ঢাকা, সোমবার, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯ সফর ১৪৪২

জাতীয়

রাজশাহী রেঞ্জের এসপির বিরুদ্ধে ঢাকায় চাঁদাবাজির মামলা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫০৯ ঘণ্টা, আগস্ট ১২, ২০২০
রাজশাহী রেঞ্জের এসপির বিরুদ্ধে ঢাকায় চাঁদাবাজির মামলা

ঢাকা: রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ কয়েকটি অভিযোগে মামলা হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ দিদার হোসাইনের আদালতে গোলাম মোস্তফা নামে এক ব্যবসায়ী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় দণ্ডবিধির ৩৮৫/৩০৭/৩২৬/৩২৫/৪২০/৪০৬/৩৮৫/৩৮৩/৫০৬ ধারায় চাঁদাবাজি, মারধরসহ বেশক'টি অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিচারক বাদীর জবানবন্দি নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখলের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান আদালতের বেঞ্চ সহকারী সালাহউদ্দিন।  

মামলার আর্জিতে বাদী গোলাম মোস্তফা নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাবেদ পাটোয়ারীর নিকটাত্মীয় হিসেবে উল্লেখ করেন। সেই সুবাদে এসপি বেলায়েত হোসনের সঙ্গে বাদীর সম্পর্ক ভালো ছিল।

অভিযোগে বলা হয়, বাদীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অর্থের প্রতি এসপি বেলায়েতের কুনজর পড়ে। গত ৪ এপ্রিল এসপি বেলায়েত বাদীর বাবাকে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। অন্যথায় তার ছেলের (বাদী) অসুবিধা হবে। ভয়ে গোলাম মোস্তফার বাবা পাঁচ লাখ টাকার একটি চেক আসামিকে দেন। পরে বাদী গোলাম মোস্তফা ব্যাংকে ফোন করে ওই চেকের টাকা দিতে বারণ করেন।  

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৮ আগস্ট এসপি বেলায়েতসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ১৬ জন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বাদী গোলাম মোস্তফার বাসায় প্রবেশ করে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানো হবে এবং নারায়ণগঞ্জের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে জরিমানাসহ জেলে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এ অবস্থায় বাদী কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন এবং বার বার আসামি এসপি বেলায়েতকে বলেন, ‘আপনি আমাদের কাছের লোক, কী বলছেন?’। তখন আসামি বেলায়েত অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেন। তাছাড়া টাকা দিতে না পারায় মারপিট করে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করে অন্যায় ও বেআইনিভাবে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে বাদীকে ২৫ লাখ টাকা দিতে বলেন। নতুবা ক্রসফায়ার অথবা ফেনসিডিলসহ অস্ত্র দিয়ে মামলা দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন।

তখন বাদী সাড়ে তিন লাখ টাকা আসামি বেলায়েতের হাতে তুলে দেন ও ১০ আগস্ট আরও ৫০ হাজার টাকা দেন। আসামির সঙ্গে ১৫ লাখ টাকায় রফা-দফা করে বাদীর বাবা ৫ লাখ টাকার চেক দিয়ে সমন্বয় করেন। আরও ৬ লাখ টাকা সাতদিনের মধ্যে দিতে বলেন। তা নাহলে বাদীর ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন এসপি বেলায়েত।

এরপর বাদীকে ছেড়ে দেওয়ার সময় সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখেন এসপি বেলায়েত। এসব স্ট্যাম্প দিয়ে হযরানির আশঙ্কা করা হয আর্জিতে। এ অবস্থায় ন্যায়বিচারের চেয়ে তিনি মামলাটি করেন। আর্জির সঙ্গে ফোন রেকর্ড ও ভিডিও প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয় বলে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫০৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১২, ২০২০
কেআই/ওএইচ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa