ঢাকা, রবিবার, ৪ আশ্বিন ১৪২৭, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ সফর ১৪৪২

জাতীয়

উপকূলে বেড়িবাঁধ রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করার দাবি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭০৭ ঘণ্টা, আগস্ট ৬, ২০২০
উপকূলে বেড়িবাঁধ রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করার দাবি ‘উপকূলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক অনলাইন সেমিনারে বক্তারা।

ঢাকা: দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে জানমাল রক্ষায় উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু এবং বেড়িবাঁধ রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ ও নাগরিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ‘উপকূলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক অনলাইন সেমিনারে বক্তারা এ দাবি করেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

এসময় বক্তারা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার স্বার্থে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে মনিটরিং জোরদার করার আহ্বান জানান।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। সূচনা বক্তব্য তুলে ধরেন বেসরকারি সংস্থা লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল। এছাড়াও সেমিনারে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য তুলে ধরেন।

সেমিনারে মূল বক্তব্যে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মাথায় রেখে স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে, যার নিচে ১০০ ফুট, উপরে ৩০ ফুট এবং যার উচ্চতা হবে ৩০ ফুট। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণেরর জন্য জরুরি তহবিল গঠন ও বাঁধ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করতে হবে। ওয়াপদা বাঁধের ১০০ মিটারের মধ্যে চিংড়ি বা কাঁকড়ার ঘের তৈরিতে সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা দ্রুত কার্যকর করতে হবে। উপকূলীয় জনগণের জন্য নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থায় টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সর্বোপরি উপকূলের উন্নয়নে পৃথক বোর্ড গঠনের সুপারিশ করা হয়।

বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে বেড়িবাঁধের ওপর। বাঁধের ক্ষতি হলে তাদের সবকিছু ভেসে যায়। বাড়িঘর নষ্ট ও ফসলের ক্ষতি হয়। তাই ওই অঞ্চলের মানুষের কাছে জরুরি খাবার না দিয়ে, বাঁধ শক্ত করে বানিয়ে দেওয়ার দাবিই প্রধান। গত ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর এ দাবি আরও জোরদার হয়েছে। ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচি চলছে। ইতোমধ্যে সরকার জনগণের দাবি বিবেচনায় নিয়ে বাঁধ নির্মাণে একাধিক প্রকল্প প্রণয়ন করেছে।

তারা আরও বলেন, জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। বাঁধ নির্মাণের পর বাঁধের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ ও বাঁধের দু’পাশে বনায়ন করতে হবে। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় সরকার ও জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পারলে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৭০৭ ঘণ্টা, আগস্ট ০৬, ২০২০
আরকেআর/এফএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa