ঢাকা, বুধবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ সফর ১৪৪২

জাতীয়

দুর্ঘটনার ৫ম দিনেও আটক হয়নি চালক-হেলপার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট   | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৪০৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০
দুর্ঘটনার ৫ম দিনেও আটক হয়নি চালক-হেলপার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক ইকরাম। ছবি: জিএম মুজিবুর

ঢাকা: বাংলানিউজের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ইকরাম-উদ দৌলা (৩৬) সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে।  

এর আগে বেপরোয়া গতিতে আসা তুরাগ পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেলে থাকা ইকরাম-উদ দৌলার বুকের ডান পাঁজরের ১২টি হাড় ভেঙে যায়।

তবে দুঘর্টনার পাঁচদিন পার হলেও ঘাতক ওই বাসচালক ও তার সহযোগীকে (হেলপার) আটক করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় তুরাগ পরিবহনের ওই বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এখন বাসটির  চালক ও হেলপারের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এদিকে এই ঘটনায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগী ইকরামের ছোট বোন নিলিমা ইয়াসমিন বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় খিলক্ষেত থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে লা-মেরিডিয়ান হোটেলের সামনে দুর্ঘটনার শিকার হন সাংবাদিক ইকরাম-উদ দৌলা। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ঘাতক ওই বাসটি (ঢাকা মেট্রো- ব-১১-৪৭৪৫) জব্দ করলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, ভুক্তভোগী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দিয়েছে। আমরা তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করবো।

তিনি বলেন, জব্দ বাসটির (তুরাগ পরিবহন) চালক ও হেলপার ঘটনার পরপরই পালিয়ে যায়। আশা রাখি খুব দ্রুতই তাদের আটক করা সম্ভব হবে।  

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ভুক্তভোগী ইকরামের স্বজনরা জানান, দুর্ঘটনায় ইকরামের পাঁজরের ১২টি হাড় ভেঙে গেছে। এছাড়াও তার শ্বাসযন্ত্র ফুসফুসের আবরণী পর্দা ফেটে গেছে। ভেতরে রক্ত ক্ষরণ এখনও বন্ধ হয়নি। সব মিলিয়ে ইকরাম-উদ দৌলাকে শঙ্কামুক্ত বলছেন না চিকিৎসকরা।

থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ সেপ্টেম্বর বড় ভাই ইকরাম-উদ দৌলা তার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে করে বাসা থেকে নিজ অফিস কার্যালয় বাংলানিউজে যাচ্ছিলেন। খিলক্ষেত এলাকার লা-মেরিডিয়ান হোটেলের সামনে যেতেই পেছন থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা একটি তুরাগ বাস তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে ওই বাসের নিচে চলে যান। ঘটনাস্থলে থাকা পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ও পরে উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (বাংলাদেশ মেডিক্যালে) নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়।

ভুক্তভোগী ইকরামের ছোট বোন নিলিমা ইয়াসমিন বাংলানিউজকে বলেন, আমার ভাই সব সময় খুব ঠাণ্ডা মাথায় রাস্তায় মোটরসাইকেল চালাতেন। পেছন থেকে ওই বাসটি দ্রুত গতিতে এসে ভাইকে চাপা দেয়। আমি ঘাতক চালক ও হেলপারের বিচার দাবি করছি।

** সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বাংলানিউজের ইকরাম

** সাংবাদিক ইকরামের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো

বাংলাদেশ সময়: ০৪০৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০
এনজেএ/এইচএমএস/এসআরএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa