ঢাকা, সোমবার, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

জাতীয়

রাজধানীর নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জীবন সংকটে

এস এম এ কালাম, সিনিয়র করেসপন্ডন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯২০ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৫, ২০২০
রাজধানীর নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জীবন সংকটে .

ঢাকা: চলমান মহামারিতে দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, কর্মসংস্থানসহ সার্বিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ায় চরম সংকটে পড়েছেন নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জীবন।

পেশা পরিবর্তন করেও টিকতে পারছেন না তারা। অনেকের দিশেহারা হয়ে ব্যবসা গুটিয়ে রাজধানী থেকে বিদায় নিচ্ছেন।

রাজধানীতে খেটে খাওয়া নিম্ন-মধ্যবিত্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এমন তথ্য।

তারা জানিয়েছেন বৈশ্বিক মহামারির কারণে গত কয়েক মাসে আয়ের পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। পেশা পরিবর্তন করেও জীবন যাপন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। ভাগ্যের পরিবর্তনে একসময় গ্রাম থেকে একটু ভালো করে বাঁচার আশায় যারা শহরে এসেছিল, তারা আবার গ্রামমুখী হচ্ছে।

ধামরাই থানার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ও মন্টু মিয়া রাজধানীর শাহবাগে ফুটপাতে ব্যবসা করতেন। গত কয়েকমাস ব্যবসা বন্ধ অন্য পেশায় গিয়েও সুবিধা করতে পারেননি। অনেকটা বাধ্য হয়েই ঢাকা ছাড়ছেন তারা।

এ ব্যাপারে সাইফুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, দুই বন্ধু মিলে শাহবাগের ফুটপাতে কমবেশি ভালোই ব্যবসা করছিলাম। কিন্তু করোনা আমাদের ব্যবসা শেষ করে দিয়েছে। লকডাউনে কিছুই করতে পারেনি এরপরও পেশা পাল্টে কিছু করতে চেয়েছিলাম সেখানেও টিকতে পারলাম না। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছি। করোনা আমাদের জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডেকোরেটরের ব্যবসা করতাম। করোনার কারণে কাজ না থাকায় অনেক ক্ষতির মুখে পড়ে পেশা পরিবর্তন করেছি বলে জানালেন মিরপুর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মো. কাইয়ুম।  

তিনি বলেন, ৫ মাস ধার করে দোকান ভাড়া দিয়েছি। কাজ নেই আর কুলিয়ে উঠতে পারছি না। তাই উপায় না পেয়ে দীর্ঘদিনের পেশা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি। জীবনের তাগিদে অন্য কোনো কাজ না পেয়ে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছি। জানিনা এভাবে আর কত দিন ঢাকা শহরে টিকতে পারবো বলে তিনি জানান।

এদিকে সংকটে পড়ে কেউ কেউ জীবনের তাগিদে পুরনো পেশায় ফিরেছেন। তেমনি একজন আয়শা বেগম। মিরপুরের বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবন চালাতে আয়েশা বেগম। স্বামীর উপার্জন বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে তিনি বাসা বাড়ির কাজ বাদ দিয়ে ছিলেন কিন্তু করোনার কারণে স্বামী রিকশাচালক তার আয় কমে যাওয়ায় পুনরায় বাসাবাড়ির কাজে ফিরতে হয়েছে আয়শা বেগমকে। জীবনের তাগিদে তিনি পুনরায় পেশায় ফিরেছেন।

এ ব্যাপারে আয়শা বেগম বলেন, আমার তিন কন্যা, স্বামী ও আমি ভালোভাবে আমাদের সংসার চলছিল। স্বামী রিকশা চালিয়ে যা আয় করত তাতে আমাদের সংসার ভাল ভাবেই চলছিল কিন্তু এই মহামারিতে স্বামীর আয় কমে যাওয়ায় সংসদ চালাতে কষ্ট হচ্ছে। তাই অনেকটা অনিচ্ছাসত্ত্বেই পুরনো পেশায় ফিরতে হয়েছে আমাকে বলে তিনি জানান।

অপরদিকে সম্প্রতি বেসরকারি সংগঠন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) এক গবেষণার তথ্য মতে করোনাকালে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে চলে গেছে অন্তত ১৬ শতাংশ দরিদ্র মানুষ।

তাদের মতে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা খরচ, যোগাযোগের ব্যয় এবং অন্য নানামুখী ব্যয় মেটাতে না পেরেই এসব মানুষ ঢাকা ছেড়েছে।

তবে সামনের শীতে করোনার প্রভাব বেড়ে গেলে ঢাকা ছাড়ার সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যাবে। আর এটার পুরো চাপ নিম্নবিত্ত শ্রেণীর ওপর পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই এই থেকে রক্ষায় সরকার সহ সকলকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ সময়: ০৯১৩ ঘন্টা, অক্টোবর ২৫, ২০২০
এসএমএকে/এমএমএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa