ঢাকা, রবিবার, ১৬ কার্তিক ১৪২৭, ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতীয়

বালু উত্তোলনে ভরা নদীতে ড্রেজার, ভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসী

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০২৬ ঘণ্টা, অক্টোবর ১, ২০২০
বালু উত্তোলনে ভরা নদীতে ড্রেজার, ভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসী নদীতে ড্রেজার মেশিন। ছবি: বাংলানিউজ

সিরাজগঞ্জ: মহাল না হলেও সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে যমুনা নদীর ক্যানেল থেকে অবৈধভাবেই বালু উত্তোলনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বানের পানিতে ভরা নদীতেও বসানো হয়েছে ড্রেজার, প্রস্তুত হয়েছে বালু সরবরাহের পাইপলাইন।

এর ফলে এলাকাবাসী রয়েছে নদীভাঙন আতঙ্কে। মহাল বন্ধের জন্য ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদনও জানিয়েছেন তারা।  

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রান্ধুনীবাড়ি বাজারের দক্ষিণপাশে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, বানের পানিতে থই থই করছে যমুনা নদীর ক্যানেল। এর দুপাশের গ্রামগুলোতেও এখনো রয়েছে বানের পানি। নিমজ্জিত রয়েছে সব আবাদী জমিও। এ অবস্থার মধ্যেও নদীর মাঝখানে বসানো হয়েছে ড্রেজার মেশিন। সম্পন্ন করা হয়েছে বালু উত্তোলনের সব আয়োজন। একটি পাইপ লাইন রান্ধুনীবাড়ী ওয়াপদার উপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর ফলে নদীপাড়ের মানুষগুলোর যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটিও বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে এলাকার প্রভাবশালীরা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের পাঁয়তারা করছে বলে জানালেও আয়োজকদের নাম বলার সাহস হয়নি নদীপাড়ের অসহায় মানুষগুলোর।  

মো. বাবু নামে এক গো-খামারি বলেন, গত কয়েকমাস ধরে বন্যায় আমাদের জীবন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে আমাদের কষ্টের শেষ নেই। এখন আবার বাড়ির পাশে বসানো হয়েছে ড্রেজার। এখান থেকে বালু তোলা শুরু হলেই আমাদের বাড়িঘর ও জমিজমা ধসে যাবে।  

মুদি দোকানদার আলম শেখ, সৈয়দ আলী, তাঁতী আব্দুর রাজ্জাক ও কালাচাঁদসহ অনেকেই বলেন, হঠাৎ করে আমাদের জমির উপর দিয়ে মোটা মোটা পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। আমাদের কিছু না বলেই তারা এটা করছে। আবার নদীর ভেতরে ড্রেজার মেশিনও বসানো হলো। এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা প্রতিবাদ করতেও সাহস পাইনি।  

মোক্তার হোসেন বলেন, দফায় দফায় যমুনার ভাঙন শেষে এখানে এসে বাড়ি করেছি। বালু উত্তোলন হলে সেটাও হুমকির মুখে পড়বে।  

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাত বার নদীভাঙনের কবলে পড়েছি, বাড়িঘর-জমিজমা হারিয়েছি। এমনটা আর দেখতে চাই না।  

স্থানীয়রা আরও বলেন, এখান থেকে বালু উত্তোলন করা হলে, রান্ধুনীবাড়ি, চর কোনাবাড়ি, মকিমপুরসহ আশপাশের চার/পাঁচটি গ্রামের হাজারো বাড়িঘর ও শত শত বিঘা ফসলি জমি ভাঙনের মুখে পড়বে। তারা অবিলম্বে অবৈধভাবে এ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানান।  

যমুনাপাড়ের এসব মানুষের উপজেলাসহ হাট বা বাজারে যাতায়াতের একমাত্র কাঁচা সড়কেও স্থাপন করা হয়েছে বালু সঞ্চালনের পাইপলাইন। রিকশা, সাইকেল বা অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এর কারণে চরম বিপাকে পড়েছে রান্ধুনীবাড়ী, চর কোনাবাড়ি ও মকিমপুর গ্রামবাসী।  

ড্রেজার মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কবরস্থানের মাটি ভরাট করার জন্য এলাকার নেতাকর্মীরা এই বালু উত্তোলনের জন্য চেষ্টা করছে। যখন ড্রেজার বসানো হয় এবং পাইপ লাইন স্থাপন করা হয় তখন স্থানীয়রা কেউ বাধা দেয়নি।  

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনিসুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয়দের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কোনো প্রকার অবৈধ বালু মহাল চলতে দেওয়া হবে না।  

বাংলাদেশ সময়: ০০২৪ ঘণ্টা, অক্টোবর ০১, ২০২০
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa