ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ কার্তিক ১৪২৭, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতীয়

পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৪৪ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০
পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

বরিশাল: বরিশাল নগরে সিটি করপোরেশনের নিয়ম বহির্ভূত ভবন নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়ায় মারধর করে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।  

এ ঘটনায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, হামলার শিকার বরিশাল নগরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের সিঅ্যান্ডবি রোড সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সুলতান আহমেদের ছেলে মো. শামীম আহম্মেদ।

লিখিত বক্তব্যে শামীম অভিযোগ করেন, খুলনা বিভাগে কর্মরত পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা একই এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন ২০১৪ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করেই ভবন র্নিমাণ কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি তার জাহানারা বেগম ভবন ঘেষে ওই পুলিশ সদস্য ভবন নির্মাণ ও কাজের মালামাল রেখে বিভিন্নভাবে উৎপাত শুরু করেন।

প্রথমদিকে মৌখিকভাবে তাকে সতর্ক করা হলেও পুলিশ কর্মকর্তা কামাল তাদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধামকি দিতে শুরু করেন। উপায় না দেখে জাহানারা বেগম বিসিসিতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিসিসির পক্ষ থেকে অনুমোদিত প্ল্যান দেখাতে না পারায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার ভবনের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই পুলিশ কর্মকর্তা বিসিসির প্ল্যান না নিয়েই পুনরায় র্নিমাণ কাজ শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে চলতি বছরে জাহানারা বেগম পুনরায় বিসিসিতে আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ কর্মকর্তা কামাল ও তার ছেলে সামিউল এবং স্থানীয় মতিউর রহমান গত ১৪ সেপ্টেম্বর নগরের চৌমাথা এলাকায় শামীম আহম্মেদের পথরোধ করে মারধর করে তার সঙ্গে থাকা একটি পালসার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা শামীমকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনার পর শামীম বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু ওই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল বিষয়টি মীমাংসার জন্য আহত শামীমকে বলেন। কিন্তু শামীম মীমাংসা না করে আইনের মাধ্যমে তাদের শাস্তির দাবি জানান।

শামীমের দাবি পুলিশ কর্মকর্তার বিষয় হওয়ায় থানা থেকে তাদের কোনো প্রকার সহযোগিতা করা হচ্ছে না।  

বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান নিয়ে শঙ্কা রয়েছেন উল্লেখ করে ভুক্তভুগী শামীম জানান, বিষয়টি নিয়ে তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা সুলতান আহম্মেদ থানায় গেলে ওসি বিষয়টি দেখবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করেছেন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা কামাল হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।  

এ ঘটনায় কোতয়ালি থানার এসআই ও অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা রেজাউল সাংবাদিকদের জানান, মোটরসাইকেল চুরির একটি অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি থানার বাহিরে থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেননি।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৪৩ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০
এমএস/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa