটার দূরবর্তী আখুরিয়ান নদীর উপত্যকার শহরটি কয়েক শতাব্দী ধরে ছিল সাজানো-গোছানো ও চিত্তাকর্ষক। ৯৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে অবনতির ধারাবাহিকতায় এখন সেখানে অনেক ধ্বংসাবশেষ। তুরস্ক ও আর্মেনিয়ার সীমান্ত চিহ্নিত গিরিখাতের মধ্যে এখন শুধুই বাতাসের আর্তনাদের শব্দ।
 
 ‘এক হাজার এক গির্জার শহর’ নামে পরিচিত শৈল্পিক সাইটটির সৌন্দর্যমণ্ডিত অসংখ্য গির্জা,  অনন্য বাড়ি-ঘর, শৈল্পিক কামারশালাসহ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভিন্ন সম্পদ মানুষের হাতেও ধ্বস হয়েছে বিভিন্ন সময়ে।
 
মরিচা রঙের ইটের দুর্গ আনি’র ক্যাথেড্রালটির গম্বুজ ১৩১৯ সালের ভূমিকম্পে ধসে পড়ে। শতাব্দী পরের অন্য একটি ভূমিকম্পে এর উত্তর-পশ্চিম কোণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

ছবি: সংগৃহীত
তবে বাগরাটিড রাজবংশের শৈল্পিক দক্ষতার অনন্য চিত্তাকর্ষক স্থাপত্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর অন্য একটি গির্জা ধ্বংস করেন কনস্টান্টিনোপল বাইজেন্টাইন শাসকরা। এ গির্জার অর্ধেকাংশ টিকে আছে এখন।

১০ম শতাব্দীতে বাগরাটিড রাজপুত্রের জন্য গড়া গির্জাটি ও তার কবরটিও ১৯৯০ সালে লুট করা হয়।

যীশু খ্রিস্ট ও সেন্ট গ্রেগরির চিত্রকর্ম শোভিত সেন্ট গ্রেগরির চার্চ, এ চার্চের বিপরীত গুহার ভূ-গর্ভস্থ শহর আবুঘামরেন্টসারের অবশিষ্টাংশ, তুরস্ক ও আর্মেনিয়া সীমান্ত ভাগ করা সেন্ট গ্রেগরির গিরিখাতের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা ঘড়িবাহী গির্জা এবং সেলজুক সাম্রাজ্যের ইসলামিক মিনারও যুদ্ধ-বিগ্রহের শিকার বলেই মনে করেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।  
ছবি: সংগৃহীত
হাজার বছর ধরে অটোমান-বাগরাটিড- সেলজুক রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং আর্মেনীয় পাঁচটি সাম্রাজ্যের বিরোধ, ১২৩৬ সালের মঙ্গোলিয়ানদের সঙ্গে যুদ্ধ, ১৮৭৭-৭৮ সালের রাশিয়া-তুরস্ক যুদ্ধ, ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী অটোমান- আর্মেনিয়া নির্মম যুদ্ধ এবং আধুনিককালের আর্মেনিয়া- আজারবাইজান-তুরস্ক এবং নাগারনো-কারাবাখ দ্বন্দ্বও এ ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী। ওইসব যুদ্ধে আর্মেনিয়ার হাজার হাজার মানুষ গণহত্যা ও ধর্ষণের শিকার হয়।
 
আখুরিয়ান নদীর একটি প্রাচীন সেতুকে ঘিরে আর্মেনিয়া ও তুরস্কের প্রতিযোগিতা এখনও অব্যাহত আছে। সেতুটির গিরিখাত একটি প্রাকৃতিক সীমানা তৈরি করেছে, যার নিচের অংশের পথ ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। এখানকার দূষিত বাতাসও তুর্কি-আর্মেনীয় শত শত বছরের বৈরি সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানানসই।  
 
দেশ দু’টির ৩১১ কিলোমিটার সীমান্ত বন্ধ এবং একটি কূটনৈতিক নিশ্চলতার স্বাক্ষর হিসেবেও ধ্বংস হচ্ছে আনি শহর।
 
বাংলাদেশ সময়: ০৫২৯ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৩, ২০১৭
এএসআর

 

মারাত্মক ঝুঁকিতে উন্নয়নশীল দেশের স্যানিটেশন শ্রমিকরা
পাথরঘাটায় বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনা দিলেন নওফেল
বৈষম্য বিলোপের লক্ষ্যে মঙ্গলবার বিশ্ব পুরুষ দিবস
মালিতে জঙ্গি হামলায় ২৪ সেনা নিহত
মেহেরপুরে পরোয়ানাভুক্ত ১২ আসামি গ্রেফতার, মাদক জব্দ


খুলনায় পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও দুর্ভোগে যাত্রীরা
বড় জয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করলো স্পেন
‘গুড নিউজ’ নিয়ে হাজির অক্ষয়-কারিনা
শাবিপ্রবিতে শূন্য আসনে ভর্তি শুরু
রাঙামাটিতে কমছে ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা, এখন আক্রান্ত ৬২৬