ঢাকা, বুধবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ সফর ১৪৪২

জাতীয়

শিক্ষার নামে যেখানে চলে অমানবিক নির্যাতন

সাগর ফরাজী, সাভার করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২১০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০
শিক্ষার নামে যেখানে চলে অমানবিক নির্যাতন

সাভার (ঢাকা): জাবালে নূর মাদ্রাসা, যেখানে ছয় মাস আগেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৪৫ জন। মাদ্রাসার শিক্ষকদের নির্যাতন সইতে না পরে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নানা ভাবে প্রতিষ্ঠানটি থেকে পালিয়ে গেছে।

আবার কোনো কোনো শিক্ষার্থীর অভিভাবক তাদের সন্তানের সাথে হওয়া এমন নির্যাতনের কারণে নিরাপত্তার জন্য শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নিয়ে রেখেছেন৷ বর্তমানে মাদ্রাসাটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে।

মাদ্রাসাটি অবস্থিত আশুলিয়ার শ্রীপুরের নতুননগর মথনেরটেক এলাকায়। এখানে শিক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের ওপরে চলে নানা নির্যাতন।

ছয়তলা ভবনের মালিক আব্দুল জব্বার মাদ্রাটির মালিক। তিনি নিজে মাদ্রাটির পরিচালকও। জব্বারের ভবনের চার তলায় মাদ্রাসাটি শিক্ষক হিসেবে রেখেছিলেন আব্দুল্লাহ ও ইব্রাহিম নামের দুজনকে। এই শিক্ষকদের মাধ্যমে কোমলমতি শিশুদের ওপর চলে নানা নির্যাতন।

এরইমধ্যে গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাকিব হোসেন (১০) নামের এক শিশু শিক্ষার্থীর হাত-পা বেঁধে পেটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হয়। এরপর শিশুটির মামা কিরণ সরকার আশুলিয়া থানায় অভিযোগ করলে আব্দুল্লাহ ও ইব্রাহিমকে আটক করে পুলিশ।

আটক শিক্ষক ইব্রাহিম কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার দড়িচর এলাকার আতাউর রহমানের ছেলে। আটক  অপরজনের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরজমিনে মাদ্রাটির সামনে এসে দেখা গেছে, প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। আর বাকি শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ বাড়ি চলে গেছে।

এসময় স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দুই বছর যাবৎ চলা এই আবাসিক মাদ্রাসায় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীরা আসে। আগে যদিও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি ছিল, কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা একদম কম। এই মাদ্রাসার দুই শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের সব সময় বেধরক মারধর করে৷

আহত শিশু রাকিব হোসেনের ফুপা কিরণ সরকার বাংলানিউজকে জানান, অভিযুক্ত ইব্রাহিম বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মারধর করে। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাকিবকে মারধর করার পর তাকে বলে দেওয়া হয়েছিল তার বাবা-মাকে যেন বিষয়টি না জানানো হয়। বাসায় যাওয়ার পর গোসলের সময় তার মা রাকিবের কাপড় খুলে দেখে তার শরীর দিয়ে রক্ত ঝরছে। বিষয়টি রাকিবকে জিজ্ঞেসা করা হলে পরে সে বিস্তারিত খুলে বলে। পরে তিনি নিজে রাকিবের মাদ্রাসাটিতে গিয়ে সিসিটিভির ফুটেজ বের করেন এবং সেখানে দেখা গেছে শিশু শিক্ষার্থীদের হাত-পা বেঁধে পেটানো হয়েছে৷

তিনি বলেন, বিষয়টি অমানবিক। আমি এর বিচার চাই৷ ঘটনার পর পর দ্রুত আমি রাকিবকে হাসাপাতালে পাঠাই। পরে চারদিন তাকে চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতাল থেকে টাকার অভাবে রাকিবকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়েছে৷ বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে শিশু আইনে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়েছে৷

ধামসোনা ইউনিয়নের ৪-৫-৬ নং ওয়ার্ডের নারী সদস্য লিমা আক্তার বাংলানিউজকে বলেন, বিষয়টি নেক্কারজনক। এমনিতে মানুষ এখন নিজের ছেলে মেয়েদের মাদ্রাসায় পাঠাতে চায় না।  তার মধ্য এমন ঘটনা ঘটালে অভিভাবকরা মাদ্রাসার ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলবে। বিষয়টি সুষ্ঠু বিচার করা জরুরি।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল হক বাংলানিউজকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে মামলা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১২০৮ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০
এমএমএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa