ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৭, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩ সফর ১৪৪২

জাতীয়

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক বরখাস্ত, আরেক তদন্ত কমিটি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৩৪০ ঘণ্টা, আগস্ট ১৫, ২০২০
যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক বরখাস্ত, আরেক তদন্ত কমিটি যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র

যশোর: যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তিন কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক (সহকারী পরিচালক) আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।  

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বন্দি কিশোরদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কেন্দ্রের তিন কিশোর নিহত ও ১৫ জন আহত হওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় শুক্রবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

 

অপরদিকে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মাহমুদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন-সদস্য সচিব সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক ও সদস্য জেলা পুলিশ সুপারের একজন প্রতিনিধি, যিনি এএসপি পদমর্যাদার নিচে নন। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এর আগে সমাজসেবা অধিদপ্তর দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। ওই কমিটির প্রধান করা হয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) সৈয়দ মোহাম্মাদ নুরুল বসিরকে। তার সঙ্গে তদন্ত কাজে সহায়তা করবেন উপপরিচালক (প্রতিষ্ঠান-২) এসএম মাহমুদুল্লাহ।  

আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে মহাপরিচালকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কিশোরদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ওই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনসার সদস্য ও তাদের নির্দেশে কয়েকজন কিশোর অন্তত ১৮ জনকে বেধড়ক মারপিট করে। মারপিট নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের ফেলে রাখা হয়। কয়েকজন অচেতন থাকায় তারা অজ্ঞান হয়েছে মনে করলেও পরে তারা বুঝতে পারেন যে তারা মারা গেছে। এরপর সন্ধ্যায় এক এক করে তিনজনের মরদেহ হাসপাতালে এনে রাখা হয়। নিহতর হলো বগুড়ার শিবগঞ্জের তালিবপুর পূর্বপাড়ার নান্নু প্রামাণিকের ছেলে নাঈম হোসেন (১৭), একই জেলার শেরপুর উপজেলার মহিপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম নুরুর ছেলে রাসেল ওরফে সুজন (১৭) এবং খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়ার রোকা মিয়ার ছেলে পারভেজ হাসান রাব্বি (১৭)। নিহত রাব্বির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১১৮৫৩। আর রাসেল ও নাঈমের রেজিস্ট্রেশন নম্বর যথাক্রমে ৭৫২৪ ও ১১৯০৭। নাঈম হোসেন ধর্ষণ এবং রাব্বি হত্যা মামলার আসামি।

বাংলাদেশ সময়: ০৩২৭ ঘণ্টা, আগস্ট ১৫, ২০২০
ইউজি/এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa