ঢাকা, শনিবার, ৯ কার্তিক ১৪২৭, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতীয়

দেশেই উৎপাদিত হবে ইউরিয়া সারের আবরণ ইউএফ-৮৫

মফিজুল সাদিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩৩৩ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০
দেশেই উৎপাদিত হবে ইউরিয়া সারের আবরণ ইউএফ-৮৫ দেশেই উৎপাদিত হবে ইউরিয়া সারের আবরণ ইউএফ-৮৫

ঢাকা: ইউরিয়া সার সুরক্ষা ও ডাস্ট হওয়া থেকে বিরত রাখতে ‘ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫’ (কোটিং এজেন্ট) দেশেই উৎপাদিত হবে। ইউরিয়া ফরমালডিহাইড এক ধরণের সাদা আবরণ।

এই আবরণ ইউরিয়া সারকে সুরক্ষিত রাখে। কৃষক পর্যায়ে ইউরিয়া সার পৌঁছে দিতে ইউএফ-৮৫ ব্যবহার করা হয়। পৃথিবীর যেসব দেশে গ্যাস উত্তোলন হয় সেসব দেশ থেকে এগুলো আমদানি করা হয়। বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত থেকে ইউএফ-৮৫ আমদানি করা হয়।
 
বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে গ্যাসের সহজলভ্যতা থাকায় সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের অব্যবহৃত ৫ একর জমিতে ইউএফ-৮৫ উৎপাদন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইউএফ-৮৫ উৎপাদনের মূল কাঁচামাল প্রাকৃতিক গ্যাস। ইউএফ-৮৫ প্ল্যান্ট স্থাপন প্রকল্পের আওতায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে। ৭২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে চলতি সময় থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন(বিসিআইসি)।
 
বিসিআইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ যা গ্রানুলার ইউরিয়া সার কোটিংয়ের জন্য একটি অপরিহার্য কেমিক্যাল। এই কেমিক্যাল বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এ প্রেক্ষিতে শাহজালাল ইউরিয়া সার কারখানায় অব্যবহৃত স্থানে একটি ফরমালডিহাইড-৮৫ প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। দেশে এই কেমিক্যাল উৎপাদিত হলে বিদেশ থেকে আমদানি করা কমবে। বাংলাদেশে যেহেতু প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে সুতরাং এটা উৎপাদিত হলে দেশীয় মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
 
তিনি আরও বলেন, ইউরিয়া সারের ওপরে এই কেমিক্যাল থাকে। এটা দেওয়ার ফলে সার ভাঙবে না। ইউরিয়া সারের দানা পরিষ্কার ও ভালো। এটা খুব হার্মফুল না।
 
বিসিআইসি সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় শক্তি সাশ্রয়ী সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ও পরিবেশ বান্ধব উপায়ে দৈনিক ৮০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন করা হবে। সারের কেমিক্যাল আবরণও হবে দেশীয়। ইউরিয়া সারের কোটিং ম্যাটেরিয়ালস হিসেবে ইউএফ-৮৫ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, আমদানির বিকল্প হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ইন্টারমেডিয়েট প্রোডাক্ট মিথানাল ও ফরমালডিহাইড উৎপাদনের মাধ্যমে দেশীয় চাহিদার আংশিক পূরণ হবে।
গ্রানুলার ইউরিয়া সারের গুনগত মান উন্নয়নের পাশাপাশি প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
 
শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (বিসিআইসি-পরিকল্পনা) দেলোয়ার হোসেন মাতুব্বর বাংলানিউজকে বলেন, প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। প্রকল্পের মাধ্যমে দেশেই ইউএফ-৮৫ উৎপাদিত হবে। প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২৩৩৩ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০
এমআইএস/এমআরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa