ঢাকা, শুক্রবার, ৭ কার্তিক ১৪২৭, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতীয়

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের স্ফুলিঙ্গ থেকে মসজিদে বিস্ফোরণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯০৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০
অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের স্ফুলিঙ্গ থেকে মসজিদে বিস্ফোরণ নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তিতাসের অনুসন্ধান কমিটি

ঢাকা: বিদ্যুতের অবৈধ লাইন ব্যবহার করতে গিয়ে স্ফুলিঙ্গ থেকে নারায়ণগঞ্জে মসজিদে অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে তিতাস গ্যাসের অনুসন্ধান কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অবৈধ গ্যাস সংযোগের পাইপ লাইনের উপর মসজিদ নির্মাণ করায় লাইনের ছিদ্র থেকে নির্গত গ্যাস মসজিদে জমে এ বিস্ফোরণ হয় বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদ কমিটি নিজ উদ্যোগে তিতাসের গ্যাস লাইন সরিয়ে পুরনো লাইন মাটি চাপা দেয়। পরে মসজিদ নির্মাণ করার সময় মাটি চাপা দেওয়া গ্যাস লাইনের পাইপের র‌্যাপিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে লিকেজ হয়ে গ্যাস মসজিদের এসি চেম্বারে জমে। তারপর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর বিকল্প লাইন চালু করায় শটসার্কিট থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নারায়ণগঞ্জে মসজিদে এসি বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় গঠিত তিতাসের অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময় এ কথা জানানো হয়।

তদন্ত কমিটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। এ সময় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদন বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এখনও প্রতিবেদন নিয়ে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দায়িত্ববোধ থেকে কেউ এড়াতে পারবে না। এজন্য আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে তিতাসের ৭ কর্মকর্তাকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল থাকলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতো না।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে আপাতত দৃষ্টিতে প্রতিবেদনটি সত্য মনে হচ্ছে। আমরা পরবর্তীতে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাব। ডিপিডিসি সম্পর্কে তদন্ত চলছে। কীভাবে দীর্ঘদিন অবৈধ সংযোগ নিয়ে একজন গ্রাহক চলতে পারে। তদন্তের ওপর ভিত্তি করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আগের থেকে পরিস্থিতি দিন দিন ভালো হচ্ছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান আবদুল ওহাব বলেন, লিকেজ না হওয়া পর্যন্ত চিহ্নিত করা যায় না। যেহেতু আমাদের গ্যাস লাইন অবৈধভাবে স্থান্তরিত করে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে মসজিদ নির্মাণের সময় পুরাতন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখান থেকে লিকেজ তৈরি হলে গ্যাস লিক হতে থাকে।

তিনি বলেন, মসজিদের ফ্লোরে ৬/৮ সিসি ঢালাই না থাকায় সেই গ্যাস মসজিদের এসি চেম্বারে গিয়ে জমে। সেখানে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প লাইন চালু করলে বিদ্যুৎ স্পার্ক করে এই ঘটনা ঘটে বলে আমরা মনে করছি।

আবদুল ওহাব আরও বলেন, দেওয়ান ও শওকত আলী অবৈধভাবে তিতাসের নিয়ম না মেনে গ্যাস লাইন স্থানান্তর করেন। এছাড়া মসজিদে অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন ছিল। আর গ্যাস লিক হচ্ছে সেটা মসজিদ কমিটি বা স্থানীয়রা কাউকে কিছু জানায়নি। একই সঙ্গে মসজিদ নির্মাণে রাষ্ট্রীয় অনুমোদন নেওয়া দরকার। সেটার কোন দলিল বা কাগজ তারা (মসজিদ কমিটি) দেখাতে পারেনি।

তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, মসজিদ কমিটির সভাপতি বলেছেন গ্যাস লাইন সারানোর জন্য তাদের কাছে কে বা কারা ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। তিনি তাদের নাম বা এর কোন প্রমাণও দিতে পারেননি। তিনি কেন বলতে পারছেন না তার কাছে কে টাকা চেয়েছেন। গ্যাস লিক করেছে কমিটি আমাদের জানায়নি।

তিতাসের এমডি বলেন, আমাদেরর যেখান থেকে অভিযোগ আসে বা পাচ্ছি সেখানেই আমরা সমাধান করছি। এটা আমাদের নিয়মিত মনিটরিংয়ের মধ্যে পড়ে। তিতাসের কেউ ঘুষ নিয়ে পার পেয়ে যাবেন, তা হতে পারে না। প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০
জিসিজি/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa