ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ কার্তিক ১৪২৭, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতীয়

সৌদি প্রবাসীদের ইকামার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো অনিশ্চিত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৬৩৪ ঘণ্টা, অক্টোবর ১, ২০২০
সৌদি প্রবাসীদের ইকামার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো অনিশ্চিত ফাইল ফটো

ঢাকা: বাংলাদেশে অবস্থানরত সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিসা ও ইকামার (কাজের বৈধ অনুমতিপত্র) মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ঘোষণা দেয়নি সৌদি সরকার (৩০ সেপ্টেম্বর)।  

ফলে প্রবাসীদের ভিসা ও ইকামার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

আর ইকামার মেয়াদ না থাকলে রি-এন্ট্রি ভিসা দেয় না সৌদি সরকার। ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে বেশিরভাগ কর্মীর বর্ধিত ভিসা ও ইকামার মেয়াদ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, সৌদি আরবে যাদের কর্মসংস্থান আছে কিন্তু করোনাকালে দেশে আসার পর ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে গেছে তাদের আবারও ভিসা নিয়েই দেশটিতে ফিরতে হবে। ফলে বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রায় ২৫ হাজার সৌদি প্রবাসীকে পুনরায় ভিসা নিতে হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা থেকে সৌদির বিষয় বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে জানতে চেয়েছিল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। দূতাবাস মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, সাধারণত এ ধরনের কোনো ঘোষণা সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয় না। বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ইকামার মেয়াদ ২৪ দিন বাড়িয়ে দেওয়া হবে এমন কোনো ঘোষণা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অদ্যাবধি পাওয়া যায়নি। এভাবে সরকারের তরফ থেকে ইকামা কিংবা ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থা ও টেকনিক্যাল অথরিটির মাধ্যমে হয়ে থাকে।
দূতাবাস মন্ত্রণালয়কে আরও জানায়, সৌদিতে প্রবেশে ইকামার মেয়াদের পাশাপাশি এক্সিট রি-এন্ট্রি ভিসার মেয়াদও থাকতে হয়। ইকামার মেয়াদ না থাকলে এক্সিট রি-এন্ট্রি ভিসারও মেয়াদ থাকে না। আগে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে ইকামা ও এক্সিট রি-এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ ফি দিয়ে বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় সৌদি কর্তৃপক্ষ হয়তো আগের মতো কিংবা ভিন্ন কোনো পদ্ধতিতে ইকামা ও ভিসা এক্সটেনশনের অনুমোদন দিতে পারে। তবে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তা নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সৌদি আরবে কর্মরত সব দেশের কর্মীদের ইকামার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা সেদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়। সরকারের তরফ থেকে ইকামা অথবা ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থা ও টেকনিক্যাল অথরিটির মাধ্যমে হয়ে থাকে। সৌদি সরকারের পুরো সিস্টেম চলে অনলাইনে। অনলাইনে এসব মেয়াদ সংশোধনের জন্য একটি প্রসেস অনুসরণ করতে হয়। এর মধ্যে আইন সংশোধনের বিষয় আছে। ইকামার মেয়াদ বাড়ানোর কাজ অনলাইনে পরিচালনা করে সৌদির ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার। এই সেন্টারের সঙ্গে প্রত্যেকটি কোম্পানি সংযুক্ত থাকে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গালফ অঞ্চলের ছয়টি দেশ এবং মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রবাসী এবং শ্রমিক ইস্যুতে বৈঠকে বসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, যারা দেশে চলে এসেছিলেন তাদের মধ্যে থেকে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে কিন্তু সেখানে চাকরি আছে তাদের নতুন করে ভিসা নিতে হবে। সৌদি কর্তৃপক্ষ ভিসা নতুন করে ইস্যু করবে বলে আমাদের জানিয়েছে। তবে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ এবং চাকরিদাতা আর নিয়োগ দেবেন না তাদের বিষয়ে ‘কিছু করার নেই’৷ এমন শ্রমিকদের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৫৩ জন উল্লেখ করে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান অথবা দেশেই কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন তিনি।

উল্লেখ্য, আগে সৌদির বাইরে অবস্থান করলে ইকামা নবায়নের সুযোগ ছিল না। কিন্তু সৌদি সরকার বর্তমানে সেই নিয়ম শিথিল করেছে। এখন কোনো কোম্পানি চাইলে সৌদির বাইরে থাকা কর্মীর ইকামা নবায়ন করতে পারবে। তবে সৌদি সরকার প্রকাশ্যে ঘোষণা না দিলে স্বয়ংক্রিয় নবায়ন হবে না কারো। তবে এক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।  

শর্তগুলো হলো: এক্সিট রি-এন্ট্রি ভিসা নবায়নের জন্য জাওয়াজাতের প্রিন্টের মূল কপি, যাতে ইকামার মেয়াদ থাকতে হবে, কফিলের আবেদন সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়িত হতে হবে, পাসপোর্ট ও এক্সিট এবং রি-এন্ট্রি ভিসার মূল কপি, সৌদি এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়ার তারিখসহ প্রিন্টের মূল কপি এবং মেয়াদসহ ইকামার ফটোকপি আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ০৬৩০ ঘণ্টা, অক্টোবর ০১, ২০২০
জিসিজি/আরএ 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa