ঢাকা, শনিবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫ রজব ১৪৪২

জাতীয়

উন্নয়ন দেখতে বাংলাদেশ আসতে চান রাজা ফিলিপ

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৩৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৫, ২০২১
উন্নয়ন দেখতে বাংলাদেশ আসতে চান রাজা ফিলিপ

ঢাকা: বাংলাদেশের প্রশংসনীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন দেখার জন্য বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ। সেদেশে নবনিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব হাসান সালেহ্ রাজপ্রাসাদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজার কাছে তার পরিচয়পত্র পেশকালে তিনি এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বেলজিয়ামের রাজা রাষ্ট্রদূত সালেহর কাছ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত অগ্রগতিসহ বাংলাদেশের অন্য অভূতপূর্ব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে শোনেন। রাজা ফিলিপ ১৯৯০ এর দশকের শুরুর দিকে বাংলাদেশে তার ব্যক্তিগত সফরের বিষয়টি স্মরণ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত সালেহ্ বেলজিয়ামের রাজার কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, রাজা দম্পতি তাদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফর করলে বাংলাদেশ সরকার এবং জনগণ অত্যন্ত আনন্দিত হবে।

রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকালে রাজ দম্পতির সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে এবং দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করবে।

রাজা ফিলিপ বাংলাদেশ ও বেলজিয়ামের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত সালেহ্ এসময় দু’দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান অত্যন্ত আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে আলোকপাত করেন এবং বাংলাদেশের কয়েকটি সম্ভাবনাময় খাত যেমন- ওষুধশিল্প, তথ্য-প্রযুক্তি ও প্রকৌশল শিল্পে বেলজিয়ামের বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য বিনিয়োগের কথা তুলে ধরে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত সালেহ্ রাজা ফিলিপকে রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন এবং ২০১৯-২০ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে এ বিষয়ে বেলজিয়ামের সহযোগিতামূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। জোরপূর্বক বাস্ত্যুচুত ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারের রাখাইনে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে বেলজিয়ামসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মিয়ানমারের উপর অব্যাহত চাপ প্রয়োগ করাসহ অন্য কার্যকরী ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

বেলজিয়ামের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূতকে একটি আনুষ্ঠানিক গাড়ি বহরযোগে রাজপ্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশ দূতাবাসের মিশন উপ-প্রধান ফাইয়াজ মুরশিদ কাজী এবং প্রথম সচিব ফখরুদ্দিন আহামেদ রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৭১৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৫, ২০২১
টিআর/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa